Tue. Oct 20th, 2020

ভাষা সৈনিকের নামের পাঠাগারে সিসিকের জঞ্জাল

ডেইলি বিডি নিউজঃ চলছে ভাষার মাস। কিন্তু সিলেট সিটি করপোরেশনের উদাসীনতায় অনেকটা নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে দেশের রাজনীতির পুরোধা ব্যাক্তিত্ব ও ভাষাসৈনিক পীর হবিবুর রহমানের নামে গড়া পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার। এ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে নগর কর্তৃপক্ষ মহাপরিকল্পনার গল্প শোনালেও বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও নেই। যা একজন ভাষাসৈনিকের প্রতি চরম অবহেলা হিসেবেই দেখছেন সিলেটের সচেতন মানুষেরা।

দীর্ঘদিন সিলেট সিটি কর্পোরেশন তাদের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে পীর হাবিবুর রহমান পাঠাগারকে ব্যবহার করলেও নগর ভবন নির্মানের পর সিসিক এখন নিজস্ব ভবনে ফিরলেও গাড়ির যন্ত্রাংশ আর বড় বড় গাড়ি দিয়ে দখল করে রেখেছে পাঠাগারটি।

সরেজমিনে সুরমা নদীর পাড়স্থ ক্বীন ব্রিজের পাশে এ পাঠাগার ঘুরে দেখা গেছে বিশাল প্রাঙ্গণজুড়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের যানবাহন আর নষ্ট গাড়ীর যন্ত্রাংশ। ভবনে ঝুলছে নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর আর মূল ফটকে নগর এক্সপ্রেসের সাইনবোর্ড। দেখে বোঝার উপায় নেই এখানেই বছরদশেক আগেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল দেশের রাজনীতির পুরোধা ব্যাক্তিত্ব ও ভাষাসৈনিকের নামে গড়া পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার। যেখানে এক সময় হতো বই পাঠ সেখানে এখন গাড়ির যন্ত্রাংশের জঞ্জাল।

অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর বছরতিনেক আগে সিসিক নিজস্ব ভবনে ফিরলেও পাঠাগারটি এখন নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। বিষয়টা সিলেটের সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য যেমন ক্ষোভের, তেমনি কষ্টেরও। একসময় পীর হবিবুর রহমান পাঠাগারে ছিল বইয়ের সম্ভার। সিলেটের বইপ্রেমীরা যেখানে বসে সাহিত্য চর্চার ক্ষুধা মিটিয়েছেন সেই পাঠাগারটি গিলে খেয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। যে কারণে নগর কর্তৃপক্ষের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

২০০৪ সালে সিলেট পৌর পাঠাগারকে পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার নামকরণের মাধ্যমে এই ভাষা সৈনিককে সম্মানিত করে নগর কর্তৃপক্ষ। এর আগে কয়েকবার নাম পরিবর্তন হলেও মূল বিষয়ের বিচ্যুতি ঘটেনি। কিন্তু বর্তমান নগর কর্তৃপক্ষের হাতে সিলেটের এই প্রাচীন সাহিত্যপাঠের জায়গাটা নিঃশেষ হওয়ার পথে।

২০১১ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন। বন্ধ হয়ে যায় পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার। এ অবস্থায় ঐতিহ্যবাহী পাঠাগারটি পূর্বের রূপে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি সিলেটবাসীর।

এ ব্যাপারে মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ বলেন- ‘দীর্ঘদিন থেকে সিটি কর্পোরেশন তাদের কাজে এ ভবনটি ব্যবহার করে আসছে। বর্তমানে নগর ভবন নির্মানের পর সিসিক তাদের নিজস্ব ভবনে ফিরলেও পীর হাবিবুর রহমান পাঠাগার স্বরূপে ফিরেনি। বলতে গেলে এখন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। মূলত কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণেই এমনটি হচ্ছে। তাই আমি বলবো নগর কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব পাঠাগারটি পুনরায় চালু করে সিলেটের মানুষের সাহিত্য পাঠের আশ্রয়টি মুক্ত করবেন। একই সাথে সামনে কোন একটি জায়গায় এই পাঠাগারের সাথে সম্পর্কিত সিলেটের অতীত ইতিহাস এখানে লিপিবদ্ধ করে রাখলে বর্তমান প্রজন্ম তা জানতে পারবে।

এদিকে বছর তিনেক আগে নগর কর্তৃপক্ষ পীর হবিবুর রহমান পাঠাগার ভবনে ‘বহুমুখী কার্যক্রম’ শুরুর মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানালেও আদতে তার উল্টোটাই হয়েছে। তবে জায়গাটি আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে আবারও পাওয়া গেলো নগরপিতার আশ্বাস।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে পীর হাবিবুর রহমান পাঠাগারটি চালু হবে। ইতোমধ্যে সকল পরিকল্পনাও আমাদের শেষ। তাই সিলেটের মানুষের আর হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।

তিন বছর আগেও তো একই কথা বলা হয়েছিলো; এমন প্রশ্নে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আগামী এক বছরের মধ্যে সব কিছু হয়ে যাবে। এক বছর পর এমন প্রশ্ন করার সুযোগ হবে না।