|
এই সংবাদটি পড়েছেন 25 জন

প্রবাসীর ওপর হামলার মামলা তুলে নিতে চাপ

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট নগরীর জল্লারপাড়স্থ পাঁচভাই রেস্টুরেন্টে তিন প্রবাসীর ওপর হামলার ঘটনায় বুধবার মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকীদের গ্রেফতারের আশ্বস দিলেও আজ অবধি নতুন করে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ঘটনার রাতেই পুলিশ পলাশ নামে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছিলো।

এদিকে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের সহযোগী কয়েকজন তাদেরকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়, হুমকি দেয়। যার কারনে প্রবাসীরা প্রাণের ভয়ে ওসমানী হাসপাতাল ছেড়ে নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হামলার পর কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন ওই প্রবাসীদের চাচাতো ভাই মো. জাহাঙ্গীর আলম। যার নং- ৩৪ (৭.৮.১৯) তবে মামলায় আসামীদের কারোর নাম উল্লেখ করেননি বাদি। অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিয়া।

জানা গেছে, ‘কোতোয়ালি থানায় বুধবার মামলাটি দায়ের করা হয়। রেস্টুরেন্টের সিসি ক্যামেরা থেকে কয়েকজন হামলাকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নাম-ঠিকানা ইতোমধ্যে পুলিশের হাতে পৌঁছেছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’ মামলা দায়েরকারী জাহাঙ্গীর আলম শাহপরাণ থানাধীন বালুচরের ফোকাস সি ব্লকের ২৮ নম্বর বাসার রইছ আলীর ছেলে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে চাচাতো ভাই যুক্তরাজ্য প্রবাসী নাহিয়ান (১৮), হাসান (২০) ও রিমনকে (২৪) সাথে নিয়ে জল্লারপাড়ের পাঁচভাই রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে আসেন জাহাঙ্গীর আলম। ওই সময় রেস্টুরেন্টের বাইরে থাকা ছাত্রলীগ ক্যাডাররা প্রবাসী যুবকদের নিয়ে কটুক্তি করেন। এর প্রতিবাদ করলে প্রবাসী যুবকদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাদের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ পলাশ নামের এক যুবককে আটক করে।

মামলার এজাহারে জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেছেন, হামলাকারীরা নাহিয়ান, হাসান ও রিমনের গলা ও হাতে পরা অবস্থা প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার স্বর্ণালঙ্কার, ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের দু’টি বিদেশী হাতঘড়ি এবং নগদ ৪৮ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া প্রাইভেটকার ভাংচুর করে ৬ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাহাঙ্গীরের এজাহার থেকে জানা যায়, হামলাকারীদের সাথে রেস্টুরেন্টে প্রবেশের সময় প্রথমে একদফা হাতাহাতি হয়েছিল তার চাচাতো ভাই নাহিয়ানের। পরে তিনি ও রিমন বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেটি সমাধান করে দেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে বাইরে বের হওয়ার সময় ৩০/৪০ জনের একদল সন্ত্রাসী তাদের উপর হামলা করে।