Fri. Dec 13th, 2019

কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল যেন মরণ ফাঁদ!

ডেইলি বিডি নিউজঃ দফায় দফায় ভাঙ্গনের ফলে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় গেইট থেকে কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল অংশ মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে ইট ফেলে বড় বড় খানাখন্দক ভরার চেষ্টা হিতে বিপরীত হয়েছে। মাস যেতে না যেতেই কয়েক জায়গায় ইট দেবে গেছে। এতে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। ইটের ধুলোয় ধূসর হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।

এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর(সওজ) সড়কটি সংস্কার নিয়ে কোন সুখবর দিতে পারেনি। সওজ জানিয়েছে, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কার হতে আরো কয়েক মাস সময় লাগবে।

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল অংশে পুরো বর্ষা মৌসুম জুড়ে ছিলো খানাখন্দক। এতে যানচলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। খানাখন্দক অপসারণে মাস খানেক আগে ইট ফেলায় কিছুটা আশার সঞ্চার হলেও শেষ পর্যন্ত তাও কাজে আসেনি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই ইট দিয়ে গর্ত ভরাটট করে যানচলাচলে স্বাভাবিক করার এই চেষ্টা বিফলে যাওয়ার শঙ্কা ছিলো আগেই। অনেকেই এর সমালোচনা করেন তখন। মাস যেতে না যেতেই আবার কিছু অংশে ইট ধেবে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে গর্ত। এসব গর্তে পড়ে ছোট বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। দেবে যাওয়া অংশে যানবাহন চলাচল করলেই উড়ছে ইটের গুড়া আর ধুলাবালি। শুধু পথচারী নয়, আশপাশের দোকানপাট এমনকি বাসা বাড়িতেও সৃষ্টি হচ্ছে ধুলার স্তর। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশংকা করেছেন স্থানীয় লোকজন।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের চলাচলকারী যানবাহন কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল অংশে এসেই ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জ অভিমুখী যানবাহনকে বেশী বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল পার হওয়া পর্যন্ত অন্তত ৫ বার ইট সলিং রাস্তা মাড়াতে হচ্ছে এসব যানবাহন ও পথচারীকে। এর মধ্যে কিছু অংশে ইট দেবে যাওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এ নিয়ে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। দুর্ভোগ এড়াতে অধিকাংশ যানবাহন এক লেনে চলাচল করায় সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এছাড়া, যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দা সিএনজি অটোরিক্সা চালক সাইফুল আলম জানান, কুমারগাঁও অংশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দীর্ঘদিন থেকে সড়ক সংস্কারের দাবী জানিয়ে আসলেও কোন সাড়া পাচ্ছেন না। খানাখন্দক দূর করতে নিম্নমানের ইট ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সড়কের যাত্রী সুনামগঞ্জের জসীম উদ্দিন জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন সিলেটে। নগরীর আম্বরখানা থেকে বিরতিহীন গাড়িতে উঠতে কুমারগাঁও টার্মিনাল পর্যন্ত পৌঁছতে তাকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। একটি বিভাগীয় শহর সংলগ্ন সড়কের এমন অবস্থা হলে গ্রামীণ সড়কের কি পরিস্থিতি হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাহাত জাহান বলেন, কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল অংশ ইউনিভার্সিটিতে যাতায়াতের রাস্তা হওয়ায় তাদেরকেও দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
বাস টার্মিনাল এলাকার ভলগানাইজিং দোকানের কর্মচারী লিয়াকত আলী জানান, ধুলাবালির কারণে সারাক্ষণ মুখোশ পড়ে থাকতে হয়। এরপরও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা তার নিত্যসঙ্গী বলে জানান তিনি।

সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী রিতেশ বড়ুয়া জানান, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের কুমারগাঁও বাস টার্মিনাল অংশে কয়েকটি স্থানে মাটি বসে যাওয়ার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি স্থায়ী সমাধানে রাস্তার ১০-১৫ ফুট মাটি ফেলে পুনরায় সংস্কার কাজ করতে হবে। এ ব্যাপারে মাটি পরীক্ষা শেষে একটি নকশা তৈরী করা হয়েছে। এতে ২-৩ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এ কাজ জরুরী ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।
রাস্তায় নিম্নমানের ইট দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
অতিরিক্ত ধুলাবালি প্রসঙ্গে সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. প্রেমানন্দ মন্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধুলাবালির সাথে থাকলে ফুসফুসের এবং শ্বাসনালীর জটিল রোগ হওয়ার আশংকা রয়েছে। স্বাস্থ্য সু-রক্ষায় ধুলাবালি এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজনে মুখোশ পরিধানের পরামর্শ দেন তিনি।