|
এই সংবাদটি পড়েছেন 66 জন

অবৈধ হয়ে পড়েছে লিডিং, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিসহ ৪৮ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

ডেইলি বিডি নিউজঃ আইনে বর্ণিত শর্ত পূরণ করে স্থায়ী সনদ না নেয়ায় অবৈধ হয়ে পড়েছে লিডিং ইউনিভার্সিটি ও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটিসহ ৪৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এ তালিকায় রয়েছে নর্থ সাউথ, ব্র্যাক, ইন্ডিপেডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ (আইইউবি) শীর্ষস্থানীয় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়।

আইন অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শুরুতে সাত বছরের জন্য সাময়িক অনুমতিপত্র দেয় সরকার। এ সময়ের মধ্যে আইনে বর্ণিত কয়েকটি শর্ত পূরণ করে স্থায়ী সনদের জন্য আবেদন করার কথা। শর্ত পূরণে সক্ষম না হলে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সাময়িক সনদ নবায়নের আবেদন করতে হবে। তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাময়িক অনুমতির মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। সবমিলিয়ে প্রতিষ্ঠার ১২ বছরের মধ্যে সব শর্ত পূরণ করে স্থায়ী সনদ নিতে বাধ্য সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এ মেয়াদের মধ্যে সনদপত্রের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ও শিক্ষা সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে আইনে।

সাময়িক অনুমতিপত্র ও নবায়নের মেয়াদ মিলে ১২ বছর পার করেছে— দেশে এমন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৫১টি। এরমধ্যে স্থায়ী সনদ পেয়েছে মাত্র ৩টি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া বাকি ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ই আইনত অবৈধ হয়ে পড়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী সনদ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো— আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটি। এর মধ্যে সিটি ইউনিভার্সিটিকে স্থায়ী সনদ দেয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের মতে, শর্ত সাপেক্ষে স্থায়ী সনদ দেয়ার সুযোগ নাই।

শর্ত পূরণ করে আবেদন করার সময় পার হলেও এখনো স্থায়ী সনদ পায়নি এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি চিটাগাং, ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলোজি, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সটি চিটাগাং, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দ্য ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকগণ বিশ্ববিদ্যালয়, দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রাইম ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলোজি, দ্য মিলোনিয়াম ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলোজি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলোজি অ্যান্ড সায়েন্সেস, প্রাইমেশিয়া ইউনিভার্সিটি, রয়েল ইউনিভার্সিটি ঢাকা, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠিত অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ইসলামী ইউনিভার্সিটি এবং ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ ও ইস্ট ডেল্ট ইউনিভার্সিটি। স্হায়ী সনদ পাচ্ছে না লিডিং ইউনিভার্সিটি, কারণ তাদের ট্রস্টি বোর্ড নাই। স্হায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারলে আবেদন করতে পারবে না মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি। আর প্রতিষ্ঠার ১২ বছরের ভিতর স্হায়ী ক্যাম্পাসে যেতে না পারলে অবৈধ হবে নর্থ-ইস্ট ইউনিভার্সিটি। এরমধ্যে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী সনদের জন্য আবেদন করেছে, যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।