|
এই সংবাদটি পড়েছেন 27 জন

ছাত্রলীগের সাবেকরা চান ‘তারুণ্য নির্ভর’ যুবলীগ

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট জেলা যুবলীগের সম্মেলন আগামী ২৭ জুলাই। আর মহানগর যুবলীগের সম্মেলন ২৯ জুলাই। দুইদিনের ব্যবধানে সিলেটের দুইটি ইউনিটের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আবারো সরগরম হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। সম্মেলন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উত্তাপ, একই সাথে মাঠের রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা ভাবে নেতাকর্মীদের মাঝে নিজেদেরকে উপস্থাপন করছেন।

এদিকে দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতি করে আসা প্রার্থীও যেমন রয়েছেন, তেমনি মাঠে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। বিগত কমিটিগুলোর সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাই যুবলীগের স্থান পেতে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন। কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা তো প্রকাশ্যই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আবার অনেক ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা কৌশলে এগুচ্ছেন।

তারা বলছেন, ছাত্রলীগ থেকে সাবেক হওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করা যায় না। এজন্য ছাত্রলীগের পর সবাই যুবলীগে যেতে চায়। তবে এবার যেহেতু অনেক দিন পর কমিটি হচ্ছে সেহেতু প্রার্থীর সংখ্যাও বেশী। কারণ যারা দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতি করেছে তাদেরকে যেমন প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন, তেমনি ছাত্রলীগের সাবেকদের জায়গা দিতে হবে। এজন্য সাংগঠনিক ব্যক্তি ও তরুণদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। যাতে যুবলীগকে কেউ ‘আদু’ ভাইর সংগঠন বলতে না পারে।

যদিও এখন চূড়ান্ত হয়নি কোন পদ্ধতিতে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবলীগের কমিটি হবে। তবুও প্রার্থীরা উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ের ভোটারদের সাথে যোগাযোগ করছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অনুসারীরা চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। এতে করে সম্মেলনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সবর হয়ে উঠেছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা।

এর মধ্যে প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী। তিনি মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। এছাড়া আলোচনায় আছেন, সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাহিদ সারোয়ার, সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাকিরুল আলম জাকির, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সুজেল আহমদ তালুকদার, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মো. জাফরান জামিল ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন।

সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাহিদ সারোয়ার বলেন, দীর্ঘদিন পর সিলেট জেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেই হিসেবে সকল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা বেশী। কারণ এই দীর্ঘ সময়ে যুবলীগের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অনেক প্রার্থী বের হয়েছে। সেজন্য যদি কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি হয়। সেক্ষেত্রে ভোটারদের কাছে অনেক বিকল্প থাকবে। তাই আমরা প্রত্যাশা করছি সুন্দর একটি কমিটি হবে, যার নেতৃত্বে যুবলীগ আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে।

আর সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম রায়হান চৌধুরী বলেন, আমি সিলেট মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। সেই লক্ষে কাজ করছি। আশা করি যুবলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে সমর্থন দেবেন। কারণ যুবলীগের কমিটিতে যুবকদের প্রাধান্য থাকবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

তবে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ বলেছেন, দীর্ঘদিন পর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় কমিটি না হওয়ায় অনেক নেতাকর্মী তৈরি হয়েছে। তাদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে। একই সাথে ছাত্রলীগের সাবেকদের মূল্যায়নও করতে হবে। কারণ তারুণ্য ও সাংগঠনিক ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। যাতে করে কেউ যুবলীগের কমিটিকে ‘আদু’ ভাইদের কমিটি না বলতে পারে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, যুবলীগের কমিটিগুলোতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিক বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমেই হবে সিলেট জেলা ও মহানগরের কমিটি। শীঘ্রই ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। ভোটের মাধ্যমেই হবে যুবলীগের নেতা নির্বাচন।