Fri. Dec 13th, 2019

শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তেই ভরসা রাখেন আসাদ

ডেইলি বিডি নিউজঃ আসাদ উদ্দিন আহমদ। কলেজ জীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া এই নেতা পালন করেছেন উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদের দায়িত্ব। ছিলেন সিলেটের ঐতিহ্যবাহী মদন মোহন কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি, জিএস এবং অন্য পদেও।

সরাসরি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা সৎ ও পরিচ্ছন্ন এই রাজনীতিবীদ এখন দায়িত্ব পালন করছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে। আগামী ৫ ডিসেম্বর সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে সামনে রেখে জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে তার নাম।

এসব বিষয় নিয়ে কথা হয় আসাদ উদ্দিন আহমদের সাথে। সম্মেলনের মাধ্যমে আবারো নেতৃত্বে আসার ব্যপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা ও মহানগর ইউনিটসমূহের নেতৃত্ব ঠিক করে দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। এখানে বিশেষ কোন পদে তিনি প্রার্থী হওয়াটা বেমানান। তবে যদি সম্মেলন শেষে কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন হয় তখন আসে প্রার্থীতার বিষয় আসবে।

বিগত দিনে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে আসাদ উদ্দিন বলেন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের তৃতীয় কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন। এর আগেই দুটি কমিটি প্রায় এক দশক দায়িত্ব পালন করলেও ঠিকমত ওয়ার্ড কমিটিগুলো গঠন করতে পারেননি। আমি সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের এই কমিটি দায়িত্ব পালনকালে বিএনপি-জামাতের অনেক সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক সংহাতের মুখোমুখি হয়েছে যা মহানগর আওয়ামী লীগ শক্ত হাতে প্রতিরোধ করেছে। ফলে দেশের বিভিন্নস্থানে বিভিন্ন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালেও সিলেটে বড় ধরণের কোন অঘটন তারা ঘটাতে পারেনি। পুলিশ, প্রশাসনের সাথে সবসময় সহযোগিতায় ছিল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে তার বাসায় এবং সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি মরহুম আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের বাসায় বোমা হামলা চালায় বিএনপি-জামাতের সন্ত্রাসীরা। কিন্তু তবুও তারা সিলেটে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের কোন বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারেনি। সেই সাথে আর কোন নেতাকর্মী যেন এমন হামলার শিকার না হন সেজন্যও আমরা সচেষ্ট ছিলাম।

আসাদ উদ্দিন আরো বলেন, আমরা নেতৃত্বকালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগেকে একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে পেরেছি, যা অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক কার্যকর। ফলে আগামীতে যারা নেতৃত্বে আসবেন তাদের জন্য দলকে পরিচালনা করা অনেক সহজ হবে।

আগামীতে নেতেৃত্বে আসার প্রসঙ্গে আসাদ বলেন, আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর দেয়া দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে পালনে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। আমি মনেকরি আমাদের নেত্রী দেশের সকল জেলা-মহানগর ইউনিটের নেতাদের কার্যক্রমের খোঁজখবর রাখেন। তাই তিনিই ঠিক করে দেবেন আগামীতে কারা নেতৃত্বে আসবেন।

এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিগত দিনে সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনে সুনাম কুরিয়েছেন। এরমধ্যে অন্যতম সিলেট চেম্বারের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। এ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করে সিলেটের সর্বমহলে নতুন করে আলোচনায়েউঠে এসেছেন তিনি।

আসাদ উদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক জীবন শুরু ১৯৭৭ সালে কলেজে ভর্তি হয়ে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন কর্মী হিসেবেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি তাঁর। পরের বছর ১৯৭৮ সালে ছাত্রলীগ মনোনিত প্যানেল থেকে খেলাধুলা সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে একই প্যানেল থেকে ছাত্র মিলনায়তন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। এর পরের বারই ১৯৮০ সালে ছাত্রলীগের একাংশের প্যানেল থেকে মদন মোহন কলেজ ছাত্রসংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচন করেন। এবছর ছাত্রলীগের চুন্নু গ্রুপ থেকে মোস্তাক-জিয়া পরিষদ এবং কাদের গ্রুপ থেকে মিসবাহ-আসাদ পরিষদ নামে দুটি প্যানেল অংশ নেয়। এই নির্বাচনে জিএস পদে বিপুল সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন আসাদ উদ্দিন। আর ১৯৮২ সালের নির্বাচনে তিনি মদন মোহন কলেজ ছাত্রসংসদের সহ সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। এসময় ছাত্রলীগ সমর্থিত প্যানেলটির নাম ছিল আসাদ-নিজাম পরিষদ।

মদন মোহন কলেজ ছাত্রসংসদের নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়াও ১৯৮০ সালের শুরুতে কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। তবে, কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া তাজ উদ্দিন খান সেসময় বাকশালে চলে যাওয়ায় এ কমিটি খুব বেশিদিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেনি। তবে ১৯৮১ সালে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সদস্য মনোনিত হন। এরপর ১৯৮৩ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের আরেকটি কমিটি গঠিত হয়। সে কমিটিতে সভাপতি হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি প্রায় নিশ্চিত থাকলেও সিনিয়রদের নির্দেশে তিনি ত্যাহ স্বীকার করেন। তখন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন। কিন্তু, তখন সংগঠন (জালাল-জাহাঙ্গির কমিটি) তাকে জাতীয় পরিষদ সদস্য করে। সেই সাথে জেলা কমিটির প্রথম সদস্য হিসেবেও স্থান পান তিনি। ১৯৮৬ সালে তিনি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর। একই সাথে তিনি ছাত্রলীগের সুলতান-রহমান কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্যও মনোনিত হন। পরের বছর সফল সম্মেলনের মাধ্যেমে বিদায় নিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে ইতি টানেন তিনি। এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বর্তমানে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু এবং তৎকালীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর এবং সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান।

ছাত্রলীগের এসব পদে দায়িত্ব পালনকালে ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ছাত্র সংগ্রছাত্রলীগের এসব পদে দায়িত্ব পালনকালে ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের একজন নেতা হিসেবে তিনি ১৯ মিথ্যা মামলার আসামী হন এবং পরবর্তীতে সেগুলো থেকে মুক্তি পান।

ছাত্ররাজনীতি শেষ করে প্রায় ৩-৪ বছর পদহীন থেকেই রাজনীতি চালিয়ে যান তিনি। ১৯৯১ সালে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি হলে সেই কমিটিতে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নির্বাচিত হন আসাদ উদ্দিন আহমদ। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহিম এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এডভোকেট আবু নসর। প্রায় একযুগ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আসাদ উদ্দিন।

২০০৩ সালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ গঠন হলে সেই কমিটির ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান এবং ২০১১ সালের নভেম্বরে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এখনো এই পদেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি।