|
এই সংবাদটি পড়েছেন 30 জন

বজ্রনিরোধক পোল হবে হাওরে

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ছোট ও বড় মিলিয়ে শতাধিক হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ। বজ্রপাতের কারণে প্রতিবছর এসব হাওরে বহু লোক হতাহত হয়।

কয়েক বছর ধরে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে বজ্রপাতের পরিমাণ, সঙ্গে বেড়েছে প্রাণহানিও। ফলে হাওরে চাষবাস ও দৈনন্দিন জীবনযাপন নিয়ে এখন হাওরবাসী এখন খুবই উদ্বিগ্ন।

বিশেষ করে বর্ষা ও ফসল উত্তোলনের সময়ে হাওরে বজ্রপাত আতঙ্ক বিরাজ করে। এ সময় প্রতিবছর কৃষক, জেলেসহ অনেক মানুষ হতাহত হয়। বজ্রপাতে বছরে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয় এখানে। গত ১০ দিনে বাবা-ছেলেসহ বেশ কয়েকজন মারা গেছে। সরকার বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে এরই মধ্যে হাওরে তালগাছ লাগাচ্ছে। তবে এর সুফল পেতে আরো অন্তত ৫০ বছর সময় লাগবে বলে মনে করছে হাওরবাসী।

তাই হাওর জীবনের এই আতঙ্ক দূর করে প্রাণহানি কমাতে হাওরে বজ্রনিরোধক পোল নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এরই মধ্যে দেড় শতাধিক পোল নির্মাণের ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। এদিকে উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকও নিজেদের ব্যবস্থাপনায় দিরাই উপজেলার ভরাম হাওরে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও শেল্টার কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। টাওয়ার আকৃতির এই দণ্ডের নিচে ঘরের মতো আশ্রয়ের ব্যবস্থা রেখেছে ব্র্যাক। এ ঘরে বজ্রপাত বা ঝড়-বৃষ্টির সময় আশ্রয় নিতে পারবে হাওরের লোকজন। ব্র্যাকের জেলা ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, এ মাসেই এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বন্যার কারণে দেরি হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে হাওরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি ডিপিপি তৈরি করা হয়। এটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হলে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করে সংশোধিত ডিপিপি পাঠানোর জন্য বলা হয়। সংশোধিত ডিপিপিতে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জেলার বিভিন্ন হাওরে ১৫০টি বজ্রনিরোধক পোল নির্মাণের প্রকল্প তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহেই ডিপিপিটি মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। সূত্র আরো জানায়, বজ্রনিরোধক দণ্ডের উচ্চতা হবে ৪০ ফুট। এর মধ্যে ৩৬ ফুট ওপরে থাকবে, আর বাকি ছয় ফুট থাকবে নিচে। পোলের ওপরে বজ্রপাত নিরোধক ইলেকট্রিক ডিভাইস থাকবে। এ ছাড়া পোলের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক আর্থিং তারও রাখা হবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, নতুন করে সংশোধিত ডিপিপিতে হাওরে প্রায় ১৫০টি বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনের প্রকল্প যুক্ত করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে হাওরে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমবে।

এদিকে হাওরবাসী মনে করছে, বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনে ইউনিয়ন পরিষদকে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। সরকার প্রতিবছর প্রতিটি ইউনিয়নকে এলজিএসপি প্রকল্প থেকে ১০-১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এই বরাদ্দের বেশির ভাগই নয়ছয় হয়। বরাদ্দের টাকা বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপনে কাজে লাগালে ওই ইউনিয়নের হাওর বজ্রপাতে সুরক্ষিত হবে।