|
এই সংবাদটি পড়েছেন 35 জন

শহরের বুকে ২২৫ ফুট বাঁশের সাঁকো, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্ব মল্লিকপুরে ২২৫ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো। শহরের বুকে এমন এক সাঁকো অনেককেই কৌতুহলী করে। শুষ্ক মৌসুমে যোগাযোগের পথ থাকলেও বর্ষা মৌসুমে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয় এলাকাটি। চারদিকে পানিতে টইটুম্বুর থাকায় নিজেদের অর্থায়নেই এলাকার বাসিন্দারা তৈরি করেছেন সাঁকোটি। ঝুঁকি নিয়ে পাড়ার মানুষকে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে মাঝেমধ্যে ঘটে দুর্ঘটনা। শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ এবং স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও ভরসা এই বাঁশের সাঁকো। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ শিক্ষার্থী, বর্ষাকালে নড়বড়ে এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাতায়াত করে থাকে । প্রতিদিন প্রয়োজনের তাগিদে সাঁকো পেরোতে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা হয় তাদের। অথচ ২২৫ ফুট রাস্তা হলে অবসান হয় তাদের ভোগান্তি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ২২৫ ফুটের বেশি দীর্ঘ সাঁকোটির উচ্চতা প্রায় ৩ ফুট। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন ভুক্তভোগীরা। সাঁকোর একদিক থেকে একজন আসলে অপর প্রান্ত থেকে অন্য কেউ পার হতে চাইলে তাকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।
ভুক্তভোগী পূর্ব মল্লিকপুরের বাসিন্দা তরিক আলী বলেন, ‘৬ মাস শুষ্ক আর ৬মাস পানি। এই নিয়েই আমাদের জীবনযাপন। শুষ্ক মৌসুম শেষ হয় আর আমাদেও দুর্ভোগ শুরু হয়। যাতায়াত করতে আমাদের খুব অসুবিধা হয়। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে আসা-যাওয়া নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকতে হয়।’
আরেক ভুক্তভোগী তাজিনা আক্তার বলেন, ‘২২৫ ফুট রাস্তা না হওয়ার কারণে
আমাদের এই দুর্ভোগের চিত্র কাউন্সিলর দেখেছেন। নির্বাচনের সময় রাস্তাটি
করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।’
মল্লিকপুরের বাগানবাড়ির বাসিন্দা সুলেমান আহমদ বলেন, ‘অল্প একটু রাস্তার কারণে এই পাড়ার মানুষদের ভোগান্তির শেষ নেই। বিষয়টি আমরা মেয়র মহোদয়কে জানিয়েছি। উনি বলেছেন আগামী শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় মাটি ফেলে উঁচু করে পাকা করে দিবেন।’
মল্লিকপুরের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, ‘পূর্ব মল্লিকপুরে অবস্থিত এই পাড়ার মানুষকে গত ২০ বছর যাবৎ বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দি থাকতে হয়। গত শুষ্ক মৌসুমে এই রাস্তার অনেকটা অংশ পাকাকরণ করা হলেও ২২৫ ফুট রাস্তা করা হয়নি। ফলে তাদের ভোগান্তি রয়েই গেছে।
৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আহমদ নূর বলেন, ‘অপরিকল্পিত ভাবে তারা হাওরের মাঝে বাড়ি করেছেন। মাটি ফেলে রাস্তা করার জন্য প্রকল্প অনুমোদন হলেও রাস্তা করার মতো উনাদের নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। তাদের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নিয়ে যাওয়ার মতো পৌরসভার জায়গাও নেই। উনারা জায়গার ব্যবস্থা করতে পারলে আমরা রাস্তা করে দেবো।