Wed. Feb 19th, 2020

জগন্নাথপুরের কুশিয়ারা নদীর বালু মহাল নিয়ে চলছে হরিলুট!

জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা দিয়ে বহমান কুশিয়ারা নদী থেকে বালু উত্তোলনের মহোসৎব চলছে। বিভিন্ন সময় এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বালু উত্তোলন করছে। স্থানায়ী প্রশাসনের যোগসাজসে বালু মহাল হরিলুট করছে।

জানা যায়, উপজেলা পাইলগাঁও, রানীগঞ্জ ইউনিয়নের উপর দিয়ে বহমান কুশিয়ারা নদী বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এক অংশ ভাঙ্গন দেখা দিলেও অন্য অংশে চর দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও সেগুলো অমান্য করে যথেচ্ছা বালু তুলছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল।

সরকারি নির্দিষ্ট সীমারেখার বাইরে গিয়ে বালু তোলায় ক্ষতিগ্রস্ত নদী ও এর আশপাশের জনপদ ও গ্রামবাসী। অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছর নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত একর জমি, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা। এ বালু মহাল থেকে অবৈধভাবে প্রতি বছর কোটি টাকার বালু উত্তোলন হলেও বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির প্রভাবশালী মহল সিন্ডিকেট তৈরি করে স্থানীয় প্রশাসনের যোগসাজসে বালু উত্তোলন করছে। বিনা ইজারায় স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে উত্তোলন করে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার বালু। সরকার থেকে যে নির্দিষ্ট সীমানা রয়েছে, তা অতিক্রম করে নিজেদের খেয়াল খুশিমতো যে কোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে চলেছে ঐ প্রভাবশালী বালু খেকোরা।

বিভিন্ন সময় উপজেলা প্রশাসন থেকে এদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করলেও কোনোভাবেই অবৈধ বালু উত্তোলন থামানো যাচ্ছে না। সুনামগঞ্জ বাসির স্বপ্নের কুশিয়ারা সেতু আধা কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করা যাবে না নির্দেশনা থাকলেও, তা অমান্য করে ব্রিজের আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করছে এরালিয়া (রসুলপুর) গ্রামের মৃত সাধু মিয়ার ছেলে লিকন মিয়া সহ একটি গ্রুপ।

তারা দীর্ঘ দিন ধরে বালু উত্তোলন করে বালু জমা করে বিক্রয় করছে। কুশিয়ারা সেতু ও আশে পাশের কয়েকটি গ্রাম আজ হুমকির মুখে। এ বিষয়ে কথা বলতে স্থানীয়রা নারাজ, বালু উত্তোলনের বিষয়ে কথা বললে হামলা, মামলা দেওয়া হুমকি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে জগন্নাথপুর উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ইয়াসির আরাফাত এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে তা আমাদের জানানেই। এ জায়গা থেকে বালু উত্তোলনের অফিসিয়াল অনুমতি নাই। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।