|
এই সংবাদটি পড়েছেন 48 জন

পানির দামে বিক্রি হচ্ছে না সিলেটের ফুট ওভারব্রিজ

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে নির্মিত প্রথম ফুটওভার ব্রিজটি পানির দামে বিক্রি করার পায়তারা চলছিল। আহবান করা হয়েছিল দরপত্রও। কিন্তু ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় নির্মিত এই ওভারব্রিজের দাম উঠে মাত্র ২২ লাখ টাকা। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে সিলেটে সমালোচনা শুরু হয়। এর প্রেক্ষিতে এই দামে ব্রিজটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সিটি কর্পোরেশন।

বৃহস্পতিবার ওভারব্রিজটি বিক্রি করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পুন:নিলামের দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই পর্যন্ত চলবে দরপত্র বিক্রি এবং ২৫ জুলাই দরপত্র খোলা হবে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার নির্বাচনী ইশতেহারে কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় একটি দৃষ্টিনন্দন ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওই সময় নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারলেও দ্বিতীয়বার সিলেট-১ আসনের সাংসদ নির্বাচিত হয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। ২০১৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কোর্ট পয়েন্টে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিনব্রিজের আদলে নির্মিত ওভারব্রিজটির উদ্বোধন করেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

নগরীর ব্যস্ততম এলাকা কোর্ট পয়েন্টে ফুট ওভারব্রিজটি নির্মিত হলেও তা কোন কাজেই আসছিল না। লোকজন ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে কোন আগ্রহ দেখায়নি। তাই সিটি করপোরেশন প্রথমে ফুট ওভারব্রিজটি নগরীর মদিনা মার্কেটে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করে। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানান্তর না করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়। বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বানও করা হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান এই দরপত্রে অংশ নেয়। তাদের দেয়া মূল্যেও ছিল আকাশ-পাতাল ব্যবধান। নগরীর কাজিরবাজারের তাহমিদ এন্টারপ্রাইজ ২ লাখ টাকা, চাঁদনীঘাটের মো. সালেহ আহমদ ৩ লাখ টাকা ও স্টেশন রোডের সিরাজুল ইসলাম ওভারব্রিজটির মূল্য ২২ লাখ টাকা দিতে আগ্রহী হন। গত ৮ জুলাই দরপত্র খোলার পর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে সিরাজুল ইসলামকে ওভারব্রিজটি ভেঙে নেয়ার অনুমতি দেয়ার তোড়জোড়ও শুরু হয় নগরভবনে।

সূত্র জানায়, ‘সমঝোতার’ মাধ্যমেই ওভারব্রিজটির দরপত্র জমা দেয়া হয়েছিল। পানির দামে তারা স্টিল স্ট্রাকচারের ওভারব্রিজটি কিনে নিতে চেয়েছিল। এতে সিটি নগরভবনের একটি মহলও বেশ তৎপর ছিল। কিন্তু ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ওভারব্রিজ মাত্র ২২ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার আগের দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, ‘মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান ২২ লাখ টাকা মূল্য দিতে চেয়েছে। কিন্তু কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ায় আমরা দরপত্র বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বান করেছি।’

সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও জানিয়েছেন একই কথা। কোন লুকোচুরি নয়, প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় পুন:দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।