|
এই সংবাদটি পড়েছেন 115 জন

কোন ওসি হয়রানি করলে শুধু আমাকে জানাবেন : সিলেটের নবাগত এসপি

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেছেন, জেলার সবক’টি থানা হবে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থল। সবক’টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্যতয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এখন থেকে কোন মানুষ যদি থানায় সাধারণ ডায়রি করতে যান, পুলিশ ভ্যারিফিকেশন সার্টিফিকেট চান তবে হয়রানিতে পড়তে হবে না। যদি কোন কর্মকর্তা হয়রানি করেন, সরাসরি অভিযোগ করবেন। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। আমি আবারও বলছি, থানাগুলো হবে অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্থদের নিরাপদ ঠিকানা।

সিলেট নগরীতে অবস্থিত তাঁর ব্যক্তিগত কার্যালয়ের কনফারেন্সরুমে সিলেটের গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।
নবাগত এই পুলিশ সুপার আরোও বলেন, দেশের অর্থনীতির সাথে প্রবাসীরা সরাসরি জড়িত। আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি সিলেট জেলাতে এখন থেকে তাদের স্বার্থ রক্ষায় পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে। প্রবাসীরা সরাসরি আমার কাছে টেলিফোনে, মোবাইলফোনে বা যেকোন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। আমরা তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবো।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন জানান, পুলিশ জনগণের বন্ধু। তারা চায় মানুষ নির্বিঘেœ বসবাস করুক। তারপরও সমাজে অপরাধ থেমে নেই। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, ভোলাগঞ্জসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে গাড়ি থামিয়ে ডাকাতি কঠোরভাবে দমন করবে পুলিশ। বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর, বিশ্বনাথ, ফেঞ্চুগঞ্জসহ বিভিন্ন প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাতে ডাকাতি বন্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চিহ্নিত ডাকাতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। গ্রামে-গঞ্জে মানুষের সেবাপ্রাপ্তিকে সহজ করে দিতে জেলা পুলিশ শিগগিরই বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু করবে। পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরোও গতিশীল করা হবে। প্রতিটি থানাতে নতুন কমিটি করে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, সিলেটের পাথর সারাদেশে যায়। এখানকার জাফলং, কোম্পানীগঞ্জের শারফিন টিলা, ভোলাগঞ্জসহ বিভিন্ন কোয়ারিতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন হচ্ছে। এটি দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা। এখনই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। কেননা কোয়ারিগুলোর সাথে জেলা প্রশাসনসহ পরিবেশ অধিদপ্তর জড়িত। এটি সমন্বয় করে করতে হবে। তবে পুলিশ নিজেদের পক্ষ থেকে শতভাগ চেষ্টা করবে পাথর উত্তোলন যাতে একটি নিয়মতান্ত্রিক পর্যায়ে থাকে।
মতবিনিময়কালে সিলেটে কর্মরত সাংবাদিকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা উল্লেখ করে সেগুলো সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করেন। এসময় তিনি তাৎক্ষণিক এসব বিষয় সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি তিনি যেকোন অভিযোগ তাকে ফোনে কিংবা সরাসরি জানানোর জন্য অনুরোধ করেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. মাহবুবুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) মো. লুৎফুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (জেলা বিশেষ শাখা) মো. আনিসুর রহমান খান।