|
এই সংবাদটি পড়েছেন 38 জন

সুনামগঞ্জে ভারি বর্ষণে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল

ডেইলি বিডি নিউজঃ টানা দুই দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সীমান্ত ঘেরা সুরমা নদীসহ সীমান্ত নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় জানানো হয়েছে জেলার কোথাও বন্যাপরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গত কয়েক দিনের ক্রমাগত ভারি বর্ষণের ফলে সুনামগঞ্জ জেলার অধিকাংশ নদ-নদীসমূহের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সভায় জানানো হয় গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৪ সে.মি. পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে সুরমা নদীর পানি ৭:২৪ সে.মি. রেকর্ড করা হয়েছে। যা বিপদসীমার হতে ৪.০ সে.মি. উপরে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫০.০০ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামী ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পাবে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাাবিত হলেও বড় বন্যার আশঙ্কা নেই।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদের সভাপতিত্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো: হারুন অর রশীদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পওর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক ভূইয়া, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: হাবিবুর রহমান খান, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কাশেম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ফরিদুল হক প্রমুখ।

সভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বানের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে অবস্থানের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, এখনো ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি। মৎস্য অধিদফতর জানিয়েছে, হাওরে প্রাকৃতিক মাছ বৃদ্ধির জন্য পানির প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাওরে পর্যাপ্ত পানি হয়নি, যা মাছের বৃদ্ধির জন্য অন্তরায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু বকর সিদ্দিক ভূইয়া বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিতে পানি বাড়ছে। তবে এখনো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। বড় বন্যার আশঙ্কা কম জানিয়ে তিনি বলেন, পানি কিছু বাড়তে পারে।