Sat. Dec 5th, 2020

ধুলো-বালিতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় জনতা এক বছরেও শেষ হয়নি জনগুরুত্বপূর্ণ নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কের সংস্কার কাজ

আলী হাছান লিটন নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়ক। দীর্ঘ এক বছর ধরে চলছে সংস্কার কাজ এলজিইডির কার্যালয় থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন কর্ণপাত করছেন না। তারা তাদের মতো করে ধীর গতিতে চালিয়ে যাচ্ছেন সংস্কার কাজ। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। তবে সংস্কার কাজ কবে শেষ হওয়ার কথা ছিল এমন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি নবীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কর্তুপক্ষের কাছে। বিগত এক বছরেও সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন কলেজ ও স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। ধুলো-বালিতে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু কিশোরেরা। প্রচন্ড ধুলো-বালিতে বয়স্ক লোকজন শ্বাসকষ্ট সহ নানা রকম রোগে ভোগছেন। জনবহুলপূর্ণ এ সড়কের সংস্কার কাজ কবে শেষ হবে এ নিয়ে হতাশায় ভোগছেন দিনারপুর পরগণা সহ বাউসা ইউনিয়নের বাসিন্দারা। ব্যস্ততম এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দিনারপুর পরগণার দেবপাড়া, গজনাইপুর, পানিউমদা এবং বাউসা ইউনিয়নের মধ্যভাগে সড়ক হওয়ায় সবকটি গ্রামের, স্কুল পড়ুয়া ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ নবীগঞ্জ শহরে যাতায়েত করেন কয়েক হাজার মানুষ। উক্ত সড়কে দুইটি সিএনজি স্ট্যান্ড রয়েছে। আইনগাঁও সিএনজি স্ট্যান্ড ও শিবপাশা সিএনজি স্ট্যান্ড। দুটি সিএনজি স্ট্যান্ডের মাধ্যমে প্রায় ৫ শতাদিক সিএনজি সহ, অটোরিকসা ও টম টম গাড়ি সহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সিএনজি চালকরা জানান, সপ্তাহ খানেক পর পর গাড়িতে কাজ করাতে হয়। ইটের কুষা ফেলে রাখায় সিএনজিতে ঘন ঘন কাজ করাতে হচ্ছে। ঢাকা-সিলেটে মহা সড়কের বাইপাস সড়ক হওয়ায় অনকে সময় বড় বড় যানবাহনও সড়কে চলাচল করতে দেখা যায়। সুত্রে জানা যায়,২০১৮ সালের শেষের দিকে নবীগঞ্জ-রুদ্রগাম সড়কের প্রায় সাড়ে ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজের জন্য ৮ কুটি ৫১ লক্ষ টাকা টেন্ডার হয়। কাজের টেন্ডার পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান বিল্ডার্স। কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত ২০১৮ সালের ৩০ নবেম্ভর থেকে সংস্কার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ শুরু থেকেই ধীর গতিতে সড়কে সংস্কার কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ৩০ জুলাই কাজ সম্পন্ন হওয়ার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। কিছুদিন পূর্বে আইনগাঁও হতে ধুলচাতল নামক স্থান পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। অধিকাংশ কাজ এখনও বাকি রয়েছে। কাজ শেষ করার জন্য এলজিইডির কার্যালয় থেকে উক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারাবার চিঠি দিলেও কোন জবাব পায়নি এলজিইডি অফিস। দীর্ঘদিন পরও কাজ শেষ না হওয়ায় যাতায়েতকারীদের নানা রকম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন বিড়ম্ভনায়। ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, অনেক দিনে ধরে রাস্তার কাজ চলছে, দুদিন কাজ হয় বাকি ১৫-২০দিন কাজ বন্ধ থাকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যখন মন চায় তখনই কাজ করে বাকিটা সময় বন্ধ করে রাখে। অপর শিক্ষার্থী জানান, বছর খানেক ধরে রাস্তার কাজ চলছে, কিন্তু শেষ হচ্ছে না, এর ফলে যাতায়েত করতে আমাদের কষ্ট হয়। ধুলো-বালিতে অনেক কষ্ট করে যাতায়েত করতে হয়। এ সড়কে চলাচলকারী দিনাপুর কলেজে অধ্যক্ষ তনুজ রায় বলেন, প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার পথে আইনগাঁও হয়ে যেতে হয়। রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ হচ্ছে। কিন্তু কবে যে কাজ সমাপ্ত হবে কাজের গতি দেখা বুঝা যাচ্ছে না। প্রচন্ড ধুলো-বালির কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ বলেন, নবীগঞ্জ-রুদ্রগ্রাম সড়কটি একটি জনগুরত্বপূর্ণ সড়ক সেজন্য আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিচ্ছি যাতে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন হয়। আশা করি দ্রুত কাজ শেষ সম্পন্ন হবে।