|
এই সংবাদটি পড়েছেন 35 জন

যুবলীগের সম্মেলন, সিলেট যেন উৎসবের নগরী

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সর্বশেষ ২০০৩ সালে হয়েছিলো সিলেট জেলার ও ২০০৪ সালে হয়েছিলো মহানগর যুবলীগের সম্মেলন। কিন্তু জেলার সম্মেলনে ভোট হয়নি। সমঝোতার ভিত্তিতে গঠন করা হয়েছিলো কমিটি। আর মহানগর যুবলীগের সম্মেলনের প্রায় ১৫ বছর কেটে গেলেও আর সম্মেলনের মুখ দেখেননি মহানগর যুবলীগের কর্মীরা। মাঝখানে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হলেও সম্মেলনহীন যুবলীগ ছিলো অনেকটা ৩ খুঁটিতেই আটকা। তাই ক্ষোভ আর হতাশা ছিলো কর্মীদের মাঝে।

তবে এবার আশায় বুক বাধছেন সকলে। ভাবছেন সম্মেলনের মাধ্যমে উঠে আসবে নতুন নেতৃত্ব। আর এ আশায় আর প্রতিযোগিতায় চলছে ব্যাপক প্রচারণা। নগরীর বিভিন্ন মোড়, অলিগলি এমনকি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও চলছে প্রচারণা। নিজের পক্ষ থেকেতো সালাম আদাব আছেই সেই সাথে কর্মীদের পক্ষ থেকেও আছে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন আর কাঙ্ক্ষিত প্রার্থীকে প্রত্যাশিত পদে দেখতে চাওয়ার বার্তা। সব মিলিয়ে সিলেট যুবলীগে এখন উৎসবের আমেজ।

সরেজমিনে নগরীর সুরমা মার্কেট পয়েন্ট, চৌহাট্টা পয়েন্ট, রিকাবিবাজার পয়েন্ট, আম্বরখানা পয়েন্ট, টিলাগড় পয়েন্ট, জিতু মিয়ার পয়েন্ট, জিন্দাবাজার পয়েন্টসহ নগরীর অধিকাংশ জায়গায় দেখা গেছে ব্যানার পোস্টার আর ফেস্টুনের ছড়াছড়ি। কোন জাতীয় বা সিটি নির্বাচনের মতো প্রার্থীদের সমর্থকদের পক্ষ থেকে যেমন আছে ব্যানার ফেস্টুন তেমনই প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও কম নয়। সব মিলিয়ে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের নির্বাচন না হলেও রাজনৈতিক প্রতিনিধি বাছাইয়ের এ নির্বাচন নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা সমালোচনা। অতীতের সম্মেলনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সক্রিয়তা খুব বেশি না থাকলেও এবার এ মাধ্যমের ফেসবুকেও চলছে সরব প্রচারণা। দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মাঝেও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আছে এক ধরণের কৌতুহল।

জেলায় ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠিত হয়েছিলো সেই ১৯৯২ সালে। এর পর ২০০৩ সালে সম্মেলন হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি কর্মীরা। তখন সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত হয় কমিটি।

অন্যদিকে মহানগর যুবলীগে সম্মেলন হয়েছিল ২০০৪ সালে। সৈয়দ শামীম আহমদ ও আবদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলে ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয়ভাবে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আলম খান মুক্তিকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু পাঁচ বছরেও মহানগর সম্মেলন হয়নি। এরপর বেশ কয়েকবার কমিটির অদলবদল হলেও সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি কর্মীরা। তাই নিয়ম রক্ষার কমিটিতে উচ্ছ্বসিত হলেও ভোটাধিকার প্রয়োগের আমেজ যেন মহানগর কর্মীদের জন্য ছিলো স্বপ্ন মাত্র। তবে এবার এ আগ্রহের দেখা পেতে আর বাকি মাত্র ১ দিন।

২৭ জুলাই সম্মেলনের মধ্যদিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে নির্বাচিত করবেন পছন্দের প্রার্থী। জ্যেষ্ঠরা দীর্ঘ দিন কমিটিতে থেকে এখন অবসর নিবেন, নতুনদের সুযোগ দিবেন এমন প্রত্যাশা আর আগ্রহ থেকে চলছে তুমুল প্রচারণা।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী এম রায়হান চৌধুরীর অনেকটা আগ্রহ নিয়ে বলেন, সর্ব শেষ ২০০৩ সালে মহানগর যুবলীগের সম্মেলন হয়েছিলো। এর পর প্রেস কমিটি, আহ্বায়ক কমিটিসহ নানাভাবে কমিটির অদলবদল হয়েছে। কিন্তু সম্মেলনের অভাবে নতুন কোন নেতৃত্ব উঠে আসেনি। আমরা নিজেরা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে থেকে দেখেছি যারা সক্রিয় কর্মী তারা অনেকটা বঞ্চিত। তবে এবার সম্মেলন ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তাই প্রচার প্রচারণাও বেশি।

তিনি আরো বলেন, সম্মেলন হলে কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়ে। নতুন নেতৃত্ব উঠে আসে। তাই আমি মনে করি এবারের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মহানগর যুবলীগ নতুন নেতৃত্ব পাবে।

এদিকে গণতান্ত্রিক এ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে বিগত আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুসফিক জায়গিরদার বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হচ্ছে এজন্য সকল নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত। অতিতে নানা কারণে সম্মেলন করা সম্ভব না হলেও এবার সম্মেলন ঘিরে প্রায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ভোটাধিকারের মাধ্যমে কর্মীরা তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করবেন। আমরা আশাবাদী সকলের সহযোগিতায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এ কমিটির মাধ্যমে সকলের ইচ্ছার প্রতিফলন হবে।

এমন উৎসাহ উদ্দীপনার ব্যাপারে সিলেট জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা যুবলীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম আহমদ বলেন- দীর্ঘদিন পরে সিলেট যুবলীগের দুটি ইউনিটের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসবে নতুন নেতৃত্ব। যে কারণে যুবলীগে উৎসাহ উদ্দীপনার শেষ নেই। পুরো শহরজুড়ে যেন উৎসবের আমেজ। সবাই চায় মাঠের কর্মীরাই এই সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্বে উঠে আসুক। এতে করে রাজনীতির মাঠে যুবলীগ যেমন সুসংহত হবে তেমনি শক্তিশালি হবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

তবে সম্মেলন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও শঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকে। এমন শঙ্কার কথা জানালেন- সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবদুল লতিফ রিপন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হচ্ছে তাই নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক বেশি আগ্রহ কাজ করছে। কিন্তু নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে শঙ্কা থাকায় প্রার্থীদের মধ্যে তুলনামূলক কম আগ্রহই বিরাজ করছে বলে জানালেন তিনি।

এদিকে সম্মেলনের মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের এ প্রক্রিয়াকে কাঙ্ক্ষিত ও একমাত্র স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছেন জেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমদ। তিনি বলেন দীর্ঘদিন পর সিলেটের মানুষ যুবলীগের সম্মেলন দেখবে। এটি নিশ্চয় আনন্দের। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সিলেট যুবলীগের নতুন একটি পথচলা শুরু হবে। কেন্দ্রীয় কমিটিও এ সম্মেলন খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।

নির্বাচনে স্বচ্ছতার প্রশ্নে তিনি বলেন, অবশ্যই স্বচ্ছতা থাকবে। আমরা ইতোমধ্যে ভোটার তালিকাও পেয়ে গেছি। আশা করি ভোটাররা ভোটাধিকারের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন।