|
এই সংবাদটি পড়েছেন 43 জন

দেড় দশক পর সিলেট জেলা যুবলীগের সম্মেলন;কে আসছেন নেতৃত্বে!

ডেইলি বিডি নিউজঃ দীর্ঘ ১৫ বছর পর হচ্ছে সিলেট জেলা যুবলীগের সম্মেলন। সোমবার ২৯জুলাই সকাল ১১ টায় সিলেট রেজিস্ট্রি মাঠে এ সম্মেলন হবে। সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের উপস্থিতিতেই নির্বাচিত হবেন সিলেট জেলা যুবলীগের আগামীর নেতা । এর পূর্বে যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০০৩ সালের ৩০ জুলাই। ঐ সম্মেলনে জগদীশ দাস সভাপতি ও আজাদুর রহমান আজাদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০০৮ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে শপথ গ্রহণের আগে দলীয় পদ ছাড়তে হয় জগদীশ দাস ও আজাদুর রহমান আজাদকে।

এরপর কেটে গেছে দেড় দশকের বেশি সময়। নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এখন সক্রিয় আওয়ামী লীগে। দীর্ঘদিন থেকে ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে জেলা যুবলীগ। আর মহানগর যুবলীগের সম্মেলন হয়েছে শনিবার( ২৯ জুলাই)। দুইদিনের ব্যবধানে সিলেটের দুইটি ইউনিটের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সরগরম আওয়ামী লীগের রাজনীতি। সম্মেলন নিয়ে বইছে উত্তাপ, একই সাথে মাঠের রাজনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা ভাবে নেতাকর্মীদের মাঝে নিজেদেরকে উপস্থাপন করছেন। জেলা যুবলীগের প্রার্থীরা ভোটারদের সাথে যোগাযোগ করছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অনুসারীরা চালাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা।

দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতি করে আসা প্রার্থীও যেমন রয়েছেন আলোচনায়, তেমনি মাঠে রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা। বিগত কমিটিগুলোর সাবেক ছাত্রলীগ নেতারাই যুবলীগের স্থান পেতে মরিয়া। সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, ছাত্রলীগ থেকে সাবেক হওয়ার পরপরই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করা যায় না। এজন্য ছাত্রলীগের পর সবাই যুবলীগে যেতে চায়। তবে এবার যেহেতু অনেক দিন পর কমিটি হচ্ছে সেহেতু প্রার্থীর সংখ্যাও বেশী। কারণ যারা দীর্ঘদিন যুবলীগের রাজনীতি করেছে তাদেরকে যেমন প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন, তেমনি ছাত্রলীগের সাবেকদের জায়গা দিতে হবে। এজন্য সাংগঠনিক ব্যক্তি ও তরুণদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। যাতে যুবলীগকে কেউ ‘আদু’ ভাইর সংগঠন বলতে না পারে।

সূত্র জানায়, ইতি পূর্বে সিলেট জেলা যুবলীগের বিভিন্ন পদে লড়ার জন্য প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাহিদ সারোয়ার, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মো. জাফরান জামিল ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন, সিলেট মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য জাকিরুল আলম জাকির, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি সুজেল আহমদ তালুকদার।

আর জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমদ (ভিপি), খাদিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট আফসর আহমদ, সেলিম উদ্দিন,শামীম আহমদ, মহানগর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন ও জেলা পরিষদ সদস্য শামীম আহমদ। এ ছাড়াও সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার সম্পাদক জাফরান জামিল। জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিহিতগুপ্ত চৌধুরী বাবলা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর ও সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন।

সিলেট জেলা যুবলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে এই মুহূর্তে আলোচনায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম আহমদ(ভিপি) । তার সঙ্গে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন মহানগর যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম উদ্দিন ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মো. জাফরান জামিল। বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রনেতা সামস্ উদ্দিন সামস্। সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আলমগীর ।

এছাড়া সভাপতি পদে লবিং চালাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরীর ঘনিষ্ঠজন মহানগর যুবলীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান আসাদ। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়াইয়ে রয়েছেন- জেলা পরিষদের সদস্য শামীম আহমদ, খাদিমপাড়ার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এ্যাড. আফসর আহমদ, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি কামাল উদ্দিন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এ্যাড. মো. জাহাঙ্গীর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলা চৌধুরী। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রলীগের সাবেক নেতারাই এগিয়ে রয়েছেন।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় সূত্র জানায়, ইুতপূর্বে সিলেট মহানগর যুবলীগের সম্মেলন হয়েছে ভোটের মাধ্যমে। আর জেলা যুবলীগের সম্মেলনও হবে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে।

খাদিমনগর ইউপি চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা অ্যাডভোকেট আফসর আহমদ জানান, সরাসরি ভোটের মাধ্যমে জেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে। আশা করা যায় ভোটাররা তাদের তৃণমুলের নেতাদের বাছাই করে নিবেন।

সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী কামাল উদ্দিন বলেন, মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীরা নিশ্চয় দলের দুঃসময়ের পরিক্ষিত নেতাদের বেছে নিবেন। যাতে করে যুবলীগ আগামীতে আরো সুসংগঠিত ও সুশৃঙ্খল হবে।

সিলেট জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার মহসিন কামরান জানান, সম্মেলনের মাধ্যমে সিলেট জেলা যুবলীগের সঠিক নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। তিনি আরো জানান, তিনি প্রার্থী হননি নতুনদের সুযোগ করে দেয়ার জন্য। তিনি চান নতুনরা নেতৃত্বে আসুক।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। ঐ নির্বাচিতরাই পরবর্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন। তবে যুবলীগের জেলা কমিটিতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন কর