|
এই সংবাদটি পড়েছেন 90 জন

মহানগর যুবলীগের ‘তিন খলিফা’ ফের আলোচনায়

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ২৭ জুলাই সিলেট মহানগর যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন পর এই সম্মেলন ঘিরে তৎপর হয়ে উঠছেন নেতাকর্মীর। প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সব জল্পনা-কল্পনা ছাপিয়ে গোপন ভোটার তালিকা নিয়ে আবারো আলোচনায় সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তি, যুগ্ম আহবায়ক মুশফিক জায়গিরদার ও সেলিম আহমদ সেলিম।

তারা আবার সিলেট মহানগর যুবলীগের নেতাকর্মীদের কাছে ‘তিন খলিফা’ হিসেবেই পরিচিত।

বিগত পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালের ৭ জুলাই আলম খান মুক্তিকে আহ্বায়ক এবং মুশফিক জায়গিরদার, আসাদুজ্জামান আসাদ, সাইফুর রহমান খোকন ও সেলিম আহাম্মেদ সেলিমকে যুগ্ম আহবায়ক করে মাত্র ৯০ দিনের জন্য মহানগর যুবলীগের কমিটি অনুমোদন দেয় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি। সেই ৬১ সদস্যের সেই কমিটি দায়িত্ব পালন করেছে দীর্ঘ ৫ বছর।

আহবায়ক কমিটির অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, মহানগর যুবলীগে ‘তিন খলিফা’র আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে কমিটি বা সম্মেলনের ব্যাপারে কখনই আগ্রহ দেখাননি। তবে যখন কেন্দ্রীয় কমিটি সম্মেলনের জন্য চাপ দিতে থাকে, তখন আবার এই ‘তিন খলিফাই’ আহবায়ক কমিটির নেতাকর্মীদের না জানিয়ে নিজেদের মতো করে ওয়ার্ড সম্মেলন করেছেন। আর সম্মেলনের পরপরই নিজেদের ইচ্ছেমতো পকেট কমিটি গঠন করেছেন। যেখানে মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটি পাঁচ বছরেও ওয়ার্ডের সম্মেলন করতে পারে নাই। সেখানে মাত্র কয়েকদিনে কিভাবে মহানগরের ২৭ টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হল।

নেতাকর্মীরা আরও বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পরপরই সিলেট মহানগর যুবলীগের ‘তিন খলিফা’ নিজেদের পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে এসব ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেছেন। যাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা অধিকাংশই জামাত-শিবিরের লোক। কিন্তু এই তিন খলিফা এসব না ভেবে শুধু নিজেদের ভোটের কথা ভেবেছেন। এই জন্য রাতের আধারে এসব কমিটি করা হয়েছে। কারণ মহানগর যুবলীগের আহবায়ক আলম খান মুক্তি সম্মেলনে সভাপতি ও আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মুশফিক জায়গিরদার সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী।

সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ও সভাপতি প্রার্থী সুবেদুর রহমান মুন্না বলেন, মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির মধ্যে কিছু মতবিরোধ ছিল। সেজন্য হয়তো মাঝে মধ্যে সমস্যা হয়েছে। এছাড়া আহবায়ক কমিটির অনেক নেতাকর্মীর শুরু থেকেই নিক্রিয় ছিল।

আর মহানগর যুবলীগের তিন খলিফা সম্পর্কে তিনি বলেন, যারা নেতৃত্বে থাকে তারা সবাই চায় নিজেদের মানুষকে রাখতে। মহানগর যুবলীগে তাই হয়েছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নাই। আহবায়ক কমিটির তিনজনই দায়িত্বে ছিলেন। তবে আমরা অনেক সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। তবে অনেক সময় হয়েছে আবার অনেক সময় হয়নি।

তিনি আরও বলেন, অনেক প্রার্থী হতে চান, তবে যেহেতু আহবায়ক কমিটির তিন জনের স্বাক্ষরে ভোটার তালিকা হয়েছে। সেজন্য তাদের অগ্রাধিকার বেশী হবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য যারা এই তিনজনের বাইরে যারা প্রার্থী হতে চান, তারা সন্ধিহান। কারণ সবাই মনে করছেন ভোটের মাধ্যমে তারা আবারও ক্ষমতায় আসবেন।

সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সিনিয়র সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবদুল লতিফ রিপন বলেন, সিলেট মহানগর যুবলীগের ‘তিন খলিফা’র ইচ্ছেতেই ওয়ার্ড কমিটির নামে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। এসব ওয়ার্ড কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে জামাত-শিবিরের লোকজন নিয়ে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। কারণ ‘তিন খলিফা’ মহানগর যুবলীগে নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই এসব করছেন। এতে সামগ্রিকভাবে মহানগর যুবলীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মুশফিক জায়গিরদার বলেন, যারা এখনও যুবলীগের বিরোধীতা করছেন। তারা এতোদিন কোথায় ছিলেন। আমরা তাদেরকে বিভিন্ন সময় দাওয়াত দিয়েছি। তবুও তারা আসেননি। সেজন্য তারা হয়তো সমালোচনার স্বার্থে সমালোচনা করছেন। তবে যারাই প্রার্থী হয়েছেন সবাইকে স্বাগতম। কারণ নির্বাচন সবার গণতান্ত্রিক অধিকার।

তবে ‘তিন খলিফা’র বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা হয়তো সংগঠনের স্বার্থে তিনজন মিলে কাজ করেছি। যুবলীগকে রক্ষার স্বার্থে আমরা তিনজন একসাথে কাজ করছি। এর বাইরে কিছু নয়।

তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক ও সভাপতি প্রার্থী আলম খান মুক্তি বলেন, রাজনীতির মাঠে সবার বিরুদ্ধেই অভিযোগ আছে এবং থাকবে এটা চিরন্তন সত্য। তবে এসব অভিযোগ আলোচনার টেবিলে অথবা নেতাকর্মীদের সামনে তুলতে হবে। কেউ এসি রুমে বসে এসব অভিযোগ করলে চলবে না।

তিনি আরও বলেন, ওয়ার্ড কমিটি নিয়ে যাদের আপত্তি তারা মূলত জামাত-শিবিরের লোক। কারণ কমিটির পরপরই তারা ঝাড়ু মিছিল করে। এরপর আবারো উধাও হয়ে যান। এভাবে রাজনীতি হয় না। আর আমরা নিজের মতামতে তো এসব ওয়ার্ড কমিটি গঠন করিনি। ওয়ার্ডের সম্মেলনের সময় সাবেক অর্থমন্ত্রীসহ সিলেট আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

‘তিন খলিফা’র বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি, মুশফিক ও সেলিম রাজনীতির মাঠে থেকে উঠে এসেছি। আর গত পাঁচ বছর সিলেট যুবলীগকে টিকিয়ে রাখতে আমরাই বেশী ত্যাগ স্বীকার করেছি। সেজন্য ‘তিন খলিফা’র বিষয়ে আলোচনা অবান্তর।

সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক আতিক বলেন,  সম্মেলনকে ঘিরে যে অভিযোগগুলো আসছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।