|
এই সংবাদটি পড়েছেন 61 জন

সিলেট যুবলীগের ৭৫৯ ভোটার নিয়ে শঙ্কা

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট মহানগর যুবলীগের সম্মেলন আগামী ২৭ জুলাই ও জেলা যুবলীগের সম্মেলন ২৯ জুলাই। এরমধ্যে সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন সিলেট যুবলীগের দায়ীত্বশীলরা। সম্মেলনের মাঠ থেকে ভোটের ভেন্যু সবই ঠিক করা হয়েছে। হয়েছে নগরজুড়ে ব্যানার-ফ্যাস্টুন লাগানোও। এতোসব আয়োজনের মাঝেও ‘গোপন ভোটার’ লিস্ট নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। কারণ সকল প্রস্তুতি অনেক আগেই শেষ করলেও এখনো পুরোপুরিভাবে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

মহানগর যুবলীগের সম্মেলনে ভোটার ৪৭৬ জন
জেলা যুবলীগের সম্মেলনে ভোটার ২৮৩ জন
রহস্যময় ৭৫৯ জন ভোটার নিয়ে ক্ষুব্দ অনেক প্রার্থী
সিলেট জেলার ২৮৩ জন এবং মহানগর যুবলীগের ৪৭৬ জন ভোটারের সংখ্যা বললেও এখনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ হয়নি। এ নিয়ে রয়েছে রহস্য। রহস্যময় ৭৫৯ জন ভোটার নিয়ে ক্ষুব্দ অনেক প্রার্থী।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও সঠিক মূল্যায়ন করা হয়নি। কয়েকজনের হাতে দীর্ঘদিন সিলেট যুবলীগ জিম্মি ছিল। এমন অবস্থায় সম্মেলন আর কাউন্সিলই তৃণমূল যুবলীগের নেতাকর্মীদের আশার প্রদীপ হয়ে এসেছিল। কিন্তু ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজেদের মতো করে কাউন্সিল বা ভোটার তালিকা প্রণয়ন করায় সে আশায় গুড়েবালি। এমনকি নিজেদের লোকদের নিয়ে কাউন্সিল বা ভোটার তালিকা করেই ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ক্ষান্ত হননি, তারা আবার সেই কাউন্সিল বা ভোটার তালিকা গোপন রাখছেন। এভাবে ভোট হতে পারে না। কারণ প্রার্থীরা যদি ভোটারদের কাছে না যেতে পারেন তাহলে ভোট কোথায় থেকে আসবে?

প্রার্থীদের অভিযোগ- সম্মেলনের মাত্র দু-একদিন বাকী। কিন্তু ভোটার তালিকা ছাড়া এভাবে তো সুষ্ঠু ভোট হতে পারে না। কারণ গণতান্ত্রিক ভোটের অন্যতম শর্ত হচ্ছে ভোটার ও প্রার্থীদের যোগাযোগ। সেখানে ভোটার তালিকাই নেই সেখানে প্রার্থীরা কিভাবে ভোট চাইবে?

তবে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের দায়ীত্বশীলরা বলছেন, ‘কাউন্সিল বা ভোটার তালিকা করে প্রথমে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এরপর কেন্দ্রে নিজ উদ্যোগে এসব ভোটার তালিকা যাছাই-বাছাই করেছে। এরপর এটি চূড়ান্ত করে আমাদের কাছে দিয়েছে। সেজন্য ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে একটু দেরি হয়েছে। তার মানে এই নয়, আমরা নিজেদের মতো করে কমিটি করেছি। কারণ যারা এই অভিযোগ করছেন তারা একেবারেই ভিত্তিহীন অভিযোগ করছেন।

তবে সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী শান্ত দেব বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হলেও ‘গোপন ভোটার তালিকা নিয়ে’ শঙ্কা আছে। বর্তমান আহবায়ক কমিটি কয়েকজন নিজেদের মতো করে ভোটার তালিকা করেছেন। এজন্য নির্বাচন হলেও সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা কম।

তিনি আরও বলেন , মহানগর যুবলীগের সম্মেলনের আর মাত্র দুই দিন বাকি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন কাউন্সিলর তালিকা আমি কিংবা আমাদের সাথের অন্য প্রার্থীরা হাতে পাইনি। শুধুমাত্র শুনেছি সাড়ে চার শতাধিক কাউন্সিলের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এই অবস্থায় কে ভোটার, কার কাছেই বা ভোট চাইবো তা আমি জানি না।

আর সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক ও সভাপতি প্রার্থী আলম খান মুক্তি বলেছেন, ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর ‘গোপন ভোটার তালিকা’র নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কারণ প্রত্যেকটি ওয়ার্ড কমিটি আমরা প্রকাশ্য সম্মেলনের মাধ্যমে করেছি। এসব সম্মেলনে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তবে যারা যুবলীগের ছিলেন না, তাদের কাছে এটা গোপন কমিটি মনে হতে পারে।

এদিকে সিলেট জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী শামীম আহমদ বলেন, অনেকেই আমার কাছ থেকে ভোটার তালিকা সংগ্রহ করেছেন। আবার অনেকেই সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে ভোটার তালিকা সংগ্রহ করছেন। এখানে ভোটার তালিকা লোকানোর মতো কোন কিছু নাই। আর আগামীকাল বৃহস্পতিবার ইব্রাহীম স্মৃতি সংসদের এটি টানানো হবে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, সিলেট জেলা ও যুবলীগের সম্মেলন দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি। আমার মনে হয়, এবার সরাসরি ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন হতে পারে। এরপরও হয়তো কাউন্সিলের আগে একটি সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। যদি সমঝোতা না হয় তাহলে ভোটের মাধ্যমেই কমিটি গঠন হবে।

গোপন ভোটার তালিকা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে গোপন ভোটার তালিকা বলতে কিছু নাই। হয়তো ভোটার তালিকা একটু দেরিতে প্রকাশ হচ্ছে। কারণ এই ভোটার তালিকা কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করার পরই প্রকাশ করতে হবে। এর আগে তো প্রকাশ করা যায় না। তবে আরো কিছুদিন আগে ভোটার তালিকা প্রকাশ করলে ভালো হতো।

তিনি আরও বলেন, যারা আজ এসব অভিযোগ করছেন তারা কেন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকলো না কিংবা ওয়ার্ড কমিটি করার সময় কেন তারা থাকলো না। আর ক্ষমতায় থাকলে যেমন একদিকে সুবিধা আছে অন্যদিকে অসুবিধাও আছে। তারপরও যারাই আগামীতে নেতৃত্বে আসবে অভিভাবক সংগঠন হিসেবে আমরা তাদের স্বাগত জানাবো।