Thu. Aug 6th, 2020

মৌলভীবাজারে শীতজনিত রোগে আক্রন্ত শিশু ও বৃদ্ধ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজার জেলায় শীত ও কুয়াশা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। মৌলভীবাজারসহ ৭ উপজেলায় শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুড়ে দেখা যায় মানুষ জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। এছাড়াও শীতের কারণে এসব এলাকার মানুষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শীতের তীব্রতা বেশি। সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলায় শীতজনতি কারণে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

গতকাল বৃধ ও বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) আকাশ ছিলো ঘন কুশায়ায় আচ্ছন্ন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কমলেও শীতের তীব্রতা কমেনি। ঠাণ্ডা বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ছে।

চিকিৎসকরা জানান, কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে এ জেলার মানুষ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এরমধ্যে সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি। এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

অন্যদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে শহরের অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে শীতার্ত মানুষের ভিড়।
শ্রীমঙ্গলের সাধারণ ব্যবসায়ীরা জানান, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোয়েটার ও জ্যাকেটসহ বিভিন্ন রকমের শীতবস্ত্র বিক্রি বাড়ছে। সব শ্রেণির মানুষই তাদের ক্রেতা।
তারা আরও জানান, মধ্য ও নিম্ন আয়ের লোকজনই এখান থেকে শীতের কাপড় কিনতে আসেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই চা শ্রমিক। শীত যত বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যাও তত বাড়ছে।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বুধবার সকালে ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবারও শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা ছিল ১০.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. নুরুল হক জানান, আমাদের কাছে যাড়া আসছেন তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে দিচ্ছি। এখন
পর্যন্ত কোন শীতজনীত কারণে কোন মৃত্যুর খবর পায়নি । তবে শিশু ও বৃদ্ধ একটু বাড়তি যত্ন দেওয়ার প্রয়োজন, সে দিকে অভিভাবকরা খেয়াল রাখলে ভালো হবে ।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সৌমিত্র সিংহ বলেন, ‘শিশু ও বৃদ্ধসহ এ পর্যন্ত মোট ৩০০ রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও ১৫ জন শিশু ও বৃদ্ধ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

মৌলভীবাজার জেলার দুর্যোগ ও ত্রাণ পুর্নাবাসন কর্মকর্তা আশরাফ আলী বলেন, মৌলভীবাজার জেলা সদরসহ সাতটি উপজেলায় ৪১ হাজার ২০০ কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরও দুই হাজার বরাদ্দ আসছে। সেগুলো ২/৪ দিনের মধ্যে বিতরণ করা হবে। নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আসছে। সেখান থেকে দুই লাখ টাকার শিশু পোষাক কেনা হবে। বাকি টাকা দিয়ে শীতবস্ত্র (কম্বল) কিনে বিতরণ করা হবে।