Fri. Jul 3rd, 2020

স্বদিচ্ছা ও একটু সহানুভূতি বদলে দিতে পারে একটি মানুষের জীবন ও কর্ম

মকসুদ আহমদ মকসুদঃ লোকটির বয়স ৬৫ বছর প্রায়, দেখতে খুব সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী, কথাবার্তায় ও ভদ্রলোক কিন্তুু পেশা হচ্ছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের কাছে হাতপেতে সাহায্য চাওয়া। ভদ্রলোকের কর্ম এলাকা সিলেট নগররীর সবচেয়ে ব্যস্হতম এলাকা জিন্দাবাজার পয়েন্ট ও আশপাশ এলাকা।ঐ এলাকায় আমার অফিস থাকায় প্রায়ই কোননা কোনভাবে লোকটির সাথে রাস্হায় দেখা হয়,সাহায্য চাইলে সাধ্যমত দেওয়ার চেষ্টা করি,অন্যলোকরা ও সাহা্য্য করেন দেখি।কিন্তুু আমার মনের মধ্যে তাকে দেখলেই একটা প্রশ্ন জাগে যেএধরনের লোক কেন এ পেশা করে। লোকটির এ চরিত্র দীর্ঘদিন যাবৎ আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে ও ব্যাস্ততার পথে তাঁর সঙ্গে আপন হয়ে কথা বলার সুযোগ হয়নি। ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ইংরাজি সোমবার রাতে আমার অফিসের কাজ শেষ করে নীচে আসার সঙ্গে সঙ্গে মুরব্বী ঐ লোকটার সাথে দেখা,তা ও আমার কাছে সাহায্যের জন্য হাঁত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন,সাথে সাথে আমি আর সুযোগটাকে হাতছাড়া না করে মনে মনে ভাবলাম চাচাকে আজ সুযোগমতো পেয়েছি,আজ আর ছাড়া নেই,চাচার আসল খবরটা আজ জেনে নিব,কি তার সমস্যা,আর কি তার সমাধান।এমন ভাবনা নিয়ে আমি লোকটিকে নিয়ে মানুষের ঝামেলা থেকে ইশারা দিয়ে একটু সরিয়ে নিলাম।সঙ্গে আমার অফিস সহকারী শরীফ। এবার লোকটিকে একটু আপন করে নিয়ে তাঁর সাক্ষাতকার নিতে শুরু করলাম,প্রথমে পরিচয় পর্ব,কি তাঁর নাম,বাড়ি কোথায়,কতদিন যাবৎ এ পেশায়,পারিবারিক বর্ণনা,তাঁর সমস্যা কি, এ পেশায় প্রতিদিন তাঁর আয় কত?কি করলে তিনি এ পেশা ছেড়ে দিতে পারেন ইত্যাদি বিষয়ে আন্তরিকভাবে অনেক খোলামেলা আলাপ। প্রথমে কথাবার্তায় কিছুটা সংকোচিত থাকলে ও আমার কথাবার্তায় পরবর্তীতে লোকটি আমাকে আপনকরে নিয়ে অনেক কথায়ই আমাকে বলে গেলেন। তিনি জানান সিলেট মহানগরীর বাহিরে আশপাশ এলাকায়ই তাঁর বাড়ি, এ পেশায় তিনি ৬/৭ বছর ধরে আছেন,৫ সন্তানের জনক তিনি,এর মধ্যে ৪মেয়ে ১ছেলে, ১মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন,বর্তমানে স্ত্রী ছেলে-মেয়ে সহ ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে তাঁর পথচলা,ছেলেটি সবার ছোট,ছেলে-মেয়েরা নিজ বাড়ির পাশে স্হানীয় স্কুল ও মাদ্রসায় পড়ালেখা করছেন।