|
এই সংবাদটি পড়েছেন 49 জন

ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে সিলেটের আবুসিনা ছাত্রাবাস

ডেইলি বিডি নিউজঃ  সিলেটের আবুসিনা ছাত্রাবাস আন্দোলনেও রক্ষা করা যায়নি। ভেঙে ফেলা হচ্ছে ছাত্রাবাসটি। মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যেই ভেঙে ফেলা হচ্ছে পুরনো এ ভবনটি। এ নিয়ে সম্প্রতি সিলেটে পক্ষে-বিপক্ষে চলে নানা কর্মসূচি। কেউ চেয়েছেন হাসপাতাল নির্মাণ হোক; আর কেউ চেয়েছেন হাসপাতাল অন্য কোন স্থানে নির্মাণ করে ১৬৯ বছরের পুরনো ছাত্রাবাসটি রক্ষা করা হোক। এ নিয়ে জল কম ঘোলা হয়নি। শেষমেশ ভবনটি ভেঙে ফেলাই হচ্ছে। গত কয়েকদিন ধরে আবুসিনা ছাত্রাবাসটি ভাঙার কাজ করছেন শ্রমিকরা। আর এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন ‘সিলেটের ঐতিহ্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজ’। ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঐতিহ্য ধংসের কাজ’ বন্ধের আহবান জানিয়ে এ মতবিনিময় আয়োজন করা হয়। ভবনটি অনেকটা গুঁড়িয়ে দেওয়ার তারা এ আহবান জানান।

মতবিনিময়কালে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঐতিহ্য ধংসের কাজ অবিলম্বে বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন। তাদের আপত্তি-বিক্ষোভ উপেক্ষা করে সিলেদের আবুসিনা ছাত্রাবাস ভাঙার কাজ শুরুর প্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলন করে ঐক্যবদ্ধ নাগরিক সমাজের নেতারা।

আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৬৯ বছরের প্রাচীন স্থাপনা আবুসিনা ছাত্রাবাস সিলেটের ঐতিহ্যের একটি অংশ। এটি সারাদেশের জন্যই একটি সম্পদ। দুটি বিশ্বযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিধারণকারী এই স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরসীম। এছাড়া স্থাপত্য রীতির কারণে এটি কেবল দৃষ্টিনন্দনই নয় এতদঅঞ্চলে বিরলও বটে।

তারা বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি দায় থেকে যৌক্তিক কারণেই আমরা এই স্থাপনা রক্ষার দাবি জানিয়েছিলাম। গত পাঁচ মাস ধরে এই দাবিতে মিছিল-মিটিং আলোচনা সভা করেছি। এখানকার সাংসদ, সাবেক সাংসদদের সাথে দেখাও করেছি। আমরা এই যানজটপূর্ণস্থানে হাসপাতাল নির্মাণ না করে অন্য কোনো সুবিধাজনকস্থানে হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানিয়েছিলাম। বিকল্প জায়গাও দেখিয়ে দিয়েছি। কিন্তু জনমত, যুক্তি, ঐতিহ্যের প্রতি সাংবিধানিক দায়- সবকিছুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। যা আমাদেরকে প্রবলভাবে আহত করেছে।’

তাদের অভিযোগ, কেবল বাণিজ্যিক লাভালাভের কথা চিন্তা করেই দ্রæততার সাথে আবু সিনা ছাত্রাবাস ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, এই ভবন ভাঙায় কোটি টাকার ভাগ-বাটোয়ারা হচ্ছে। অনেকের পকেটেই যাচ্ছে সেই টাকার অংশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে আবুসিনা ছাত্রাবাসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অন্তত অর্ধশত শ্রমিক হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভবনটি ভাঙার কাজ করছেন। ভবনটি ভেঙে নেয়ার দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও ছাত্রাবাসারে একটি কক্ষে নিজেদের অস্থায়ী অফিসে বসে ভাঙার কাজ দেখভাল করছেন। তবে কত টাকা নিলামে ভাঙার দায়িত্ব পেয়েছেন এ বিষয়ে তারা কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি। বারবারই বলেছেন বিষয়টি সরকারের দায়িত্বশীলরা বলতে পারবেন।