|
এই সংবাদটি পড়েছেন 37 জন

সিলেটে সাবেক ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে রাতের আঁধারে চলছে টিলা কাটার মহোৎসব

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিলেটের তারাপুর বাগানে রাতের আধারে বিরামহীনভাবে চলছে টিলাকাটা। অভিযান চালিয়েও বন্ধ করা যায়নি পাহাড় কাটার এই মহোৎসব। পরিস্থিতি নতুন নয়, কিছুদিও পর পরই সুযোগ বোঝে রাতের আঁধারে চলে এই নিধনযজ্ঞ। টিলা কেটে তারাপুর চা-বাগানের দেবোত্তর সম্পত্তি দখলের এই হিড়িক চলছে বেশ কয়েকদিন যাবত। দখল কাজটি চলছে মোটামোটি সমন্বয় করেই। দখলদার চক্রের রয়েছে একাধিক গ্রুপ। কেউ টিলা দখল করে মাটি বিক্রী করছেন,কেউ টিলা কেটে দোকান কিংবা বসতভিটা আবার কেউ আর্থিকভাবে সন্তুষ্ট থাকছেন।

জেলা প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র এই হিন্দু সম্পত্তি দখল করে পাকা বাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা তৈরি করছে। পাশাপাশি আরেকটি চক্র পুরো পাহাড় দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থান থেকে কম আয়ের মানুষকে পাহাড়ে ঘর তৈরি করার ব্যবস্থা করে দিয়ে বিনিময়ে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। দেবোত্তর সম্পত্তির সেবায়েত বারবার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরলেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। যদিও জেলা প্রশাসন বলছে, দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের যে রায় রয়েছে তাতে স্পষ্ট করে বলা আছে, আগে যারা অবৈধ দখলদার তাদের উচ্ছেদ করতে হবে। সুতরাং নতুন করে কেউ দখলের সুযোগ পাবে না, যদি কেউ দখলের চেষ্টা করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বুধবার রাতের আধাঁরে গিয়ে টিলাকাটার সেই দৃশ্য দেখা গেল। সেখানে পিকআপ দিয়ে মাটি কাটাচ্ছেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আফসর খান। সাথে রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক খান রাজা মিয়া। আফসর খান বাবু খানের ছেলে এবং রাজা মিয়া ৮ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মৃত হাফিজ খানের ছেলে। আফসর খানকে মাটি কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞেস করলে প্রতিবেদককে তিনি জানান, মসজিদের জন্য রাস্তায় মাটি ফেলা হচ্ছে। কিন্তু নিকটবর্তী এই মসজিদের রাস্তায় মাটি ফেলতে পিকআপের প্রয়োজন না থাকলেও বেশ দাপটের সাথেই তিনি তা কওে যাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, কুমারগাঁও মৌজার ডুসকি এলাকার ৬৮ একরের দুটি পাহাড় যার মালিক শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ জিউর পক্ষে সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত। দুটি পাহাড়েই অবৈধভাবে নতুন নতুন বাড়ি তৈরি হচ্ছে। বৃষ্টিপ্রবণ সিলেটে এমনিতেই পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস না করার ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু শুধু দখলের উদ্দেশ্যে প্রায় ২০টি পরিবার ওই পাহাড়ে বাড়ি বানাচ্ছে।

এই অবৈধ স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। গত ১৪ জুলাই পাহাড়ের ২০টি পরিবারকে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তারাপুর চা-বাগান কর্তৃপক্ষকেই চিঠি দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মহুয়া মমতাজ। যদিও এর আগে অবৈধ দখলদারদের ২৪ এপ্রিল মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উচ্ছেদের আবেদন জানান সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চিঠিতে দখলদারদের হোতা মঈন উদ্দিন রয়েছেন ৩ নম্বরে। এই দখলে রয়েছেন উছমান, রইছ মোল্লা, নিজামসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন।

তারাপুর চা-বাগানের সেবায়েত পঙ্কজ কুমার গুপ্ত বলেন, সুপ্রিমকোর্টের রায়ের পর এসব দেবোত্তর সম্পত্তি তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু নতুন করে একটি চক্র সম্পত্তি দখল শুরু করেছে। বাগানের পক্ষ থেকে বাধা দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। অবস্থা বেগতিক দেখে জেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছি। তালিকাও দিয়েছি কারা এই অবৈধ দখলদার। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের উচ্ছেদে কোনো ব্যবস্থা দেখছি না। তাই যেখানেই খালি জায়গা পাচ্ছে সেখানেই স্থাপনা তৈরি করছে দখলদাররা। জালালাবাদ ও বিমানবন্দর থানায় অভিযোগ করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। কোনো সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে না। এখনই দখলদারিত্ব বন্ধ করা না হলে পাকা বাড়ি উঠে যাওয়ার পর তা উচ্ছেদ করতে বেগ পেতে হবে।

এ দিকে সাবেক ছাত্রদল নেতা আফসর খােন বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পর্ন মিথ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমার নামে টিলা কাটার মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। আমি এসবের কিছুই জানি না।