Tue. Sep 22nd, 2020

সিলেটে লন্ডন প্রবাসীর আমমোক্তার হয়ে জীবনসঙ্খ্যায় সংখ্যালগু সনৎ চক্রবর্তী

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ এলাকার লন্ডন প্রবাসীর মার্কেট ও জমির আমমোক্তার নিযুক্ত হয়ে জীবনসঙ্খ্যায়সহ পরিবারের নিরপত্তাহিনতায় ভুগছেন নগরীর কুয়ারাপার খুলিয়াপাড়ার বাসিন্ধা মৃত সুখময় চক্রবর্তীর ছেলে সংখ্যালগু সনৎ চক্রবর্তী। গোলাপগঞ্জ উপজেলার চিহ্নিত একটি ভুমি খেকো চক্র প্রতিনিয়ত তাকে প্রাণে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে তিনি লিখিত অভিযোগ করেন। ভুমি জবর দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ২০১৭ সালে এই ভুমিখেকো চক্রের সদস্যরা তাকে প্রাণে হত্যার জন্য ঢাকা দক্ষিণ বাজারের কলেজ রোডস্থ পশু হাসপাতালে সামনে প্রকাশ্য স্বশ¯্র্র হামলায় করে গোলাপগঞ্জ উপজেলার কানিসাইল গ্রামের মৃত মইন উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম ধনাই, দত্তরাইল নোয়াপাড়ার মৃত আব্দুর রউফের ছেলে আব্দুল মুহিত মুজিব, আমুড়া এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে জাহান আহমদসহ প্রায় ৮/১০ জনের একদল সন্ত্রাসী। এ সময় স্থানীয় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী সফিক বাহিনীর প্রধান উপজেলার পুরকাস্থ বাজারের পোষ্ট মাষ্টার খলু হত্যা মামলায় যাবতজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী সফিকের নির্দেশে সংখ্যালগু সনৎ চক্রবর্তীকে প্রাণে হত্যা করতেই এই নিস্বংশ্ব হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা তার কাছে থেকে নগদ টাকাসহ প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে গেলে পথচারীরা মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
উক্ত ঘটনায় সনৎ চক্রবর্তী গোলাপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ০৯(১২০২০১৭ ইং। উক্ত মামলাটি তদন্ত করেন থানার এস.আই মীর নাসির উদ্দিন। পরে মামলাটি জেলা ডিবিতে হস্থান্তর করা হয়। এখানে মামলাটি তদন্ত করেন এসআই আব্দুল বাসিত। তিনি মামলাটি তদন্তকালে আসামীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে উক্ত ঘটনায় সম্পৃক্ত আসামীদের ঘটনার দায় থেকে অব্যাহতির অপচেষ্টা করে মনগড়া একটি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। পরে সনৎ আদালতে উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি প্রদান করেন। আদালত নারাজিটি আমলে নিয়ে আগামী ১২/০২/২০২০ ইং শুনানির জন্য তারিখ ধার্য্য করেন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা সনদে দেখা গেছে সংখ্যালগু সনৎ চক্রবর্তীর শরিরের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫ টি জখমের চিহ্নিত রয়েছে। এমসিতেও রয়েছে ৫ টি যখমের কথা। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন সনৎ চক্রবর্তীর শরিরে জখমের চিন্ন রয়েছে মোট দুটি। এভাবে তিনি মামলাটি তদন্তকালে আসল ঘটনাটি আড়াল করেন।
শুধু হামলা করে ক্রান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা তারা সুকৌশলে সনৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন রকমের মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করে। পরে তিনি গত ১০/০৬/২০১৮ ইং তারিখে মিথ্যা মামলার বিষয়ে সিলেটের ডিআইজি বরাবরে লিখিত একটি আবেদন করেন। সে আবেদনে ডিআজি নিজেই মামলার বিষয়টি সুপার ভিষন করেন, ফলে মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পান সনৎ চক্রবর্তী। এছাড়া নিজের উপর হামলা, ভূমি ও মার্কেট দখল-হুমকির বিষয়টি তিনি লিখিত ভাবে ঢাকা দক্ষিণ বাজারের বর্ণিক সমিতিকে অবহিত করেন।
অপর দিকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে করা মামলাটি প্রত্যাহার করতে এখনো বিভিন্ন ভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। যার ফলে আবারও জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় সিলেট কোতয়ালী থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি করেন সনৎ চক্রবর্তী। যাহার নং-৯২/১৮ ইং। হামলার পর থেকে মামলা তুলে নিতে বার-বার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ায় তিনি গত ৮/১/২০২০ ইং তারিখে এসব সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বাহিনীর কবল থেকে নিজের আমমোক্তারকৃত মার্কেট এবং ভুমি উদ্ধারের পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, বৈদেশীক ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রনালয়, বিভাগীয় কমিশনার সিলেট, ডিআইজি সিলেট, জেলা প্রশাসক সিলেট, এসপি সিলেট, ডিজিএফআই সিলেট অফিস ও প্রবাসী কল্যাণ সেল সিলেট অফিস বরাবরে লিখিত আবেদন করেন।