Sun. Mar 29th, 2020

যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে—— জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:: শিশুদের চাওয়া-পাওয়ার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিন। শিক্ষকের বদলে দপ্তরি দিয়ে ক্লাস নেওয়া চলবে না। আমার মতো আরও ৬৩ জন জেলা প্রশাসক আছেন।

অন্যরা শহর এলাকার জেলা প্রশাসক। কিন্তু আমি হাওরাঞ্চলে আছি। তাই বলে হাওরের কাজ আমাকে করতে হবে না? কৃষক, শ্রমিক ও মৎস্যজীবী সন্তানদের নিজের সন্তান মনে করে শিক্ষা দান করবেন। আপনাদের মতো শিক্ষকদের কাছ থেকে আমিসহ দেশের নামিদামি ব্যক্তিরা প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসীন হয়েছেন।

নিজেদের কখনও বড় বা উচ্চমান ভাববেন না। সবাই সবাইকে মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হবে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করে শিক্ষক হিসেবে মর্যাদা লাভ করতে হবে। একদিন আমাদের কর্ম শেষ হয়ে যাবে। আমাকে আমার কর্মের জবাবদিহি করতে হবে। আপনাদেরকেও আপনার কর্মের জবাবদিহি করতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করতে হবে।

আমরা আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছি। আমরা সবাই জনগণের চাকর, এ কথাটা সবসময় মনে রাখতে হবে। শিক্ষকরা যাতে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান এ জন্য আমি ‘আমার স্কুল’ নামক একটি কর্মসূচি চালু করেছি। প্রতি পাঁচটি বিদ্যালয়ে একজন করে উপজেলা পর্যায়ে কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তারা প্রতিদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষক যান কি না রিপোর্ট করবেন। আপনাদের মতো শিক্ষকরাই আমাকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন, আমি চাই না, আমার হাত দিয়ে আপনাদেরকে কোন শোকজ করা হোক। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে অন্ততঃ একদিন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি বিষয়ে শিক্ষা দান করবেন।

আমি এ বছর মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে এলজিএসপির বরাদ্দ থেকে এসএস পাইপ দিয়ে বাচ্চাদের খেলাধুলা করার জন্য দোলনা, ¯িøপার করে দিব। বাচ্চাদেরকে এতবেশি জ্ঞানগর্বের কথা বলার দরকার নেই। শুধু একটি কথাই শিক্ষা দেবেন যে মিথ্যা কথা বলা যাবে না, কাউকে ঠকানো যাবে না। যেই যে দায়িত্বে আছেন সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে। শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের মতো সুনাম আর কারও হতে পারে না।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জে উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলার এডিসি জেনারেল মো. শরীফুল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম জিলানী আফিন্দী রাজু, জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সাইফুল আলম, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল কবীর, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মিসবাহ উদ্দিনসহ উপজেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল প্রধান শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

এছাড়া তিনি বেলা ১১টায় ফেনারবাঁক ইউনিয়নের পাগনার হাওরের ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৮ নং পিআইসি সরজমিনে পরিদর্শন করেন। স্থগিত ৩৫নং পিআইসি কাজ এগিয়ে নিতে বাঁধের পার্শ্ববর্তী হটামারা গ্রামের কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়াকে সভাপতি ও মাহমুদ আলীকে সদস্যসচিব করে সাত সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করে দ্রæত কাজের নির্দেশনা প্রদান করেন। ফসল রক্ষা বাঁধ পরিদর্শনকালে বাঁধের কমপেকশন ও ¯েøাভ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, নিয়মমাফিক কাজ দ্রæত সম্পন্ন করতে না পারলে বিল বন্ধ রাখার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ফেনারবাঁক ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে সূর্যমুখী ফুল ও ভোট্টা চাষ সংক্রান্ত মাঠ দিবস উপলক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সফর উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজিজল হক, ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমাÐার আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার।

বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ধানের পাশাপাশি সূর্য্যমুখী ফুল ও ভোট্টা ছাড়াও অন্যান্য শাকসবজি চাষাবাদ করে নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা সম্ভব।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল আহাদের সাথে ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা পাল, উপজেলা পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল কবির, ফেনারবাঁক ইউপি চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু তালুকদার, ইউপি সচিব অজিত কুমার রায়, ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. আসাদ মিয়া, ফেনারবাঁক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল হুদা চৌধুরী খোকন প্রমুখ।