তাঁর সংসারে রোজগারের কেউ নেই,একমাত্র তিনি এভাবে প্রতিদিন যে টাকা সাহায্য পেয়ে রোজগার করেন এটাই তাঁর সংসারের একমাত্র অবলম্বন। এ পেশাতো সম্মানি নয়,এটা ছেড়ে অন্যকিছু করার ইচ্ছে আছে কিনা এমন প্রশ্ন করলে লোকটি খুব সহজ ভাষায় স্বীকার করে বললেন অবশ্যয়ই সম্মানি নয়,আমি কি করব, বাবারে আমি এখন শক্ত কোন কাজ করতে পারিনা,আর অন্য কোন ব্যাবসা বানিজ্য করতে চাইলে আমি গরিব মানুষ, কে আমাকে টাকা দিবে,আমারতো কোন টাকা পয়সা নাই,আমি কি করে আমার বাচ্ছাদের নিয়ে বাঁচব চলব? তাঁর এমন অসহায়ত্বের কথা জানার পর লোকটিকে বললাম আপনি হলফ করে বলুন কতটাকা হলে আপনি এই কাজ থেকে বিরত হয়ে যাবেন? আর এর বিকল্প হিসেবে আপনি কি করে আপনার সংসার নিয়ে চলতে পারবেন? এমন প্রশ্নে লোকটি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে তাঁর পরবর্তী পরিকল্পনা ও অর্থের চাহিদার কথা আমাকে জানালেন। আমি তাঁর স্বদিচ্ছাকে স্বাগত জানিয়ে তিনির হাতে আমার একটি ভিজিটিং কার্ড ধরিয়ে দিয়ে তাকে আশ্বস্ত করে বললাম আপনি আমাকে অল্প একটু সময়দিন,আর এরমধ্য আপনার NiD কার্ড এবং ৩কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি আমার অফিসে দিয়ে যাবেন,এমন কথায় লোকটি বড় একটি হাসি দিয়ে বলল বাবা আসলে কি আপনি আমাকে এত টাকা দিবেন,আমি তাকে বললাম বাবা দেখি আল্লাহ কি করেন,আমার ইচ্ছা আছে তবে স্বামর্থের মালিকতো মহান আল্লাহ।আমি আপনার এ দ্বায়িত্ব আমার কাঁধে নিলাম,দোওয়া রাখবেন তবে শেষকথা আপনি আমাকে কথাদিতে হবে যে কোনদিন আর এ পেশায় থাকতে পারবেননা,লোকটি জবাবে বললেন ইনশাআল্লাহ বাবা আমি আমার কথা রাখব,আর যেকোন একটা ব্যাবসায় জড়িয়ে নিজের জিবীকা অর্জনের চেষ্ঠা করব।
আমার ক্ষুদ্র স্বামর্থ দিয়ে এ লক্ষটি বাস্তবায়ন করা এখন একটু সময়ের ব্যাপার,আল্লাহ যেন আমাকে তৌফিক দানকরেন সকলের কাছে এ দোওয়া চাই,একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষের কাছে আহবান জানিয়ে বলতে চাই আমাদের চারপাশে অল্পসংখ্যক লোক এ ধরনের পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের সঙ্গে মিশে তাদের মনের কথা জেনে এদের পুনর্বাসন বা নুন্যতম চাহিদা বুঝে আমাদের স্ব স্ব অবস্হান থেকে তাদেরকে একটু সহযোগীতা ও সহানুভূতির মাধ্যমে সমাজ এবং ধর্মে নিন্দনীয় এ পেশা থেকে বিরত রাখতে সমাজে বিত্তবানরা এগিয়ে আসি।আপনার আমার পরিকল্পিত একটু সাহায্য ও সহযোগীতা একটু সহানুভূতি বদলে দিতে পারে একটি মানুষের জীবন ও কর্ম,বদলে যেতে পারে একটি পরিবার। এরই ধারাবাহিকতায় সকলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায়ই দারিদ্রতার অভিশাপ থেকে বদলে দিতে পারে আমাদের এ সমাজকে, বদলে দিতে পারে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে।মহান আল্লাহ আমাদের সকলের সহায় হউন।