Wed. Jan 22nd, 2020

কুলাউড়ায় ফানাই নদীর খনন কাজ ও ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধিঃ কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ও রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ফানাই নদীর খনন কাজ ও ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে এলাকাবাসী ইউএনও’র কাছে পৃথক দুটি আবেদন করেছেন। একটি হচ্ছে নদী খননের নামে মনগড়া সীমানা নির্দারণ করে উচ্ছেদ নোটিশ এবং অন্যটি হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে ব্রিজ জন্য।
উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের লিখিত অভিযোগে জানান, ফানাই নদীটি মুলত হাড়ারগজ পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে প্রথমে কর্মধা ইউনিয়ন এবং পরবর্তীতে রাউৎগাঁও ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রাহ্মণবাজার ও ভুকশিমইল ইউনিয়ন হয়ে হাকালুকি হাওরে মিলিত হয়েছে। নাম ফানাই নদী হলেও মুলত এটি একটি পাহাড়ী ছড়া। চলতি বছর হাকালুকি হাওর থেকে শুরু নদীটি খনন ও প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খনন কাজ ও প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ হবে কর্মধা ইউনিয়ন পর্যন্ত। ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের কাকিচার থেকে কর্মধা ইউনিয়নের নলডরি পর্যন্ত। উভয় তীরের প্রতিরক্ষা বাঁধসহ নদীর প্রস্থ ধরা হয়েছে ১১০ ফুট। অথচ বিগত সেটেলেমেন্ট (ভুমি) জরিপকালে নদীর প্রস্থ রাখা হয় ৫০ ফুট। হঠাৎ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনধরণের নোটিশ কিংবা স্ক্যাচ ম্যাপ দিয়ে জরিপ না করে তাদের মনমত লাল রঙয়ের খুটি বসিয়ে চলে যায়। উক্ত খুটির ভেতরে বসতি ও দখলীয় জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। এতে অনেক মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। অনেক গরীব ও দরিদ্র মানুষ তাদের বসতভিটা হারাবে তাদের বসতভিটা হারাবে। শুধু ঘরবাড়ি নয় গাছপালাও ব্যাপকহারে ক্ষতিগ্রস্থ হবে । এলাকাবাসীর দাবি সরেজমিন তদন্তক্রমে নদীর জমি অধিগ্রহণ করার। যাতে অসহায় মানুষ ক্ষতির শিকার না হয় ।

এদিকে কর্মধা ইউনিয়নের নলডরি ও নুনা গ্রামের সংযোগ রাজঘাটের ফানাই নদীর ব্রীজের কাজে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । গত মাস নভেম্বর ১ তারিখ থেকে রাজঘাটের ব্রীজের কাজ শুরু হয় আর নভেম্বর ভিতরে ঐ মাসে ব্রীজের কাজ সম্পুর্ন হয়। সরেজমিনে গেলে ব্রীজটি দেখতে অনেকে অবাক হয়েছেন এই ব্রীজের কাজ কি অল্প সময়ে সম্পুর্ন হলো । কিন্তু যে স্থানে ব্রিজটি নির্মিত হয়েছে সেখানে নদীর বর্তমান প্রস্থ ৫০ ফুট। সেখানে ৩৮ফুট প্রস্থ ব্রিজ নির্মিত হয়েছে । বর্ষাকালে পাহাড়ী ঢল হয় ব্রিজের ক্ষতি হবে নতুবা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রতিরক্ষাবাঁধ ভেঙে আশপাশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হবে। । ঠিকাদার দুইজন জামাল উদ্দিন ও তুহিন এই দুজন ঠিকাদার ৩৩ লাখ টাকার ব্রীজের কাজ পেয়ে বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে ব্রীজের কাজ সম্পুর্ন করেছেন। কর্মধার স্থানীয় লোকদের কথা অনুযায়ী জানাযায় ব্রীজের পিলার এতো গভীর করে বসানো হয়নি কথা ছিলো মেশিন দিয়ে বোরিং করে ব্রীজের পিলার বসানো কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন তা করেনি।

ঠিকাদারের লোকজন দেশী কোদাল দিয়ে এতো গভীর না করে সামান্য গভীর করে ব্রীজের পিলার বসানো হয় তাও আবার পিলারের নিচে তিন নম্বর ইট দিয়ে সলিং করে পিলার বসানো হয়। । এলাকাবাসীর কাছে রাজঘাটের ফানাইর ব্রীজের ব্যাপারে কথা বল্লে তারা জানান কর্মধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (এম এ রহমান আতিক) চেয়ারম্যান যেভাবে বলেছেন ঠিকাদারকে চেয়ারম্যানের কথা অনুযায়ী ঠিকাদার ব্রীজের কাজ করিয়েছে। কর্মধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিকের কাছে এ বিষয়ে জান্তে চাইলে তিনি বলেন এই ব্রীজ সঠিক জায়গায় হয়েছে এবং ভালো হয়েছে। ব্রীজের উজানের এলাকাবাসী আতংকে আছেন এতো ছোট ব্রীজ কালভার্টের মতো ফানাই নদীর মতো জায়গায় এই ব্রীজের নিচ দিয়ে বর্ষাকালীন পাহাড়ী ঢালের এতো পানি প্রবাহিত হবেনা ব্রীজের উজানের এলাকায় হয়তো ঘর বাড়ি পানির নিচে থাকবে। এলাকা বাসী ও সচেতন মহল মনে করেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কে এ ব্যাপারে উদ্যোগী হয়ে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে কার্যকর ভুমিকা পালন করার প্রত্যাশা করছেন।

এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এটিএম ফরহাদ চৌধুরী জানান, কর্মধা ইউনিয়নবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী ১২ ডিসেম্বরের পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড সরেজমিন নদী জরিপ করে সীমানা নির্ধারণ করে দেবে এবং তাদের নদী খনন কাজ করবে।