|
এই সংবাদটি পড়েছেন 18 জন

যৌন উত্তেজক সিরাপ: খেলেই মৃত্যু, নকল বিএসটিআই’ র সিল

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিলেটের প্রতিটি উপজেলার এমন কোনও গ্রাম বা মহল্লা নেই যেখানেই হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় না যৌন উত্তেজক সিরাপ ।

ছোট বাজার ও পাড়া মহল্লার দোকানগুলিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে ,শরীরের জন্য মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী এই সব সিরাপ বা এনার্জি জাতীয় পানীয়।
এই সব বোতলের গায়ে নকল বিএসটিআই’র সিল থাকলেও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই সবের কিছুই তারা জানে না , অথচ যেখানে সেখানেই পাওয়া যাচ্ছে বিএসটিআইয়ের সিল সংবলিত এসব মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী সিরাপ ।

নানা লোভনীয় নামে বিভিন্ন বে নামী কোম্পানির এসব সিরাপের প্রতি আসক্তি বাড়ছে বিভিন্ন বয়সী মানুষের , অনেকে ইয়াবার বিকল্প হিসেবে শরীরের উত্তেজনা বাড়াতেও এসব সিরাপ পান করছে ।
প্রশাসনের চোখের সামনেই ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে শুরু করে একবারে গ্রাম এলাকার অলিগলিতে ওপেন বিক্রি হচ্ছে এসব সিরাপ ।

সিরাপগুলি হচ্ছে বি-জিনসিন , জিনসিন পাওয়ার , জিন্টার , হর্স ফিলিংস , ফাস্টার , লিডার, পাওয়ার ফিলিংস ,লায়ন , যাদু ইত্যাদি ।

এই সব সিরাপে মানব শরীরের জন্য খুবই খারাপ উপাদান রয়েছে বলে জানা যায় ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিরাপে বিদ্যমান ১৮৮ দশমিক ২৫ মিলিগ্রাম কেফেইন ও ১২৬ দশমিক ৮০ মিলিগ্রাম সিলডেনাফিল যৌন উত্তেজক ভায়াগ্রার প্রধান উপাদান ।

এটি পান করলে দ্রুত যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কয়েক দিন পর্যন্ত শরীরে এর প্রভাব বিস্তার করে থাকে এবং এটি সব সময়ে পান করলে দ্রুত মৃত্যু অনিবার্য ।

এটি পান করলে অনন্যা খাদ্য খাওয়ার রুচি থাকে না, মাথা ও পেট ব্যাথার কারন হতে পারে এ সিরাপ
হৃদরোগীর দ্রুত হৃদযেন্ত্রর ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুও হয়ে যেতে পারে ।

অনুসন্ধানে জানা যায় , এসব সিরাপ ৪০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় ফলে যে কেউ কিনতে পারছে সহজেই ।

এই সব সিরাপ পানের কুপ্রভাবে সমাজে যৌনাচার , ধর্ষণ, ইভটিজিং সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিন্তু বিএসটিআই ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও প্রকার নজরদারি করা হচ্ছে না।

প্রশাসনের নীরবতার সুযোগে যৌন উত্তেজক এসব পানীয় পানের ফলে যৌন অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে।
বিশিষ্টজনদের মতে, যারা অনুমোদন বিহীন এ যৌন উত্তেজক পানীয় তৈরি ও বিক্রি করে সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে তারা দেশ ও জাতির শত্রু।

তাই তাদের কে দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রধান করা উচিত ।