|
এই সংবাদটি পড়েছেন 21 জন

সিলেট শিক্ষা ভবন ঘিরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ সিলেটে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজে কিছু ঠিকাদার ত্রæটি রেখেই বিল তুলে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছেন। অন্যদিকে অভিযোগ আছে, যারা সঠিকভাবে কাজ শেষ করেছেন, তারা টাকা ছাড়া বিল তুলতে পারছেন না। এছাড়া কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজে দেখা দিয়েছে ধীরগতি।

সিলেট শিক্ষা ভবন সূত্রে জানা গেছে, স্কুল-কলেজের নির্মাণ কাজে অনিয়ম এবং ত্রæটির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন এখানকার প্রকৌশলী এবং ঠিকাদাররা। গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণ ডিগ্রী কলেজ। সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নামে একটি ভবন নির্মিত হয়েছে এখানে। বৃষ্টি হলে এই ভবনে ছাদ চুঁইয়ে টিপ টিপ করে পানি পড়ে। ঠিকাদার এবং প্রকৌশলীরা মিলে এই ভবনের কাজে অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ আছে। বৃষ্টি হলে নুরুল ইসলাম নাহিদ ভবনের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে ক্লাসরুম ভিজে যেত। বাংলা টিভিতে রিপোর্ট প্রচারের পর ছাদের পানি পড়া বন্ধে পুনরায় কাজ শুরু করা হয়। তবে কলেজের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, কাজটি পুরো শেষ হওয়ার পর তারা পরীক্ষা করে দেখবেন ছাদ দিয়ে আর পানি পড়ে কিনা।

একই ক্যাম্পাসের টিলার ওপর একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সিঁড়ি না থাকায় নতুন ভবনটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী বাঁশ দিয়ে সিঁড়ি বানানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানালেন কলেজের অধ্যক্ষ অনু রঞ্জন দাস। তিনি বলেন, বার বার বলার পরও ভবনের ত্রæটি সারানো হয়নি। এখানে টিলার ওপর ওঠতে সিঁড়ি দরকার। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী পরামর্শ দিয়েছেন বাঁশ দিয়ে সিঁড়ি বানানোর। কয়েকজন ছাত্রী সিঁড়ি নির্মাণের দাবি তুলে জানান, বৃষ্টি হলে টিলার মাটি পিচ্ছিল হয়ে যায়। তাই ভয়ে টিলার ওপর ছাত্রীরা ওঠে না। এই অবস্থায় টিলার ওপর ওঠতে হলে সিঁড়িটি জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান যাতে দ্রæত সিঁড়িটি সঠিকভাবে নির্মিত হয়।

এদিকে, শাহজালাল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে কয়েকটি কলাম তুলে কাজ ফেলে বিলের জন্য তদবির করছেন ঠিকাদার। অন্যদিকে, ঘুষ না দেওয়ায় ঠিকাদার কাইয়ুম জুন মাসে কোনো বিল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন,‘ এক কোদাল মাটিও না কেটে অনেকেই বিল তোলে নিয়েছে, আর আমি কাজ সঠিকভাবে করে বুঝিয়ে দেওয়ার পরও কোনো বিল পাইনি।

সিলেট নগরীর উপশহরে সীমান্তিক কলেজে দুটি ভবন নির্মাণ করা হবে। কিন্তু কয়েকটি রড ফেলে বিল নিতে তদবির করছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ তাপাদার জানালেন, ঠিকাদার প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। এখনো মাটি কাটেনি। শুধু রড এনে ফেলে রেখেছে।

কেন বাঁশ দিয়ে সিঁড়ি বানানোর পরামর্শ দিলেন-জানতে চাইলে সিলেটের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল হাকিম বলেন, আপাতত বাঁশের কথা বলেছিলাম। আমি শিগগিরই পরিদর্শন করে বাঁশ নয়, পাকা সিঁড়িই বানিয়ে দিব। আর ত্রুটিপূর্ণ ভবনের ত্রæটি সারাতে ঠিকাদারকে নিদের্শ দিব। এবং সেই কাজ সঠিকভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওদেরকে কোনো বিল দিব না।