Wed. Feb 19th, 2020

অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটে রোগীদের পদে পদে ভোগান্তি

ডেইলি বিডি নিউজঃ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চলছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের রমরমা ব্যবসা। হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটের সরকারি ড্রাইভার মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট শক্ত হাতে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, এ সিন্ডিকেটের সদস্যদের কাছে রোগীরা জিম্মি। বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার জেলা আইনশৃঙ্খলা ও স্বাস্থ্যসেবা কমিটিতে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং দিন দিন বাড়ছে ওই সিন্ডিকেটের বেপরোয়া আচরণ।

এ পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে কোনো রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাসহ অন্য জেলায় নিতে গেলে রোগীর স্বজনরা তাদের পছন্দ মতো অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে পারছেন না। এছাড়া সিন্ডিকেটের কাছ থেকে চড়া মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও আধুনিক ও মানসম্মত এ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা খুবই কম। সিন্ডিকেটের চাপে পড়ে রোগীর স্বজনরা লক্কড়-ঝক্কড় হালের অ্যাম্বুলেন্স নিতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ লক্কর-ঝক্কর মার্কা অ্যাম্বুলেন্স নিতে চাইলে ওই রোগীর স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটের সরকারি চালক রফিকুল ইসলাম এই অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন। তার নিজের রয়েছে চারটি অ্যাম্বুলেন্স। তিনি সরকারি গাড়ি না চালিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা পরিচালনা করেন। যার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

এছাড়া নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তাসহ দালাল ও অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণ করতে হলে হাসপাতালে সার্বক্ষণিক পুলিশি তদারকি প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মো. শাহআলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হাসপাতালের নার্সিং ইনস্টিটিউটের সরকারি ড্রাইভার মো. রফিকুল ইসলামের ব্যাপারে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।