|
এই সংবাদটি পড়েছেন 39 জন

৪ ভুয়া র‌্যাব সদস্যকে ছেড়ে দিলেন কোতোয়ালি থানার ওসি

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেটে র‌্যাব পরিচয়ে হাসান নামের একজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পথে ট্রাফিক পুলিশের হাতে আটক হয় ৪ কিশোর। আটকদের কোতোয়ালি থানায় এনে হাসানকে রেখে ভুয়া র‌্যাব পরিচয়দানকারী ৪ জনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ৬টায় নগরীর তেমুখি সোনাতলার নিজ বাসা থেকে নিয়ে আসার সময় সুবিদবাজার পয়েন্টে ধাওয়া করে তাদের আটক করে এক ট্রাফিক সার্জেন্ট। কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাদের সেখান থেকে এনে একজনকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয়।

বুধবার বিকালে এসএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া দাবি করেন, ধর্ষণ মামলার আসামি হাসানকে ধরে আনতে আসামির বন্ধুদের পাঠিয়েছিলেন তিনি। তাদের পাঠানো ‘কথিত’ বন্ধুদের নাম-পরিচয়ও দেয়নি পুলিশ। তবে কোতোয়ালির একটি সূত্রের দাবি যে চারজনকে পাঠানো হয়েছিল তারা পুলিশের সোর্স।

কন্ট্রোল রুমের অপারেটর কনস্টেবল হাজ্জাজ জানান, সুবিদবাজারে একটি গাড়ি সহ র‌্যাব পরিচয়ে একজনকে তুলে আনার সময় ৫ জনকে আটক করে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মহানগর পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট শরিফুল হাসান জানান, সুবিদবাজার পয়েন্টে দায়িত্বপালনকালে একটি প্রাইভেট কারে ৫ জন কিশোরকে ধস্তাধস্তি করতে দেখে সন্দেহ হয়। গাড়িটিকে থামার জন্য সংকেত দিলে, ট্রাফিক পুলিশের বেরিকেড ভেঙে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় গাড়িটির পেছন থেকে ধাওয়া করেন তিনি। সামনে যানজট থাকায় সুবিদবাজার মোড়েই আটকে যায়। পরে গাড়িসহ তাদের আটক করলে এক কিশোর জানায়, র‌্যাব পরিচয়ে বাকি ৪ জন তাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।

বাকিদের জিজ্ঞাসা করলে চারজনই নিজেদের র‌্যাব পরিচয় দেয়। কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে না পারায় কোতোয়ালি থানায় খবর দেন তিনি। কোতোয়ালি থানার এসআই ইবাদুল্লাহ এসে বলেন- এরা আমাদের লোক। গাড়িতে কোনো পুলিশ নেই, যারা আছে সবাই কিশোর তাহলে আপনাদের লোক হয় কিভাবে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তোর দিতে পারেননি ইবাদুল্লাহ। এরপর গাড়িসহ ৫ কিশোরকে তাদের কাছে হস্তান্তর করি।

এদিকে এসআই ইবাদুল্লাহ বলেন, একজন ধর্ষণ মামলার আসামি ছাড়া কাউকে আনেননি তিনি। সার্জেন্ট শরিফুলের বরাত দিয়ে জানতে চাইলে তিনি স্বীকার করে বলেন, থানায় গিয়ে ৫ জনের নাম-ঠিকানা দিচ্ছি।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিঞা বলেন, হাসান নামের একজন ধর্ষণ মামলার আসামিকে ধরতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লোক পাঠিয়েছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানা ওসি (তদন্ত) রিতা বেগমের একই জবাব। কিশোরদের দিয়ে আসামি ধরানোর নিয়ম আছে কী-না এমন প্রশ্নে রিতা বলেন, কৌশল হিসেবে আমরা তার বন্ধুদের ব্যবহার করেছি।

এরা র‌্যাব পরিচয় দেয়নি। এরপরই প্রতিবেদককে ফোন করেন ওসি সেলিম মিঞা। তিনি বলেন, বিষয়টি ভুল বুঝাবুঝি।

সুত্র-সিল-নিউজ বিডি