|
এই সংবাদটি পড়েছেন 21 জন

সিলেট ইকো-পার্কে ৮ মাসে ময়ূর অজগরসহ ২০ প্রাণীর মৃত্যু, হারিয়ে গেছে ১টি হরিণ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ টিলাগড় ইকোপার্কে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র চালুর পর গত ৮ মাসে ২০ টি প্রাণী মারা গেছে। সর্বশেষ গেল সপ্তাহে মারা যায় একটি ময়ূর। এর আগেও আরো দুটি ময়ূর মারা যায়।

গত ৮ মাসে ৩টি ময়ূর, ৭টি লাভ বার্ড, ২টি বাজিগর পাখি, ১টি অজগর সাপ, ১টি চুকার পেকটিস পাখি, ২টি কালিম পাখি, থাইল্যান্ডের টককাপ মাছ ২টি, ১টি খরগোশ মারা গেছে। আর ৪টি হরিণের মধ্যে একটি হারিয়ে গেছে।

গত জুন মাসে মারা যায় একটি চুকার প্যাকটিল পাখি। চালু হওয়ার পর থেকে একের পর এক প্রাণীর মৃত্যু ঘটছে। শুরুতে ৯ প্রজাতির ৫৮ টি প্রাণী নিয়ে আসা হয় ইকোপার্কে। এরপর আরো কয়েক দফা প্রাণী আনা হয় এখানে।

কি কারণে এসব প্রাণী মারা গেছে তার কোন সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তবে অনেকেরই দাবী অব্যস্থাপনা, পরিকল্পনার অভাব ও দায়সারা দায়িত্ব পালনের কারণেই এসব প্রাণীর মৃত্যু ঘটেছে।

জানা যায়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের ভেতর দিয়েই যাতায়াত করে আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষজন। দিন রাত যাতায়াত করতে হয় তাদের। এখানে হর্ণ বাজানোতেও কোন বিধি নিষেধ নেই। এমনকি বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণনের পাশেই করা হয়েছে গাড়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। যার ফলে দর্শনার্থীরাও গাড়ী নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।

২৪ ঘন্টাই বনের ভেতরে অবাধে যানবাহন চলাচল করে। একটু ভেতরে গেলেই সিলেট জালালাবাদ গ্যাস প্লান্টের ১ নং গেইট। যার কারনে দিনে কয়েকবার উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত করতে হয়।

এখানে রয়েছে কৃষি ইউনিভার্সিটি ও সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর অবাধ যাতায়াত। এছাড়া শাহী ঈদগাহর কার ড্রাইভিং সেন্টারগুলোর ড্রাইভিং শেখানোর অন্যতম রুট এটি। এতে চরম শব্দ ও বায়ূ দূষণের শিকার হচ্ছে একানকার প্রাণীগুলো। জানা যায়, বর্তমানে এই সংরক্ষণ কেন্দ্রে ৫১ টি প্রাণী আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের সবগুলো খাচাঁ জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা। অপরিকল্পিত ভাবে খাচাঁ তৈরী করার কারণে শুরুতে যে দুটি হরিণ আনা হয়েছে সেগুলো খাচাঁর ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়। যদিও পরবর্তীতে একটি হরিণ পাওয়া যায়। এছাড়া বাঘ ও ভাল্লুক রাখার খাচাঁ দুটি ঐসর প্রাণী রাখার উপযোগী নয়।

এ ব্যাপারে বন্য প্রাণী সংরক্ষণে হাসপাতালের ভেটেরিনারি পরামর্শক মঞ্জুর কাদির চৌধুরী বলেন, এটা ইকোপার্ক নাকি বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র এখনো সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়নি। এটা যদি পার্ক হয় তবে দর্শনার্থী আসার সুযোগ রয়েছে।

কিন্তু এটি যদি শুধুমাত্র বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র হয় তবে এখানে এতা দর্শনাথী আসার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এই প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান সমস্যা হচ্ছে অবাধে গাড়ী চলাচল। সারাক্ষণ এখানে গাড়ী চলাচল করে।

শব্দ দূষণের কারণে প্রাণীদের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। প্রাণীরা ঘুমাতে পারে না। দ্রুত এই কেন্দ্রের ভেতর দিয়ে গাড়ী চলাচল বন্ধ করতে হবে। না হয় এখান থেকে প্রাণীগুলো সরিয়ে বিকল্প জায়গায় নিতে হবে। কারণ বন্য প্রাণী সংরক্ষণটি অপরিকল্পিত।
বর্তমানে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য তানহা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়া হয়েছে।

তানহা এন্টারপ্রাইজের পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, এই বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি রক্ষা করতে হলে রাস্তা বন্ধ করতে হবে। না হয় বিকল্প জায়গায় সরাতে হবে। তিনি বলেন, পার্কটি সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে, তাই প্রাণীদের ক্ষতি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস.এম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দিনে গাড়ী চলাচল বন্ধ করা সম্ভব না হলেও আমরা রাতের বেলা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।

নানা প্রতিকুলতা ডিঙিয়ে আলোর মুখ দেখে সিলেট ইকোপার্ক। ২০০৬ সালে নগরীর টিলাগড়ে শুরু হয় এটির নির্মাণ কাজ। পাহাড় টিলাবেষ্টিত ও ঘন সবুজে আচ্ছাদিত ১১২ একর আয়তনের এই ইকোপার্কের দ্বার খুলে দেওয়া হয় গত বছরের ২ নভেম্বর। কিন্তু ইকোপার্কটি ৮ মাসের মাথায় নানা সমস্যার মুখে পড়ে।