Fri. Dec 13th, 2019

৫ ডিসেম্বর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ব্যাকেট বন্ধি থেকে মুক্তি চায় সিলেটে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ

আব্দুল হালিম সাগর: প্রস্তুত সিলেট আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ, আগামী ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বহুকাঙ্খিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। ঐদিন নতুন নেতৃত্ব পাবে সিলেটে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সিলেটবাসী। সিলেট আলীয়া মাঠে অনুষ্টিত সেই সম্মেলনের জন্য প্রায় ১৫ দিন থেকে মাঠ ও মঞ্চ প্রস্তুত করছেন জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘ একযুগ পর দলীয় কার্যক্রমকে গতিশীল করতেই এই সম্মেলন। জেলা ও মহানগর কমিটিতে নতুন নেতৃত্ব আসবে এটা প্রায় নিশ্চত। এমন আবাসও দিচ্ছে কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র। প্রতিবারের চেয়ে ব্যতিক্রম এই সম্মেলনে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাই করবেন দলের ত্যাগী আর মেধাবীদের কর্মের মূল্যায়ন। যতদূর শুনা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় কোন নেতার কথাই পাত্তা না দিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার বরাত অনুযায়ী কয়েক মাস থেকে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক প্রভাবশালী নেতার নামের তালিকা ও তাদের কৃতকর্মের ফিরিস্তি জমা নিয়েছেন দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। সভানেত্রীর হাতেই এখন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কান্ডারীদের তালিকা। শুধুমাত্র নাম পদবী ঘোষনা বাকি। আগামী ৫ তারিখ দলের সাধারণ সম্পাদক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতাদের বরাত দিয়ে নাম পদবী জানতে পারবেন নেতাকর্মীরা।ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সিলেট জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রায় ১০ জনের নামের গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। মহানগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে শুনা যাচ্ছে প্রায় ৯ জন নেতার নাম। যে যার মতো লবিং তদবির চালিয়ে তীরে তরি ভিড়িয়ে বসে আছেন রিজাল্টের অপেক্ষায়। এবার কেন্দ্রীয় নেতাদের তদবির করণীয় কিছুই নেই। কারণ নেত্রী নিজেই গুরুত্বপূর্ণ সিলেট জেলা ও মহানগর কমিটি নিয়ে হস্তক্ষেপ করছেন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, সাবেক স্পীকার মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, সাবেক অর্থমন্ত্রী মরহুম শাহ এস এম কিবরীয়া, সাবেক মন্ত্রী মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী, সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের মৃত্যুর পর অভিবাবকশূন্য সিলেটকে নিজের মতো করে সাজাতে চান নেত্রী। সম্মেলনে সভাপতি ও সম্পাদক যারা হবেন তাদের থাকতে হবে ক্লীন ইমেজ। এই সম্মেলন থেকেই ইংঙ্গিত পাওয়া যাবে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কমিটিতে সিলেটের অভিবাবকদের নাম। তবে এবার কপাল পুড়তে পারে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য নরুল ইসলাম নাহিদ এবং ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেটের পিপি এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের। কেন্দ্রীয় এই দুই নেতা নানা কারনে বার-বার সমালোচিত হয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। দলীয় নেত্রীর কাছে এদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা রকম অভিযোগে পাহাড়। ফলে এদের ভাগ্য এখন লাল ফিতায় বন্ধি হওয়ার উপক্রম।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে শেষ লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত এগিয়ে আছেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আলহ্জ্বা শফিুকর রহমান চৌধুরী, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি সিলেট ৩ আসন থেকে একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ রাসেল শিশু কিশোর মেলার সভাপতি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মাসুক উদ্দিন আহমদ। তবে তার ছোট ভাই আসাদ উদ্দিন মহানগরের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসলে তিনি হয়তো কেন্দ্রে স্থান করে নিতে পারেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ডি-অঞ্চলের নির্বাচিত সদস্য সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি এডভোকেট এ.এফ.এম রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু। সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক এডভোটেক নিজাম উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক সাদ উদ্দিন আহমদ, যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আহমদ আল কবির, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু জাহিদ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জগলু চৌধুরী। বর্তমান সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুঃফুর রহমান বয়স জনিত কারণে এবার কোন প্রার্থী হচ্ছেনা, তিনি চান দলের ভারমুক্ত হতে।
একই দিন একই মঞ্চে অনুষ্টিত হবে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি দৌড়ে আছেন, বর্তমান সভাপতি সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট রাজ উদ্দিন,মহানগর আওয়ামীলীগের ১ম যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল আনোয়ার আলাওর। বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সাধারন সম্পাদক বিজিত চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সিসিকের কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, এটি এম হাসান জেবুল। এদিকে কেন্দ্রীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দির আহমদ কামরানকে কেন্দ্রীয় কোন দায়িত্ব দিয়ে সভাপতি পদে নতুন মুখ আসতে পারে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভক্ত হতে পারে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদের নাম।
সম্মেলনকে সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের লড়াইটা এখন অনেকটা প্রকাশ্যে। চলছে শেষ মহুর্তের হিসাব-নিকাশ। বিভিন্ন সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি টিম প্রার্থীদেরকে নজরদারীর ভিতরে রেখেছেন।তাদের জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। গোয়েন্দা রির্পোট ও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর নির্ভর করছে কে হচ্ছেন আগামী দিনের সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভীত মজবুত করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা কমিটি করতে গিয়ে বির্তকৃত হয়েছেন বার-বার। বিষয়গুলো সভানেত্রীর টেবিল পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাই যে যাই বলুক নেত্রীই নির্ধারণ করবেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া যায়।