|
এই সংবাদটি পড়েছেন 44 জন

জগন্নাথপুরে হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা

জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এখনো হাজার হাজার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা হচ্ছে নৌকা। বর্ষা মৌসুমে তাদেরকে উপজেলা সদরে নৌকা যোগে যাতায়াত করতে হয়। আবার হেমন্ত মৌসুমে তাদেরকে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়। জগন্নাথপুরকে উন্নত এলাকা দাবি করলেও বাস্তবে যোগাযোগ ক্ষেত্রে জগন্নাথপুর এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ১ টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে জগন্নাথপুর উপজেলা। এর মধ্যে জগন্নাথপুর পৌরসভা বলতে ছোট্র একটি শহর। বাকি ৮টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে হাওর বেষ্টিত উপজেলা জগন্নাথপুর। এর মধ্যে চিলাউড়া-হলদিপুর, রাণীগঞ্জ ও পাইলগাঁও ইউনিয়ন অবহেলিত হলেও যোগাযোগ ক্ষেত্রে এখনো চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পিছিয়ে রয়েছে। এ ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ বর্ষা মৌসুমে পানিবন্দি থাকেন। তারা নৌকা ছাড়া কোথাও চলাচল করতে পারেন না। ৩ আগষ্ট শনিবার সরজমিনে দেখা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের খাদ্য গোদামের সামনে থাকা নৌকাঘাট থেকে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল করছে। এ সময় ঘাটের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার নেহার মিয়া বলেন, জগন্নাথপুর থেকে প্রতিদিন ৪০টি ছোট বড় ইঞ্জিন চালিত নৌকা প্রত্যান্ত অঞ্চলে চলাচল করছে। এর মধ্যে ৩৬টি নৌকা জগন্নাথপুর পৌর শহরের নলজুর, বাদাউড়া, কাটাগাং, গাদিয়ালা এবং দিরাই উপজেলার কুমারখালি ও কালনী নদী হয়ে চলাচল করে থাকে। এসব নৌকাযোগে জগন্নাথপুর উপজেলার নাচনী, বেতাউকা, হলিকোনা, গোপরাপুর, বাউধরণ, শালদিঘা, স্বজনশ্রী এবং দিরাই উপজেলার টংগর, তারাপাশা, জালিয়া ও হাতিয়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের সাথে চলাচল করছেন। সেই সাথে জগন্নাথপুর নৌকাঘাট থেকে নেত্রকোনা জেলার মদন, আটপাড়া, কেন্দুয়া ও মোহনগঞ্জে আরো ৪টি নৌকা চলাচলা করছে। এছাড়া উপজেলার রাণীগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে কুশিয়ারা নদী হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এ ব্যাপারে বাউধরণ গ্রামের শালিসি ব্যক্তি ছালিক মিয়া সহ অনেকে বলেন, যুগযুগ ধরে আমরা নৌকা যোগে উপজেলা সদরের সাথে চলাচল করছি। বর্ষা মৌসুমে নৌকাই আমাদের একমাত্র ভরসা। নৌকা ছাড়া আমরা বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বাউধরণ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আরশ মিয়া বলেন, বর্ষাকালে গ্রামীণ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। যে কারণে অত্র অঞ্চলের মানুষকে বাধ্য হয়ে নৌকা যোগে চলাচল করতে হয়। তবে স্থানীয় রাণীগঞ্জ-খাগাউড়া রাস্তাটি সম্পন্ন হয়ে গেলে আর নৌকা লাগবে না। খোঁজ নিয়ে জানাযায়, দেশ স্বাধীনের আগ থেকেই জগন্নাথপুর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ পালের নৌকা ও হাতে বেয়ে নৌকা যোগে চলাচল করতেন। তবে বিগত প্রায় ২৫ বছর ধরে জগন্নাথপুরে ইঞ্জিন চালিত নৌকা চলাচল করছে। এরপর থেকে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পালের নৌকা বিলীন হয়ে যায়।