|
এই সংবাদটি পড়েছেন 470 জন

নগরীতে অপরাধী প্রবেশ করলে এলার্ম পাবে পুলিশ

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট নগরীতে আইপি ক্যামেরা ভিত্তিক সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নজরদারী কার্য্যক্রম এইমাসে চালু হবে। প্রকল্পের আওতায় দেশে প্রথমবারের মতো চেহারা ও যানবাহনের নাম্বার প্লেট চিহ্নিতকরণ আইপি ক্যামেরা বসেছে সিলেট নগরে। এর উদ্বোধন করবেন প্রথম সিলেটে ডিজিটাল সিটি প্রকল্পের স্বপ্নদ্রষ্টা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন। সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সিলেট নগরীকে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সুবিধাসম্পন্ন পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আওতায় এ কার্যক্রম চালু হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)।

বিসিসি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১১০টি ক্যামেরা দিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এই কার্য্যক্রম শুরু হবে। ক্যামেরা গুলো দুই পর্বে কাজ করবেÑএর মধ্যে কিছু থাকবে এফ আর মুখাবয় সনাক্তকরণ এবং কিছু থাকবে এএইচপিআর অটো নাম্বার প্লেইট সনাক্তকরণ। এএইচপিআর ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমে নগরীতে প্রবেশকারী ও নগরী থেকে বের হওয়া প্রতিটি গাড়ীর নাম্বার ডাটা বেইস এন্ট্রি হবে। এসএমপি পুলিশের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ৪৪টি স্থানে ক্যামেরাগুলো বসানো হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সিলেট পুলিশের মনিটরিং সিস্টেম উন্নত হবে এবং শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে বাংলাদেশের সিলেটে প্রথম ডিজিটাল সিটি প্রকল্পের কার্য্যক্রম শুরু হয়েছে। ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ১১টি উপাদান থাকবে। এর মধ্যে ৩টি হার্ডওয়ার ও ৮টি সফর্টওয়ার ভিত্তিক উপাদান। হার্ডওয়ার ভিত্তিক উপাদান হচ্ছে প্রথম আইপি ক্যামেরা, দ্বিতীয় ফ্রি ওয়াইফাই জোন, তৃতীয়টি হচ্ছে কম্পিউটার লিটারেচী সেন্টার। সফটওয়ার ভিত্তিক উপাদান হচ্ছে হেলথ ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, এডুকেশনাল ইনস্টিটিউশন অটোমেশন, সিটিজেন সার্ভিস কোয়ারী সিস্টেম (যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বিল দেয়া যাবে), ইউটিলিটি সার্ভিস অটোমেশন বিল এবং পরিশোধ সফটওয়ার, ট্যুরিজম এবং হোটেল পোর্টাল, সিসিক সিটিজেন সার্ভিস ডেলিভারি উইথ অনলাইন পেমেন্ট ইন্ট্রিগ্রেশন সফটওয়ার, ডিজিটাল টেলিফোন ডাইরেক্টরি পোর্টাল, সিলেট ওভারসিজ ইমিগ্রেন্ট ফেসিলিটেশন অনলাইন সফটওয়ার ।

আইপি ক্যামেরার কন্ট্রোলরুম সিলেট কতোয়ালি মডেল থানার দ্বিতীয় তলায় বসানো হয়েছে। সেখানে ৫৫ ইঞ্চি ৬টি মনিটর বসানো হয়েছে। এসএমপির একজন কর্মকর্তা তা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষন করবেন। বাংলাদেশের চিহ্নিত অপরাধীসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কতৃক এই অঞ্চলের চিহ্নিত অপরাধীদের ছবি সিস্টেমের ডাটা বেইসে এন্ট্রি করে রাখা হবে। ফলে এসব অপরাধী ক্যামেরার আওতায় আসলেই কন্ট্রোলরুমে এলার্ম বেজে উঠবে। যার ফলে পুলিশ সাথে সাথে জেনে যাবে নগরীতে কোন অপরাধী প্রবেশ করেছে এবং তার অবস্থান কোথায়। প্রাথমিকভাবে এসএমপি’র ১০জন কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল থেকে এই ব্যাপারে প্রশিক্ষিত করা হবে। পর্য্যায়ক্রমে অন্যান্য কর্মকর্তাকেও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বিসিসি সূত্রে জানা যায় যে ৪৪টি স্থানে আইপি ক্যামেরা বসানো হবে সেসব স্থান হচ্ছে চৌহাট্টা পয়েন্ট, জিন্দাবাজার পয়েন্ট, সুরমা মার্কেট, আম্বরখানা পয়েন্ট, মেন্দিবাগ, মদিনা মার্কেট পয়েন্ট, হুমায়ূন রশিদ চত্বর, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, রিকাবীবাজার পয়েন্ট, লামাবাজার পয়েন্ট, নাইওরপুল পয়েন্ট, টিলাগড় পয়েন্ট, জিতুমিয়া পয়েন্ট, কোর্ট পয়েন্ট, দরগা মাজার, কুমারপাড়া পয়েন্ট, জেলরোড পয়েন্ট, বারুতখানা পয়েন্ট, বাগবাড়ি পয়েন্ট, ইসকন, শাবি গেইট, সুবিদবাজার পয়েন্ট, জল্লারপাড় পয়েন্ট, মির্জাজাঙ্গাল পয়েন্ট, শিবগঞ্জ পয়েন্ট, ইব্লক উপশহর, এবিসি পয়েন্ট উপশহর, মিরের ময়দান, ব্লুবার্ড, বর্ণমালা পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহ পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহ আল্লাহ চত্বর, পূর্ব ঈদগাহ, লাক্কাতুরা মডেল স্কুল, রেলস্টেশন, এয়ারপোর্ট পয়েন্ট, কিনব্রিজ পয়েন্ট, দরগা মাজারের ভেতর, বিজিবি রেস্টহাউজ গেইট, কাজিরবাজার ব্রিজ, শাহজালাল ব্রিজ, কোম্পানীগঞ্জ রোড, মেজরটিলা ও স্টেডিয়াম।
ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মধুসূদন চন্দ্র জানান, নভেম্বর ২০১৭ থেকে জুন ২০১৯ প্রজেক্টকাল ধরা হয়। কিন্ত প্রকল্প পরিচালক ও উপ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে ৬মাস বিলম্ব হয়। বর্তমানে প্রকল্প মেয়াদকাল জুন ২০২০ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আমোরিকা থেকে দেশে আসার পর ডিজিটাল সিলেট সিটি গঠনের জন্য চিন্তাভাবনা করেন এবং এজন্য তিনি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে একটি সেমিনার করেন। এরই পরিপেক্ষিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগকে ১টি ডিও লেটার প্রদান করেন । এর ভিত্তিতে এই প্রকল্পের ডেভোলাপমেন্ট প্রজেক্ট প্রফোজল- ডিপিপি ( উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করা হয়।