Thu. Oct 29th, 2020

বানিয়াচংয়ে শহীদ মিনারটির পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের নেই কোন নজর

বানিয়াচং (হবিগঞ্জ) : আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি ! শহীদ দিবস ও আন্তর্জাকিত মাতৃভাষা দিবসে প্রভাত ফেরির এই গানটি পরের দিনই আমরা ভুলে যাই। ভুলে যাই ভাষা শহীদদের সম্মানে তৈরী শহীদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণের কথা। শুধুমাত্র পুষ্পার্ঘ অর্পনের পরপরই শহীদ মিনারে তৈরী হয় ময়লার ভাগাড়। পরিণত হয় প্রস্রাবখানায়।

বানিয়াচংয়ের একমাত্র শহীদ মিনারটি সারাবছরই অবহেলায় পড়ে থাকে। শুধুমাত্র ২১ ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস এলেই চোখে পড়ে এটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কাজের। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দুই একদিন আগেও পর ছাড়া বছরের বাকী সময় জুড়েই শহীদ মিনারটি পড়ে থাকে অবহেলায়। যেন দেখভাল করার জন্য কেউই নেই। পবিত্রতা রক্ষার্থে যে কোন শহীদ মিনারে জুতা পায়ে দিয়ে প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না কেউ। আর এ সুযোগেই বানিয়াচং শহীদ মিনারটি পরিণত হয়েছে বেকার মানুষদের আড্ডাখানায়। পাশের জীপ স্ট্যান্ডের ড্রাইভারদেরও অবসরে আড্ডা মেরে সময় কাটাতে দেখা যায়। অনেক মোটরসাইকেল যাত্রীরা তাদের ব্যবহৃত গাড়িটি শহীদ মিনারের ভিতরে রাখেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশও হয় এই শহীদ মিনারের ভিতরে। বানিয়াচং বড়বাজার ব্যবাসয়ী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক শহীদ মিনারটির পবিত্রতা রক্ষায় সাইনবোর্ড সাঁটানো থাকলেও এসব যেন কারো চোখে পড়ছেনা। সকাল থেকে শুরু করে এই শহীদ মিনারের আশেপাশে চলে প্রকৃতির নানা কাজ।

জানা যায়, সন্ধ্যা নামার পরই মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিণত হয় এই শহীদ মিনার। অন্যদিকে বানিয়াচংয়ে হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মিত হলেও বেশির ভাগ শহীদ মিনারই অবহেলায় পড়ে থাকে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনের বেলায় অনেকেই জুতা পড়ে মিনারের বেদিকে হাঁটা-চলাফেরা করছে। পাশাপাশি শহীদ মিনারের ভিতরে এক কবিরাজ মজমা সাজিয়ে নানান রকম ঔষধ বিক্রি করছেন। জনৈক এক ব্যক্তি এই শহীদ মিনারে হাঁস-মোরগের খাদ্য শুকাচ্ছেন। পাশের স্ট্যান্ড থাকায় তাদের জীপ গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল এলোপাতাড়ি করে রাখা হয়েছে। সারা বছর খবর না নিলেও ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি এলেই কিছুটা কদর বাড়ে বাংলাভাষার গৌরবময় স্মৃতিবিজড়িত স্থান শহীদ মিনারের। চলে মাজা-ঘষা ও সাজ-সজ্জার কাজ। এ দিকে ভাষা শহীদদের সম্মানার্থে শহীদ মিনারের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় জরুরী পদক্ষেপ গ্রহনের অনুরোধ জানিয়েছেন সচেতনমহল।

অভিযোগ রয়েছে- শহীদ মিনারের বেদিতে বসে একধরণের উশৃঙ্খল তরুণেরা ধুমপানসহ মাদক সেবন করে। কেউ কেউ বেদির পিছনে দাঁড়িয়ে জরুরী কর্মসম্পাদন ও করেন বলে জানান এক ব্যক্তি।
এখানের উদ্ভট গন্ধে এই মিনারের আশেপাশেও যাওয়া যায়না। শহীদ মিনারের মূল বেদিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে সিগারেটের প্যাকেট ও অসংখ্য উচ্ছিষ্ঠ অংশ, খড়কুটো,ময়লা-আবর্জনায়। আবার এই শহীদ মিনারের ভিতের মেলাও অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে মিনারের পূর্বদিকটা অস্থায়ী প্রস্রাবখানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। শহীদ মিনারের দুইদিকে স্টিলের পাইপ দিয়ে সীমানা দিলেও সেটা কাজ শেষ করার পরপরই ভেঙ্গে পড়ে যায়। এসব পাইপ কে বা কারা নিয়ে গেছে সেটারও কোনো হদিস নেই।

বানিয়াচংয়ের ভাষাসৈনিক এড. শদাকত আলী খান বলেন, শহীদ মিনারটি যেভাবে মর্যাদাহীন হচ্ছে এর চেয়ে বড় দু:খ আর কিছুই হতে পারেনা। শুধুমাত্র দিবস এলেই এর কদর বেড়ে যায়। তাই সবসময় যাতে এই শহীদ মিনারটিকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং শহীদ মিনারের চতুর্পাশে সীমানা নির্ধারণ করা যায় জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুন খন্দকারের সাথে তিনি সমকালকে জানান,কেউ যাতে শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট না করে সেই বাজার কমিটির পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়া হয়েছে। আর উপজেলা প্রশাসন থেকেও আমার দেখভাল করছি। আশা করছি অতি শীঘ্রই শহীদ মিনারের চারপাশে সীমানা প্রাচীর দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হবে। এর পবিত্রতা রক্ষায় সাংবাদিক থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লোকজনদের এগিয়ে আসা দরকার।