|
এই সংবাদটি পড়েছেন 30 জন

ফেঞ্চুগঞ্জে ৪৬ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে

ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি :: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার প্রধান সড়কের কাজে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ ওঠছে। প্রায় ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েক মাস আগে সড়কটির কাজ শুরু হয়। কাজ শুরুর পরপরই সড়কে ড্রেসিংয়ে বালু ও কংক্রিটের মিশ্রণে অনিয়ম ধরা পড়ে। এরপর কিছুদিন বন্ধ থাকে কাজ। সম্প্রতি ফের কাজ শুরুর পর নতুন অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। এবার পুরনো ইট মেশিন দিয়ে ভেঙে সেগুলোকে কংক্রিট হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে।

সরেজমিনে ফেঞ্চুগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, সড়ক খুড়ে তোলা পুরাতন ইট জড়ো করে তা মেশিন দিয়ে ভেঙ্গে ‘কংক্রিট’ বানানো হচ্ছে। কাদামাটি লাগানো এসব ইট সড়কে ব্যবহার করা হলে কিছুদিন পরই সড়ক ভেঙেচুরে একাকার হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ইটগুলো পুরাতন সড়ক থেকে তুলে রাখা হয়েছিল। এগুলোর অধিকাংশই মাটি হয়ে গেছে। কিন্তু কে কোন ক্ষমতায় এগুলো এত টাকার সড়কের কাজে লাগাচ্ছে, তা আমরা বুঝি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কন্ট্রাক্টর বলেন, ‘৪৬ কোটি টাকার কাজে এই ইট ব্যবহার করার প্রশ্নই আসে না। এই ইট যে কেউ দেখলেই বুঝবে এটা দ্বারা কাজ টেকসই হবে না।

সড়কের কাজে সম্পৃক্ত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে এসব ইট ব্যবহার নিয়ম বহির্ভূত। সিন্ডিকেট করে কাজে দুর্নীতি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘কোন কোন ক্ষেত্রে পুরাতন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয় ঠিকই। কিন্তু সে জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, প্রকৌশলী, ঠিকাদার সবাই মিলে বৈঠকে আলোচনা করে দেখতে হয় নির্মাণ সামগ্রীর গুনগত মান ঠিক আছে কি না। কিন্তু এখানে তা হয়নি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘সড়ক কর্তৃপক্ষ এ ইট ব্যবহার করতে বলেছে।

সড়ক কর্তৃপক্ষের এই অনুমতি লিখিত নাকি মৌখিক, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তারা বলেছে।

এ ব্যাপারে কথা বলতে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা নুরুল মজিদ চৌধুরীকে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।