|
এই সংবাদটি পড়েছেন 30 জন

নবীগঞ্জে শিক্ষক সংকটের মাঝে কাটা হচ্ছে শিক্ষকের পোস্ট!

ডেইলি বিডি নিউজঃ নবীগঞ্জে গোপলার বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বদলি তরান্বিত করতে পোস্ট কেটে নেয়ার পায়তারা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনিতেই বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক কম, তার মাঝে আরেক শিক্ষক বদলির পাশাপাশি ওই পোস্টটি কেটে নেয়ার পায়তারায় বড় ধরণের সংকটে পড়তে যাচ্ছে উপজেলার এই প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে বড় পরিসরে আন্দোলনে যাচ্ছে এলাকাবাসী। এছাড়া বিষয়টির সুন্দর সমাধান ও শিক্ষকের পোস্ট কেটে না নিতে প্রধানমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে আবেদন করেছে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।

আবেদন পত্রে তারা বলেন- গোপলার বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৯ পোস্টের স্কুল এ গ্রেডের ১ শিফটের একটি স্কুল। প্রতিবছর যেখানে ৫ থেকে ৬ টি বৃত্তি আসে। ৩৪২ জন ছাত্রছাত্রীর বিপরীতে ৬ জন শিক্ষক দ্বারা বর্তমান শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

অন্যদিকে বিদ্যালয়টিতে ৯ জন শিক্ষকের মধ্যে ২ জন ট্রেনিংয়ে, অন্য একজন সহকারী শিক্ষক মিতু বেগম ২৬ জুন ২০১৪ সাল থেকে নবীগঞ্জ আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে আছেন। সহকারী শিক্ষক মিতু বেগম অসুস্থতার অজুহাতে দীর্ঘ ৪ বছর ১০ মাস যাবত নিজের সুবিধাজনক স্থান নবীগঞ্জ আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। তার বাসস্থান নবীগঞ্জ বাজারে অবস্থিত এবং তিনি আদৌ অসুস্থ নন বলে গোপলার বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরিত আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়- গোপলাবাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পদ কেটে নেয়া ঠিক হবে না কারণ ৬ জন শিক্ষক দিয়ে এক শিফটের স্কুল চালানো অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। অল্প সংখ্যক শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রেও অনেক সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় স্কুলের একটি পদ কেটে শিবপাশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হলে বড় হুমকির মুখে পড়বে গোপলার বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

চিঠিতে তারা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে লেখাপড়ার স্বার্থে স্কুলের একটি পদ কেটে না নিতে প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ জানান।

এদিকে শিক্ষকের পোস্ট কেটে নেয়ার প্রতিবাদে বড় পরিসরে আন্দোলনে যাচ্ছে এলাকাবাসী। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় এলাকাবাসী ও অবিভাবকদের সাথে বৈঠকে বসছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরপর সকাল ১১ টায় মানববন্ধন করবে এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী জানান- শোনা যাচ্ছে একজন শিক্ষকের বদলি তরান্বিত করার জন্য ১টি পোস্ট কেটে নেওয়ার পায়তারা করা হচ্ছে। যা বর্তমান শিক্ষানীতি অনুযায়ী আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কারণ বর্তমান সরকার শিক্ষার মান বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছেন। এজন্য উচিত ছিল গোপলার বাজার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো। তা না করে কাউকে খুশি করার জন্য এই কাজ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি এই বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে একটি ডিও লেটার পেয়েছেন। যা ডিপিও আব্দুর রাজ্জাকের কাছে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর করার কিছু নেই।