Sun. Mar 29th, 2020

তিন ভিন্ন ইস্যুতে নিরাপত্তা চাদরে ঢাকা পড়ছে সিলেট

ফারহানা বেগম হেনাঃ আগামী পরশু, শুক্রবার একসঙ্গে দুই ধর্মাবলম্বী মানুষ আলাদাভাবে তাদের দুই ধর্মীয় উৎসব পালন করবেন। মুসলমান সম্প্রদায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায় পালন করবেন বড়দিন।

এদিকে আগামী শনিবার সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। দুই বড় ধর্মীয় উৎসব এবং রাষ্ট্রপতির আগমন, এই তিন ইস্যুতে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে এখন সাজ সাজ রব। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গোটা সিলেটকে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকার পরিকল্পনা নিয়েছে র‌্যাব, পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্র জানায়, মুসলিম ধর্মাবলম্বী ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের দুই বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উৎসবগুলো মানুষ যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে, নির্বিঘেœ শামিল হতে পারে, সেজন্য সিলেটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা ঠিক করতে অতি সম্প্রতি মহানগর পুলিশের বিশেষ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

মহানগর পুলিশ সূত্র আরো জানায়, আগামী শুক্রবার সিলেট নগরীর সর্বত্র থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ। একই সঙ্গে র‌্যাবও পুলিশের সঙ্গে কাজ করবে। এদিকে পোশাকধারী পুলিশের সঙ্গে সঙ্গে সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরাও নগরীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কাজ করবেন। এক্ষেত্রে সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকরা র‌্যালিসহ অন্যান্য যেসব আনুষ্ঠানিকতা করবেন, সেসবে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। এ ছাড়া খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিনের উৎসবে নগরীর নয়াসড়কস্থ প্রেসবিটারিয়ান চার্চসহ তাদের অন্যান্য অনুষ্ঠানস্থলেও রাখা হবে সতর্ক নজরদারি।

এসব ক্ষেত্রে র‌্যাবের ২২০ জন সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। এরধ্যে অনুষ্ঠানস্থলে দায়িত্ব পালন ছাড়াও পেট্রোলিংয়ের দায়িত্বও পালন করবেন র‌্যাব সদস্যরা।

এদিকে মঙ্গলবার সিলেট বিভাগীয় খ্রিষ্টান মিশনের বিশপ বিজয় ডি সুজাকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় আসন্ন বড়দিনে বাড়তি নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে দুই ধর্মের মানুষের দুই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পরদিনই সিলেটে আসছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সিলেট ক্যাডেট কলেজের সাবেক ছাত্রদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান আগামী ২৪ থেকে ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানের শেষ দিন, ২৬ ডিসেম্বর শনিবার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি। তার সিলেট সফরকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা চলছে। তার সফরকে ঘিরে আলাদাভাবে বিশেষ পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি শনিবার সিলেট আসলেও আগের দিন, শুক্রবার থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কঠোরতা অবলম্বন করা হবে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশ এলাকায় পোশাকধারী ছাড়াও সাদা পোশাকে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতির সিলেট আগমনকে ঘিরে মহানগর পুলিশের বাইরে থেকে অতিরিক্ত আরো ৬০০ পুলিশ সদস্যকে আনা হচ্ছে। শুক্রবার থেকে তারা দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানের জন্য র‌্যাবের ১০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ব্যাপারে র‌্যাব-৯ এর সহকারী পরিচালক তানভীর আহমদ বলেন, দুই ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রপতির সফরকে র‌্যাব কঠোরভাবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতির সিলেট আগমনকে ঘিরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে র‌্যাব।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ বলেন, মুসলমান ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দুই উৎসবকে ঘিরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এসমএপি। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। নিরাপত্তার জন্য এসএমপির বাইরে থেকে ৬০০ পুলিশ সদস্য আসছেন।