|
এই সংবাদটি পড়েছেন 36 জন

গাছতলায় পাঠদান, বৃষ্টি হলেই ছুটি

হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে নজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গাছতলায় ক্লাস করতে হচ্ছে। স্কুলের ভবন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় গাছের নিচে প্লাস্টিকের বস্তা বিছিয়ে বসতে হয় তাদের। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছুটি দিতে বাধ্য হন শিক্ষকরা। এই পরিস্থিতিতে স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বেশ বিপাকে রয়েছেন।

শিক্ষকরা জানান, বিদ্যায়টিতে ১১৮ জন শিক্ষার্থী। একটি ভাঙা ঘর ও গাছতলায় তাদের ক্লাস নিতে হয়। মাদুর বিছিয়ে গাদাগাদি করে বসতে হয় শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় ছুটি দিতে হয়। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
গাছতলায় চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের এপ্রিলে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করে মেসার্স উজ্জল মিয়া নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানা অজুহাতে বিলম্ব করা হচ্ছে।

স্কুলের শিক্ষার্থী জয় দাশ বলে, ‘এক বছর ধরে স্কুলের মেরামত কাজ চলছে। এই সময় ধরে পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে। গাছতলায় পোকা মাকড়ের আক্রমণের ভয়ে থাকি।’

শিক্ষার্থী কমলা রানী দাশ বলে, ‘বস্তা বিছিয়ে গাছতলায় বসে ক্লাস করি। গরম পড়লে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ি।’

স্কুলের সহকারী শিক্ষক সেফালি আক্তার বলেন, ‘আমরা বর্তমানে একটি ঘরে ক্লাস নিচ্ছি, যেখানে সর্বোচ্চ ২০ জন ছাত্র-ছাত্রী ক্লাস করতে পারে। ১১৮ জন শিক্ষার্থীর ক্লাস নিতে—বাধ্য হয়ে গাছতলায় যেতে হচ্ছে।’

সহকারী শিক্ষক পঙ্কজ মোদক বলেন, ‘গাছতলায় পাঠদানের কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পোকায় কামড়িয়ে আহত করেছে। তারা পোকার ভয় পাচ্ছে।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক পিতাম্বর চন্দ্র বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরাতন ভবন ভাঙার পর, ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয়রা একটি পরিত্যক্ত ঘর ক্লাস করানোর জন্য দেয়। সেই ঘরের বেড়া ও চাল নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে বৃষ্টি পড়ে। তাছাড়া সব ছাত্র-ছাত্রীর একসঙ্গে ক্লাস করানো সম্ভব হয় না। ফলে বাধ্য হয়েই গাছতলায় নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।’

বানিয়াচং উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে, যে কারণে বাইরে ক্লাস চলছে। এতে করে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। ভবন নির্মাণ দ্রুত শেষ করতে ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ হবে।’

বানিয়াচং উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আল নূর তারেক বলেন, ‘এ বছরের জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল, শেষ করতে না পারায় আরও তিন মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করতে না পারলে, বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঠিকাদার উজ্জল আহমেদ বলেন, ‘রাস্তা খারাপ হওয়ায় ভবনের সরঞ্জাম ঠিক সময়ে পৌঁছানো যায়নি। তাই সময় মতো নির্মাণ কাজ শেষ করা যায়নি। তবে শিগগিরই কাজ শেষ করতে চেষ্টা করবো।’