Fri. Mar 5th, 2021

পুলিশের আচরণে পরিবর্তন প্রয়োজন

ডেইলি বিডি নিউজঃ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক নারীকে কয়েকজন পুরুষ পুলিশ সদস্য টেনেহিঁচড়ে গাড়িতে তুলেছেন। প্রকাশ্যে রাস্তায় একজন নারীকে এভাবে আটক করে গাড়ি তোলায় নারীর প্রতি পুলিশের সহিংসতা এবং অশোভন আচরণই ফুটে উঠেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

শুক্রবার একটি দৈনিকে ওই নারীকে গাড়িতে তোলার প্রতিবেদনটি সচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ভ্যানে ওঠানোর পরে ওই নারী জড়ো হওয়া জনতার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে সাহায্য চাইছিলেন। অনেকে তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হলেও ঘটনার নায়করা পুলিশ হওয়ায় তাদের কেউ কিছু জিজ্ঞাসা করার সাহস পাননি।

একপর্যায়ে এক পুলিশ ও এক আনসার সদস্য ওই নারীকে জাপ্টে ধরে এবং মারধর করে ভ্যানের মেঝেতে বসিয়ে দেন। এরপর তাঁকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তেজগাঁও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই নারী মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর কাছ থেকে কিছু ইয়াবা বড়ি পাওয়া গেছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এক নারী, সে যতো বড় অপরাধীই হোক না কেন, তার সঙ্গে পুলিশ এ ধরণের আচরণ করতে পারে কি  না, তাও আবার পুরুষ পুলিশ সদস্য? দৈনিকটিতে ওই নারীকে আটকের যে ছবি দুটি প্রকাশ করা হয়েছে তা রীতিমতো রোমহর্ষক, যা কোনো সভ্য দেশে কল্পনাও করা যায় না। পুলিশের আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে বহু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এ বছর বাংলা নববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার টিএসসি ও সোহরওয়ার্দী উদ্যানের গেটের সামনে পুলিশের সামনেই বেশ কয়েকজন নারী লাঞ্ছিত হয়েছেন। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তখন নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত মে মাসে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ অমানবিকভাবে পিটিয়েছে ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ইসরাত জাহানকে। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে জড়িত ওই পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়।

ওই মাসেই বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, গত এক বছরে ৪৪ নারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪০ জনই নির্যাতিত হয়েছেন পুলিশ সদস্যদের দ্বারা। এদের অনেককে গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। কয়েক বছর আগেও নারী রাজনৈতিক কর্মীরা তাদের কর্মসূচি পালনকালে পুরুষ পুলিশ সদস্যদের হাতে রাজপথেই নির্যাতিত হয়েছেন। ২০১৩ সালে ১৮ দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে বিএনপির চার মহিলা সংসদ সদস্যকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তুলেছিল পুলিশ। অপরাধ দমনের দায়িত্ব যাঁদের হাতে, তাঁরাই যদি অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে , তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগের।

পুলিশের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কারো ওপর অযাচিত আক্রমন নয়। নারী সব দেশের সবসময় সম্মানের পাত্রী। কোনো নারী যদি অপরাধী হয়, তাকে আটকের জন্য নারী পুলিশ সদস্য রয়েছে। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে নারী পুলিশ সদস্য যদি নাও থাকে তারপরও তার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে।

পুলিশ প্রশাসনের উচিৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে কোনোভাবেই পুলিশ সদস্যরা যাতে নারীর প্রতি অশোভন আচরণ কিংবা নির্যাতন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। আর এ জন্য পুলিশের ভেতরে নৈতিক আচরণের শিক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রয়োজনে পুলিশের ব্যবহারও বন্ধ করতে হবে।