|
এই সংবাদটি পড়েছেন 25 জন

নগরজুড়ে সতর্কতা : তিন স্তরের নিরাপত্তা

ডেইলি বিডি নিউজঃ নগরীর মার্কেট ও পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়াও থাকছে র‌্যাব এর দু’টি বোম সুইপিং টিমসহ ২২টি বিশেষ টহল টিম। বিশেষ এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের পরেও অব্যাহত থাকবে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস) জেদান আল মুসা এবং র‌্যাব-৯ এর এএসপি সত্যজিৎ কুমার ঘোষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পবিত্র ঈদুল আযহায় কোরবানীর পশু যাতে সিলেটে নির্বিঘেœ আসতে পারে-সে বিষয়টি সামনে রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সাথে ঈদুল আযহার জামাত যাতে মুসল্লীরা নির্বিঘেœ আদায় করতে পারেন-সে জন্য বৃহত্তর সিলেটের প্রধান ঈদগাহ ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শাহী ঈদগাহের সবকটি প্রবেশ পথে থাকবে বিশেষ নজরদারী। এছাড়া, অন্যান্য ঈদ জামাতের স্থানগুলোতে মুসল্লীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে নগরীর মার্কেট সমূহে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা এবং কোরবানীর পশুর হাটের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। ঈদের জামাতের মাঠে আসা মুসল্লীদের পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদেরও দেয়া হবে বিশেষ নিরাপত্তা। এমন টার্গেট নিয়েই আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নেমেছেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটি সার্ভিস) জেদান আল মুসা জানান, ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে আইনশৃংখলা রক্ষায় ব্যাপক কাজ শুরু হয়েছে। ঈদের দিন ও ঈদের পর কোরবানীর চামড়া ক্রয় বিক্রয় যাতে নির্বিঘœ হয়-সে বিষয়টিও এসএমপির নজরে রয়েছে। ঈদের দিনে সকালে নগরীর সবকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসবে চেকপোস্ট, সার্বক্ষণিক টহল পার্টি। সাদা পোষাকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরাও তৎপর থাকবেন। এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরাও মাঠে থাকবেন। যাতে কোনো ধরনের নাশকতা কিংবা অপরাধ সংঘটিত না হয়, সে দিকেই কঠোর নজর রাখছেন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যসহ প্রায় ১ হাজার ৫০০ সদস্যের সমন্বয়ে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ঈদের ছুটিতে সিলেটে সাধারণ পর্যটকদের ঢল নামে। পর্যটকদের জন্যে নেয়া হয়েছে পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাস ও রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দরে থাকবে পুলিশের একাধিক টিম। নগরীর সকল আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি অভিজাত রিসোর্ট সমূহকে ঘিরে থাকবে বিশেষ নজরদারী। পর্যটন নগরী সিলেটে এসে যাতে কেউ ঝামেলার শিকার না হন-এজন্যে মহানগর পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা বিষয়টি বিশেষ মনিটরিং করবেন। এছাড়াও ঈদ উপলক্ষে অনেকেই গ্রামের বাড়ীতে চলে যাওয়ায় বাসা-বাড়ীতে চুরির আশংকা থাকে। এজন্যে নগরীর পাড়া মহল্লাও বিশেষ টহল থাকবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ঈদ উৎসবকে নির্বিঘœ করতে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসএমপি’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কোরবানির পশু সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্দিষ্ট স্থানে এবং ইউনিয়ন এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানে জবাই করা, পশু জবাইয়ের বর্জ্য নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা, ঈদগাহে যাওয়ার সময় নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন বহন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ইত্যাদি। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, ঈদ উপলক্ষে পুলিশের পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-৯ এর বিশেষ ২০টি টহল টিম এবং ২টি বোম সুইপিং টিম কাজ করবে। এর মধ্যে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিপণী বিতানের দিকে নজরদারীর পাশাপাশি বিশেষ টহলও অব্যাহত রাখবে র‌্যাবের ১২টি টিম।

এদিকে সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সিলেট জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও সতর্কতামূলক নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার আমিনুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা জুড়ে পুলিশী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে কোরবানীর পশু নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং পর্যটকরা যাতে কোন প্রকার বিড়ম্বনার শিকার না হন সে ব্যাপারে নজরদারী থাকবে বলেও জানান তিনি।