|
এই সংবাদটি পড়েছেন 202 জন

সিলেটের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল মিনিপতিতালয় বিপন্ন পথে উঠতি বয়সের তরুণরা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ মঙ্গলবার (৯জুলাই) দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় নগরীর সুরমা মার্কেটস্থ নিউ সুরমা আবাসি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় ৮ জন নারী ও ৩ জন পুরুষসহ মোট ১১ জনকে আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

মাসে দু’একবার প্রসাশনের নিয়ম,মাফিক হানাদেন বিভিন্ন আবাসি হোটেলে ধরা পড়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় নারী পুরু। আবারও যে লাউ সেই কদু।

সিলেট নগরজুড়ে গড়ে উঠেছে সেস্কুয়াল মিনিপতিতালয় সিলেটের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল। বিপন্ন পথে উঠতি বয়সের তরুণরা।
আবাসিক হোটেলের সাইনবোর্ডের অন্তরালে সেস্কুয়াল মিনি পতিতালয়। আবাসিক হোটেল নামে গড়ে উঠা এসব মিনি পতিতালয়ের বিভিন্ন কক্ষে চলছে জমজমাট দেহ ব্যবসা।

হোটেল গুলোতে স্কুল-কলেজ পড়ু–য়া ছাত্র ছাত্রী ও প্রেমিক প্রেমিকাদের আনা গোনা বেশি চোখে পড়ে। এতে বিপদপ্রস্থ হচ্ছে স্কুল,কলেজ,বিশ্ব বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বিপন্ন হচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন।

প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত আবাসিক হোটেল গুলোতে রেষ্টের রোম ভাড়া নিয়ে আনন্দ ফুর্তিতে মেতে ওঠে তারা । সবমিলিয়ে নগরীর হোটেলে এখন সরগম সুন্দরী বাণিজ্য চলছে।

বিভিন্ন সময়ে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী একের পর এক অভিযান পরিচালনা করলেও লাগাম টানতে পারছে না। অসামাজিক কার্যকলাপের কঠোর কোন আইন না থাকায় দালালরা সহজে বের হয়ে আবার সেই ব্যবসায় নেমে পড়ে।

নিম্ন শ্রেণীর হোটেল থেকে শুরু করে উচ্চ দামের হোটেলেও নানা দরদামে এসব সুন্দরীদের সঙ্গে মিলছে রাত কাটানোর সুযোগ অন্যদিকে কোন হোটেলে সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে ব্যবসা করছে হোটেল মালিকরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সেস্কুয়াল মিনিপতিতালয় সিলেটের অধিকাংশ আবাসিক হোটেল মধ্যে রয়েছে বন্দরবাজারের হোটেল সিটির হার্ট আবাসিক,হোটেল মগানগর, হোটেল মজলিস, হোটেল তায়েফ, হোটেল নিরালা,হোটেল ইসলাম, সিটির হার্ট আবাসিক, মর্ডান আবাসিক।নগরীর জিন্দাবাজার পয়েন্টের রাজমনী আবাসিক,তালতলা হোটেল বিলাস, হোটেল সাদী, জননী আবাসিক, সুফিয়া হোটেল,সুরমা মার্কেটের হোটেল টরেন্টো,

লালবাজারের হোটেল আলী, হোটেল আমির , হোটেল আল মিনার, হোটেল এলাহী, হোটেল আল জালাল, হোটেল বনগাঁও,মিনা বডিং, কালিঘাট এলাকায় সুপারসহ কয়েকটি,আম্বরখার হোটেল প্রভাসী, হোটেল নূরানী, হোটেল কায়কোবাদ,হোটেল শেরাটন,মেডিকেল রোডের আল-সবুজ,হোটেল সফিক,পংকি রেস্ট হাউজ,চৌধুরী বডিং, মা বডিং।

দক্ষিণ সুরমায় লন্ডন হোটেল,ছিতারা বোডিং,ছিতারা বোডিং,আকাশ হোটেল,হোটেল আল-তকদীর,হোটেল বিরতি, হোটেল কাশমীরসহ অর্ধশত আবাসিক হোটেলে প্রেমিক যুগলদের এন্টি ছাড়া রুম ভাড়া দিচ্ছে হারাচ্ছে সরকারের রাজস্ব। আর এ সকল হোটেলে রুম ভাড়ার কারণে দিনে দিনে নষ্ট তরুণ তরুণীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট নগরীর বন্দরবাজার, দরগা, তালতলা কদমতলী, সোবহানীঘাট ও রেলস্টেশন এলাকার অর্ধশতাধিক হোটেলে এখন সুন্দরী বাণিজ্যে জমে উঠেছে।

আবার এর সঙ্গে জমে উঠেছে মাদকের আসরও। সেবন করার হয় গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবা। সম্প্রতি একটি রিপোর্টে গোয়েন্দা রিপোর্টেও এ তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আরও জানা গেছে, উচ্চ বিত্তের ছেলেরা নগরীর শাহজালাল উপশহর আবাসিক এলাকাগুলোর নির্জন বাসাবাড়িগুলোতেও এ অপকর্ম চালায়।

এ এলাকার অনেক প্রবাসীর বাড়ি খালি পড়ে থাকায় এ অপকর্ম নিরাপদেই চলছে-এমন তথ্য জানা গেছে। বেশকিছু বাড়িও এ চক্রের অনুসন্ধানে মাঠে রয়েছে গোয়েন্দারা। নগরীর বিভিন্ন অভিজাত ও খোলা রেষ্টুরেন্ট এখন যৌন মার্কেট।

স্কুল কলেজ ও মেডিকরে শিক্ষার্থীরা দিতব্যি এসব রেষ্টুরেন্টে আড্ডার পাশপাশি চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় খাবার দাবার ছেড়ে দিয়ে রেষ্টুরেন্টকেই ভরসা হিসেবে বেছে নিয়েছে। ক্লাস ফাকি দিয়ে রেষ্টুরেন্টগুলোতে জমজমাট আড্ডা মেরে চুক্তিমোতাবেক চলে যায় নির্জনে, হোটেলে- মোটেলে ও পার্কের জঙ্গলে।

এভাবেই বহিরাগত ছাত্রীরা সিলেটের সামাজিক ঐতিহ্য বিনষ্টের পাশপাশি পুণ্যভূমি সিলেটকে পাপরাজ্যে পরিণত করে চলেছে বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।

সচেতন মহলের দাবি আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে স্থায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।