Fri. Dec 13th, 2019

সিলেট জেলা আ’লীগের সভাপতি পদে তিন চৌধুরী আলোচনায়

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদটি গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনকে সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের লড়াইটা এখন অনেকটা প্রকাশ্যে। চলছে শেষ মহুর্তের হিসাব-নিকাশ। বিভিন্ন সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি টিম প্রার্থীদেরকে নজরদারীর ভিতরে রেখেছেন।তাদের জীবন বৃত্তান্ত নিয়ে পর্যালোচনা করছেন। গোয়েন্দা রির্পোট ও সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী, দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর নির্ভর করছে কে হচ্ছেন আগামী দিনের সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদক। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাহবুবুল আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন সিলেট বিভাগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভীত মজবুত করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন থেকে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা কমিটি করতে গিয়ে বির্তকৃত হয়েছেন বার-বার। বিষয়গুলো সভানেত্রীর টেবিল পর্যন্ত গড়িয়েছে। তাই যে যাই বলুক নেত্রীই নির্ধারণ করবেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া যায়। অতীতে এ পদে যারা দায়িত্ব পালন করেছেন তারা ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় নেতা। তাদের রাজনৈতিক আদর্শ কিংবা দর্শন সবই ছিল শিক্ষণীয়। বর্তমানে যিনি ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন তিনিও বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা। তাকে নিয়ে রাজনীতিতে প্রশ্ন কম। তিনি হচ্ছেন এডভোকেট লুৎফুর রহমান। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও। বঙ্গবন্ধুর জমানায় দাপিয়ে বেড়ানো রাজনীতিবিদ। ছিলেন গণপরিষদ সদস্যও। তার আগে প্রবীণ নেতা এডভোকেট আবু নসর, প্রয়াত নেতা আ.ন.ম শফিকুল হক ও আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ানের মতো নেতারা এই পদে দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তারা অনেকেই বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট লুৎফুর রহমান বয়োবৃদ্ধ নেতা। এরপরও হিসেবে খাতার শীর্ষে রয়েছে তার নাম। কিন্তু নিজ থেকে সভাপতি পদের জন্য তিনি লবিং-গ্রুপিংয়ে ততোটা সক্রিয় নয়। এ কারণে এবার সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য লড়াইয়ে নেমেছেন তিন আওয়ামী লীগ নেতা। আসন্ন সম্মেলনকে সামনে রেখে তারা সভাপতির পদের জন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন। লড়াই এখন অনেকটা প্রকাশ্যে। চলছে হিসাব-নিকাশও। এই তিন নেতা হলেন- বর্তমান কমিটির সাধারন সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস ও আরেক চৌধুরী হলেন সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি এডভোকেট এ.এফ.এম রুহুল আনাম চৌধুরী মিন্টু। সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের ৫ তারিখের সম্মেলনে জেলা কমিটির সভাপতি হিসাবে তৃনমুলের কর্মীগন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে দেখতে চায়। এদিকে দলীয় প্রধানের সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযানের পর অবশেষে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনে ফের আশা জেগেছে। এ নিয়ে সিলেট জেলা আ’লীগের সম্মেলন কে কেন্দ্র করে সর্বত্র হচ্ছে আলোচনা। যারা দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আন্তরিক তাদের কে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তৃণমূলদের । বিশেষ করে দলের কাউন্সিল নিয়ে আশাবাদি হয়ে উঠছেন তারা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দদের কাছে এড: মিন্টুসহ তিন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছেন। দিন যত এগুচ্ছে ততই রং রূপ পাল্টে যাচ্ছে সিলেটের রাজনীতির। সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে ৫ ডিসেম্বর। ৮ বছরের অপেক্ষার পর এদিনই নতুন একটি কমিটি পেতে যাচ্ছে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ।