Thu. Feb 27th, 2020

ওয়ারেন্ট তামিলে সিলেট পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমি উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট জেলার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সহ পুলিশের সেবার মান বৃদ্ধিতে একের পর এক সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পূন্যভূমি সিলেট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করেছিলেন। দায়িত্বগ্রহনের পরই তিনি সিলেট জেলার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সহ পুলিশের সেবার মান বৃদ্ধিতে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহন করেন।যার ধারাবাহিকতায় পূন্যভূমি সিলেট জেলার আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং পুলিশের সেবার মানও ক্রমশ উন্নতি হচ্ছে।

সম্প্রতি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন ওয়ারেন্ট তামিল কিংবা নিষ্পত্তিতে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।জেলার ১১ টি থানার ৮৭ টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৪ টি পৌরসভায় স্থাপিত সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং কার্যালয়ে গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে পলাতক থাকা ব্যক্তিদের নামের তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এতে সামাজিক মর্যাদাহানী কিংবা আত্ম সম্মানের ভয়ে গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিগন আদালতে আত্মসমর্পন করবে। অনেক সময় বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালত গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করে। পুলিশের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারনে আদালতের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিল করা সম্ভব হয় না।তাতে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি গ্রেফতারী পরোয়ানা তামিলে নিয়োজিত কর্মকর্তারা তাদের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগনের নিকট জবাবদিহি করতে হয়। পুলিশের এরকম উদ্যোগে একদিকে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা যেমন দূর হবে পাশাপাশি ওয়ারেন্ট তামিল করতে গিয়ে অনেক সময় সৃষ্ট বিভিন্ন অনাখাংকিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব বলে সচেতন মহল মনে করে।

ওয়ারেন্ট তামিলের এরকম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহনের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম বলেন পুলিশের নিয়মিত কাজের অন্যতম একটি হল ওয়ারেন্ট তামিল করা। সিলেট জেলায় ৮৬ টি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান এবং মেম্বারগণ নিয়মিত অফিস করেন পাশাপাশি এর প্রত্যেকটিতে সম্প্রসারিত বিট পুলিশিং কার্যালয় রয়েছে ।এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন যাতায়ত করে।ফলে ইউনিয়ন পরিষদের দেয়ালে টানানো তালিকায় ওয়ারেন্ট ভুক্ত পলাতক ব্যক্তিগন তাদের পরিচিত আত্নীয় স্বজন কিংবা জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজের নাম তালিকায় রয়েছে সেটি শুনে তারা নিজে থেকেই আদালতে আত্মসমর্পন করবে বলে তিনি আশাবাদ করেন।এতে আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।