Fri. Oct 30th, 2020

তিনমাসে বিস্ময়কর সাফল্যে দেখালেন এসি নির্মল

মবরুর আহমদ সাজুঃ চুরি ছিনতাইবা হারিয়ে যাওয়া দামি মোবাইল ফোন দ্র“ততম সময়ের মধ্যে উদ্ধারে বিষ্ময়কর সাফল্য দেখিয়ে চলেছে সিলেট নগরীর ৬টি থানার অন্যতম কোতোয়ালি মডেল থানা। আর এটার পেছনে যিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সহিত কাজ করছেন। তিনি হলেন, নবনিযুক্ত সিনিয়র সহকারী কমিশনার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী। যিনি দক্ষিণ সুরমা থেকে বদলি হয়ে তিনমাসের মাথায় বাজিমাত করে চলেছেন। এ ব্যাপারে নির্মল বলেন, জনগণের সেবা প্রদান করতে পুলিশ সবসময় অগ্রণি ভুমিকা পালন করে থাকে। আমারাও করে যাচ্ছি সম্প্রতি ছিনতাই চুরির মোবাইল উদ্ধারে সর্ম্পকে বলেন, এটা আমার একার বিস্ময়কর সাফল্য নয় এটা কোতোয়ালি থানা সকল পুলিশের সাফল্যে। তিনি জানান,মোবাইল ফোন চুরি, ছিনতাই কিংবা হারিয়ে গেলে অভিযোগ পেলেই তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয় সে কারনে সাফল্যে আসে। একপ্রশ্নের জবাবে নির্মল জানান, অভিযোগ ছাড়াও অপরাধীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে ফেরত দিয়েছে পুলিশ। গত অক্টোবর থেকে চলিত বছরের জানুয়ারী পর্যন্ত ৪০ এর অধিক জিডির বিনিময়ে ৩৬ টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে ।
তিনি জানান, আমাদের কে না জানালে তো আমরা জানবো না। মোবাইল চুরি বা হারানো গেলে থানায় জিডি’র পাশাপাশি আমার দপ্তরে সরাসরি অভিযোগের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে। একই সাথে এ নিয়ে কাজ করছে নগরীর কতোয়ালী থানাসহ বিভিন্ন থানা পুলিশ।
নির্মলেন্দু চক্রবর্তী বলেন, ‘মোবাইল ফোন হারানো, ছিনতাই বা চুরি হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেসব ফোন উদ্ধার করা হচ্ছে। পরে সেগুলো প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিতে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’ এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনারের সরাসরি নির্দেশনা থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশ কমিশনারের দপ্তরেই মোবাইল ফোন হারানোর ব্যপারে অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। সেসব অভিযোগ দ্র“ততার সাথে নিষ্পত্তি করে আইসিটি বিভাগ।
একটি আইফোন চুরির ঘটনায় সেটি উদ্ধার এবং প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেয়ার উদাহরণ দিয়ে কাতোয়ালি থানার সিনিয়র সহকারী কমিশনার নির্মলেন্দু চক্রবর্তী জানান, অভিনব কায়দায় জিন্দাবাজার হতে নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি কুলাউরা হতে উদ্ধার করা হয়। বিকাশর হেল্প লাইনের মাধ্যমে বিকাশ প্রতারণার জালিয়াতির ২৬০০০ টাকা জিডি করার ৫ ঘন্টার মধ্যেই উদ্ধার করে দেওয়া হয়। বছরের প্রথম দিন, দি এইডেড হাইস্কুলের সিনিয়র শিক্ষক স্বপন বাবুর আট মাস আগের হারিয়ে যাওয়া ংধসংঁহম মধষধীু ল৭ হীঃ উদ্ধার হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্য ফেসুবুকে এম.এম.ওয়াহিদুল হাসান শাকিল নামের এক লোক হারানো মোবাইলের আত্মকথা নিয়ে বলেন, দীর্ঘ ৭ মাস ২৭ দিন পর যে আবার ফোন ফিরে পাব সত্যিই অবিশ্বাস্যনীয়। ২৫ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে র“ম থেকে চোর ফোনটা চুরি করে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৭ মাস ২৭ দিন পর বিস্ময়রকভাবে ফোনটি ফেরত পাওয়া গেছে। অজ্ঞাত চোরের কাছ থেকে এই ফোন উদ্ধার করে স্বপ্রণোদিত হয়ে পুলিশ আমাকে খূঁজে বের করেছে। সেজন্য নগর পুলিশকে অভিনন্দন।

এসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী বলেন, ‘অভিযানে চোর, ছিনতাইকারী বা অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর তাদের কাছে যেসব চুরি ছিনতাইয়ের মোবাইল ফোন পাওয়া যায়- সেগুলোর প্রকৃত মালিককে আমরা তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে খূঁজে বের করি। এরপর প্রকৃত মালিককে থানায় ডেকে তার ফোনটি ফিরিয়ে দেই।’
নির্মলেন্দু চক্রবর্তী জানান,সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় ছিলেন। সেখানে তার কর্মতৎপরতা প্রশংসিত হয়েছিলেন। এর আগে নির্মলেন্দু চক্রবর্তী সিলেট মহানগর আদালতের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) হিসেবে এক বছর দায়িত্ব পালন করার পর মোগলাবাজার থানায় এসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে বদলি করা হয় দক্ষিণ সুরমা থানায়। দক্ষিণ সুরমা থানায় দেড় বছর সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করার পর তাকে কোতোয়ালী থানায় বদলি করা হয়। তিনি জানান চট্রগ্রামে ১৯৯৩ সালে প্রথম পুলিশের চাকুরীতে যোগদান করেন। ২০০১ সালে তিনি সিলেটে আসেন। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়া এলাকায়। নির্মল বলেন, এক পুলিশের অনেক কাজ বাংলাদেশ পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার, মামলা গ্রহণ, বিচারে সহায়তা, সড়ক শৃঙ্খলা ও ভিআইপি নিরাপত্তা-প্রটোকলসহ অনেক দায়িত্ব পালন করে।’ করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজও ।’ পুলিশের প্রত্যেক সদস্যের ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালনের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করে জনবান্ধব পুলিশে পরিণত হবে- এটাই আমি আশা করি। আগের চেয়ে বর্তমানে আমাদের পুলিশ বাহিনী জনবান্ধব।