Sun. Jan 26th, 2020

শেষ হচ্ছে অপেক্ষার পালা : ২২ জানুয়ারি ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন

ডেইলি বিডি নিউজঃ অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। আগামী ২২ জানুয়ারি উদ্বোধন হচ্ছে ই-পাসপোর্টের (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) কার্যক্রম। এ দিন সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন করবেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। প্রথমে ই-পাসপোর্ট পাবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও ভিভিআইপিরা। রাজধানীর আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরা পাসপোর্ট অফিস থেকে এ পাসপোর্ট বিতরণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ কার্যক্রম চালু হবে।

ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়ন করতে হবে না। এমনকি ছবি সংযোজন ও তা সত্যায়ন করার দরকার নেই। ই-পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদকাল, বিতরণের ধরন অনুসারে ভ্যাট ছাড়া সর্বনিম্ন ফি তিন হাজার ৫০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ফি ১২ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে পাসপোর্টের জরুরি ফি ভ্যাটসহ তিন হাজার ৪৫০ ও অতি জরুরি ফি ভ্যাটসহ ছয় হাজার ৯০০ টাকা।

সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার কথা ছিল গত বছর জুলাই মাসে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সেটি চালু করা সম্ভব না হওয়ায় বর্তমানে প্রচলিত মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বইয়ের সংকট দেখা দেয়। ফলে সারা দেশে জরুরি পাসপোর্ট পেতেও বিলম্ব হয়। এ অবস্থায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে বিদেশ থেকে পাসপোর্ট বই সংগ্রহ করে। ই-পাসপোর্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালে। কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে ২২ জানুয়ারি তা শুরু হতে যাচ্ছে।

ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা। এ পাসপোর্ট চালুর জন্য জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে অনেক আগেই। তাদের কারিগরি সহযোগিতায় এ পাসপোর্ট চালু হতে যাচ্ছে।

গত ১ আগস্ট পাসপোর্টের ফি নির্ধারণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য কোনো কাগজপত্র সত্যায়ন করতে হবে না। এমনকি ছবি সংযোজন ও তা সত্যায়ন করার দরকার নেই। এ পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর ও ১০ বছর। পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা হবে দুই ধরনের, ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠা। দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে ও অন্য সব তথ্য সঠিক থাকলে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে ২১ কর্মদিবসের মধ্যে। জরুরিভাবে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে ও অন্য সব তথ্য ঠিক থাকলে সাত কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়া হবে। অতি জরুরি পাসপোর্ট ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনের মধ্যে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনকারীকে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবশ্যিকভাবে আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন বা ছবি পরিবর্তনের প্রয়োজন না হলে আবেদনকারীকে উপস্থিত থাকতে হবে না। যদি সংশোধনের প্রয়োজন হয়, সে ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস বা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হবে।