Thu. Dec 12th, 2019

১০ হাজার পরিবারের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিলেট শহরতলির ‘জাহাঙ্গীরনগর’ আবাসিক এলাকার লন্ডনী টিলার ওপর ও টিলার পাদদেশে বসবাস করছে শতাধিক পরিবার। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও কম দামে টিলায় জায়গা কিনে বসবাস করে আসছে তারা। গত সপ্তাহে টিলাধস আতঙ্ক দেখা দেয় সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে। তবুও তারা টিলা ছাড়ছে না। শুধু জাহাঙ্গীরনগরের লন্ডনী টিলা নয়, এর পার্শ্ববর্তী নগরীর আখালিয়া এলাকার ভুতু টিলায় প্রায় ৭০টি পরিবারের মধ্যে ৪০টি পরিবারই বসবাস করছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে। একই এলাকার তারাপুর বাগান টিলা, মজুমদার টিলা ছাড়াও নগরীর বালুচর এলাকার বিভিন্ন টিলার পাদদেশে ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার। তাদের মতো নগরীর আশপাশ ও কয়েকটি উপজেলা মিলে ১০ হাজারের মতো পরিবার টিলা ও টিলার পাদদেশে রয়েছে। বৃষ্টি মৌসুমে ওইসব বসবাসকারীর মধ্যে টিলাধসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু কেউ স্বেচ্ছায় সরে যায় না। গত কয়েক দিন ধরে অব্যাহত বর্ষণের ফলে টিলাধসের আশঙ্কা থেকেই নড়েচড়ে বসেছে সিলেটের প্রশাসন। সোমবার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনে অভিযান চালানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজের নেতৃত্বে অভিযানকালে খাদিমপাড়ার বহর ও টুকের বাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় টিলার পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সোমবার আখালিয়ার ভুতু টিলা পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, টিলার একেবারে চূড়ায় বসবাস করছেন বশির মিয়া নামে এক ব্যক্তি। একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে কামাল, আজাদ, মকসুদসহ প্রায় ৪০টি পরিবার। তারা ৮-১০ বছর ধরে টিলার ওপর বসবাস করছে বলে জানিয়েছে। একইভাবে বালুচর এলাকার ছোট ছোট প্রায় অর্ধশত টিলায় হাজারখানেক পরিবারকে বাস করতে দেখা গেছে। দলদলি টিলা, আলোরতল টিলা ও এমসি টিলার বাসিন্দা জয়নাল, তাসলিমাসহ কয়েকজন জানান, তারা মালিকের অনুমতি নিয়েই বাস করছেন। যাওয়ার জায়গা নেই, তাই ঝুঁকিতেই বাস করছেন। শহরতলির বিমানবন্দর সড়ক, খাদিমপাড়া, খাদিমনগর, ইসলামপুর মেজরটিলা, মংলিরপাড়, দলদলি চা বাগান, বহর ছাড়াও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন টিলার পাশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করে আসছে কয়েক হাজার লোক। সেভ দ্য হেরিটেজ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হাই আল হাদী বলেন, ‘আমরা জরিপ করে দেখেছি, সিলেটের টিলা ও পাহাড়ের পাদদেশে প্রায় ১০ হাজার লোক ঝুঁকিতে বসবাস করছে। প্রতি বছর বৃষ্টির মৌসুম এলে অনেক প্রাণহানিও ঘটে।’ তিনি জানান, গত ১০ বছরে কম হলেও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় টিলাধসে ২৫-৩০ জন মারা গেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিবেশবাদী সংগঠনের হিসাবমতে, সিলেট নগরী, এর আশপাশসহ কয়েক উপজেলায় ৪১২টি পাহাড় ও টিলা রয়েছে। এর মধ্যে টিলা কেটে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে ৬১টি। ৩৫১টির মধ্যে অর্ধেকের বেশি টিলা আছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে। এগুলোর মধ্যে ৫০-৬০টি টিলা এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে মানুষ। এসব পাহাড়-টিলার পাদদেশে সাপ্টাঘর, আধাপাকা বাড়ি, কাঁচা বাড়ি, এমনকি কোথাও দালান তৈরি করে লোকজন বসবাস করছে। সোমবার অভিযান প্রসঙ্গে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথম দিন দুটি এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম সমকালকে জানান, ‘টিলার নিচে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।