Mon. Dec 16th, 2019

তাহিরপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক শূন্যতায় দুরবস্থা

সুনামগঞ্জপ্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চবিদ্যালয় তাহিরপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়টিতে শিক্ষক শূন্যতায় বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষককের সংখ্যা বাড়ছে না, বরং কমছে। শূন্যতার মাঝেই আবার যে কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করার অভিযোগ রয়েছে। এতে মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ দিকে পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে নামমাত্র শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০ সালে ৪ একর ৫ শতক জায়গার ওপর এই বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান শুরু হয়।

বিদ্যালয়টি ১৯৫৪ সালে নি¤œ মাধ্যমিক ও ১৯৬০ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পায়। ১৯৮৭ সালে ২৭ আগস্ট ৯ জন শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত শিক্ষক ছিলেন ১৬ জন। জাতীয়করণের পর থেকে অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়ায় ১১ জনে। কিন্তু ১৯৮৭ সালের পর থেকে কোনো সময়েই ১১ জন শিক্ষকের কোটা পূরণ হয়নি। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ দু’টি দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। চার শিক্ষক বর্তমানে ৬০০ ছাত্রছাত্রীর পাঠদান করছেন। সিনিয়র শিক্ষক ইসলাম ধর্ম শিক্ষার নুরুল ইসলাম শিক্ষা অধিদফতরের আদেশে ২০১৬ থেকে অদ্যাবধি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসায় প্রেষণে কর্মরত। তিনি প্রতি মাসের ২-৩ তারিখে তাহিরপুর এসে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কখনো লিখিতভাবে অবহিত করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে কমর্রত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন গণিতে এনায়েত হোসেন, ইংরেজিতে জাহিদুল কামাল, সমাজবিজ্ঞানে এ এইচ এম লিয়াকত ও কৃষিতে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন। বিদ্যালয়ের শূন্যপদগুলো হলোÑ প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, বাংলা, শরীরচর্চা, ভৌত বিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষক। নেই অফিস সহকারী।

এমএলএসএস পদে দু’জনের বিপরীতে আছেন একজন, নৈশপ্রহরীর পদ পাঁচ বছর ধরেই শূন্য রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছক একাধিক শিক্ষক ও সচেতন এলাকাবাসী জানান, শিক্ষক সঙ্কট, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকার লোভে দীর্ঘ দিন ধরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানানোর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দিন দিন রসাতলে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সহকারী শিক্ষক জানান, সিনিয়র শিক্ষক নুরুল ইসলাম (ইসলাম র্ধম) কর্মরত পাঁচ শিক্ষকের মধ্যে সিনিয়র। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কিংবা সহকারী প্রধান শিক্ষক না থাকায় নুরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান।

বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর, শ্যামল, শরীফ উদ্দিন, চয়ন, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে মাত্র চারজন শিক্ষক কর্মরত আছেন বিষয়টি উদ্বেগজনক। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে সব শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্ভব হয় না। এর প্রভাব পড়ছে পরীক্ষার ফলাফলে। আর সঠিক নজরদারি না থাকায় স্কুলের সুনামের পরিবর্তে এখন দুর্নাম হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় খণ্ডকালীন শিক্ষক দ্বারা পাঠদান করানো হচ্ছে। সিলেট আলিয়া মাদরাসায় প্রেষণে কর্মরত শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আমার সিনিয়র। তিনি এখানে থাকলে আমার দায়িত্ব পালনে বাধা আসতে পারে।