Mon. Dec 16th, 2019

গোলাপগঞ্জ থানায় নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যানবাহন

ডেইলি বিডি নিউজঃ গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা জনিত কারণে পড়ে আছে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের কোটি কোটি টাকা মূল্যের যানবাহন। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রাখা হচ্ছে যানবাহনগুলো। এতে অনেক বাহন জং ধরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, আবার অনেক বাহন খোলা আকাশের নিচে থাকায় বৃষ্টির পানিতে পঁচে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। আদালতের নির্দেশ ছাড়া পুলিশ প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নিতে পারছে না। ফলে বাহনগুলো গোলাপগঞ্জ থানার জন্য এক যন্ত্রণার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। অপরদিকে থানার সৌন্দর্য্য হানীর পাশাপাশি মশার বংশ বিস্তারের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবেও পরিণত হয়েছে এগুলো।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, গোলাপগঞ্জ থানায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এলোমেলোভাবে পড়ে আছে। থানায় আটক বাহন গুলোর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশী। বিভিন্ন সময়ে পুলিশ চেকপোষ্ট বসিয়ে কাগজপত্র চেক করতে গিয়ে অনেক যানবাহন আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে মালিক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মালিকানার প্রমান দিতে না পারায় মামলার কবলে পড়তে হয়েছে বাহনগুলোকে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপকর্মে যাহনগুলো ব্যবহার করায় পুলিশ তা আটক করে মামলাভুক্ত করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে মামলাভুক্ত হওয়ায় যানবাহন আটক করা হয়েছে। প্রতিটি যানবাহনের বিপরীতে মামলা থাকায় পুলিশ নিজ হেফাজতে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। গোলাপগঞ্জ মডেল থানার সামনের অংশ, পশ্চিমের অংশ ও মূল ভবনের হাজত খানার সামনে বেশকটি মোটরসাইকেল রয়েছে। এছাড়া আছে কার, মাইক্রো, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজি অটোরিক্সাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। গোলাপগঞ্জ থানায় যতগুলো যানবাহন আটক অবস্থায় আছে তার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হবে। অনেক দামী দামী মোটরসাইকেল খোলা আকাশের নিচে অযতœ আর অবহেলায় পড়ে আছে। বাহনগুলো খোলা আকাশের নিচে থাকায় জং ধরে নষ্ট হচ্ছে।

গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান প্রতিবেদককে জানান, আদালতের নির্দেশনা ছাড়া কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না। মামলা নিষ্পত্তি হলে বাহনগুলোও প্রকৃত মালিকরা নিতে পারবে। থানায় আটক যানবাহনগুলো নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে । বিশেষ করে থানার সামনে পড়ে আছে একটি হাইড্রোলিক ট্রাক। যার মূল্য কোটি টাকার কাছাকাছি। বিগত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ওই হাইড্রোলিক ট্রাক বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ব্রীজের কাছ থেকে সিলেট সেনা নিবাসে বালু পরিবহনকালে হেতিমগঞ্জে দুর্ঘটনা কবলিত হয়। এতে ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিক্সা দুমড়ে মুছড়ে গেলে গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানসহ গাড়ী চালক ও তার ভাই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। ঘাতক ট্রাক গোলাপগঞ্জের তিনজন লোকের প্রাণ কেড়ে নিলে ক্ষুব্ধ জনতা আগুন লাগিয়ে দিলে ট্রাকটির বড় ধরনের ক্ষতি হয়। ট্রাকটি বর্তমানে থানার প্রধান ফটকের সামনে ও সিলেট জকিগঞ্জ সড়কের পাশে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা চলমান থাকায় ট্রাকটি মালিকও নিতে পারছেননা। অনুরূপ ভাবে ছোট বড় যানবাহনগুলো গোলাপগঞ্জ থানার জন্য যন্ত্রনার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। অপরদিকে দিন দিন যানবাহনগুলো নষ্ট হয়ে চলার অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাহনগুলো সরানো সম্ভব হলে একদিকে কোটি কোটি টাকা মূল্যের যানবাহনগুলোকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার আশপাশের চিত্রও পাল্টে যাবে।