|
এই সংবাদটি পড়েছেন 23 জন

ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের আন্দোলন, স্কাইপে কথা বলবেন তারেক রহমান

ডেইলি বিডি নিউজঃ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কাউন্সিল উপলক্ষে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম এবং বিক্ষুব্ধদের আন্দোলন কর্মসূচি আজ শনিবার পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে। বয়সসীমা তুলে দিয়ে ধারাবাহিক কমিটি প্রদান ও বহিস্কৃত ছাত্রদল নেতাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এর দাবিতে আন্দোলনকারীদের সাথে গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপির বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে।

এদিকে শনিবার দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠকে ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে ঘিরে সৃষ্ট সংকট নিরসনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল ৫টার দিকে এ বৈঠক শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং এর সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

জানা গেছে, আজকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে সংযুক্ত হবেন। তবে বৈঠকে চূড়ান্ত সমাধান না হলে রোববার থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে টানা কর্মসূচিতে যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতারা।

ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক (বহিস্কৃত) গোলাম আজম সৈকত জানান, আমরা আন্দোলনরত ছাত্রনেতারা শনিবার বিকেল ৫ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈঠকে বসবো। আমরা সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কাছে অভিবাবক সুলভ আচরন ও আলোচনার মাধ্যম্য সুষ্ঠ সমাধান চাই। আমরা স্থায়ী কমিটির আজকের (শনিবার) বৈঠকের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি। আমাদের পরবর্তী কর্মসূচী কি হবে তা নির্ভর করছে আজকে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের উপর।

উল্লেখ্য, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার প্রার্থীদের মাঝে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নয়াপল্টনে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দিনব্যাপী অবস্থানে ওইদিন আর কার্যক্রম শুরু হয়নি। পরে সংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আন্দোলনকারীদের সাথে বৈঠক করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে স্থায়ী কমিটির চার নেতা।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাদের কাছে তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি জানতে চান বিএনপির নীতি-নির্ধারকরা। আন্দোলনকারীরা কাউন্সিলের তফসিল বাতিল এবং বয়সসীমা তুলে দিয়ে নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসের স্বল্পকালীন এবং পরবর্তীতে এক বছরের জন্য ছাত্রদলের ধারাবাহিক কমিটি গঠনের সঙ্গে দলের সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়ার দাবি তোলেন।

তবে আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ এক নেতা বলেন, শেষ পর্যন্ত যদি তাদের দিয়ে সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন করা সম্ভব না হয় তাহলে ২০০০ সালের এসএসসি নয়, একেবারে নিয়মিত (অনার্স ও মাস্টার্স) ছাত্রদের দিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। কারণ, ২০০০ সালে যারা এসএসসি পাস করেছে, তাদের কেউ এখন আর নিয়মিত ছাত্র নয়। তাদের বয়স এখন ৩৫।

সিনিয়র নেতারা তখন ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধদের জানান, তাদের দাবিগুলো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে উপস্থাপন করবেন। এর জন্য তাদের দুদিন সময় দিতে হবে। জবাবে ছাত্রদল নেতারা জানান, তারা সময় দিতে রাজি আছেন। তবে এ সময়ের মধ্যে সংগঠনের কাউন্সিলের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।