|
এই সংবাদটি পড়েছেন 29 জন

ঢাকা থেকে নিখোঁজ সাংবাদিক সুনামগঞ্জে উদ্ধার

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : মোহনা টেলিভিশনের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মুশফিকুর রহমানকে নিখোঁজের তিন দিন পর সুনামগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার ভোরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গৌবিনপুর গ্রাম সংলগ্ন সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, তাকে কেউ অপহরণ করে এখানে ফেলে দিয়ে গেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

মুশফিকুর রহমানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার চরবোয়ালী ফকির বাড়ি। তিনি ঢাকার মিরপুর ১২ নং এলাকার ৪ নং রোডের একটি বাসায় বসবাস করতেন। গত শনিবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার ভোরে গৌবিনপুর গ্রামের সড়কে তিনি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করে দৌড়াচ্ছিলেন। এ সময় গ্রামের মসজিদের ইমাম তাকে আশ্রয় দিয়ে এলাকাবাসী ও সদর থানার পুলিশকে খবর দেন। পরে সদর থানার এসআই জিন্নাতুল ইসলাম ও মোহনা টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাস তাকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জর সদর হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা দেন। তার শারীরিক অবস্থা এখন কিছুটা উন্নতির দিকে বলে জানিয়েছেন জরুরি বিভাগের ডাক্তার।

অপহৃত সাংবাদিক মুশফিকুর রহমান বলেন, গত ৩ আগস্ট গুলশান গোলচত্বর এলাকার হোটেলে তার মামার সঙ্গে নাস্তা খেয়ে তিনি মিরপুরের বাসায় যাওয়ার জন্য একটি বাসে ওঠেন। ওঠে দেখেন বাসটি মিরপুরের নয়। এক পর্যায়ে বাসের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা মুখে পানি জাতীয় পদার্থ স্প্রে করে এরপর তিনি আর কিছু বলতে পারেননি। জ্ঞান ফিরলে তিনি বুঝতে পারেন তাকে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তাকে অনেক মারপিট করেছে এবং একপর্যায়ে গুলি করে হত্যার হুমকিও দিয়েছে। পানি খেতে চাইলে তাকে পানিও খেতে দেয়নি। গত কয়েকদিন তাকে কেক, পেয়ারা খেতে দিয়েছে। তার উদ্ধারের খবর পরিবারের কাছে জানানো হয়েছে।

সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ধারনা করছে তাকে কেউ অপহরণ করে এখানে ফেলে দিয়ে গেছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার গুলশানে মামার সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে মুশফিকের খোঁজ মিলছিল না বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওই রাতেই গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-১৯৪) করেন মুশফিকুরের মামা এজাবুল হক।