Wed. Jul 8th, 2020

সাড়া নেই কেন্দ্রের : সিলেটে শক্তি হারাচ্ছে ছাত্রলীগ

সাজলু লস্কর : সিলেটের অতীত ঐতিহ্য হারাতে বসেছে ছাত্রলীগ। দীর্ঘদিন কমিটিহীন থাকার পর এখন কর্মীশুণ্য অবস্থায় রয়েছে এই সংগঠন। সেই সাথে নতুন করে এই সংগঠনের সাথে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে নতুন প্রজন্ম। কেন্দ্রের এই বিষয়ে মাথাব্যাথা চোখে না পড়ায় সাবেক ছাত্রনেতারাও হতাশ। এনিয়ে সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতারা বারবার দৃষ্টি আকর্ষন করেও সাড়া পাননি কেন্দ্রের।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত থেকে ভারমুক্ত হলেও এ ব্যাপারে দায় নেই তাদের। কেন্দ্রীয় নেতারা দায়িত্ব পেলেও সিলেটের ব্যাপারে কোনো সুখবর নেই কেন্দ্রের হাতে। এমনকি সিলেটে ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের ব্যক্তিগত সেলফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে সব কিছু মিলিয়ে সিলেটে সাংগঠনিক অস্থিত্ব হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠন।

জানা যায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ হত্যার জেরে ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর বিলুপ্ত করা হয় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। এরপর একাধিকবার সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। ফলে পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা আর ক্ষোভ বেড়েছে।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সবশেষ কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালে। কমিটিতে শাহরিয়ার আলম সামাদকে সভাপতি ও এম. রায়হান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটি গঠনের পর জেলা ছাত্রলীগে অস্থিরতা দেখাদে। কমিটির পদপ্রাপ্তদের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন পদবঞ্চিত একটি অংশ। একাধিকবার কমিটি স্থগিতও করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটি সামাদ-রায়হানকে সম্মেলন করার জন্য তারিখ নির্ধারণ করে দিলেও তারা সম্মেলন করতে নানা কারনে ব্যর্থ হন।

এরপর ২০১৭ সালের অক্টোবরে নগরের টিলাগড় কেন্দ্রীক অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হন ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ। এই হত্যায় জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এম. রায়হান চৌধুরী প্রধান আসামি হন। এই ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রায় দেড়শো জীবন বৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হলেও আর কমিটি গঠন করা হয়নি।

এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে থাকা কর্মীরাও কাঙ্খিত পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেকেই মনে করছেন প্রকৃত ছাত্রদের হাতে সিলেট ছাত্রলীগের নেতৃত্ব তুলে দেয়া উচিত। এতে সিলেট ছাত্রলীগ তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

জেলা ছাত্রলীগের অচলাবস্থা বিষয়ে সাবেক ডাকসাইটে ছাত্রনেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জগলু চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নি:সন্দেহে দু:খজনক। তিনি বলেন, সিলেটে এই সংগঠনের একটি গৌরবোজ্জল অতিত রয়েছে। ছাত্রলীগের হাত ধরেই এই সিলেটের অনেক নেতা আজ দেশের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছেন। গতিশীল রাজনীতির কারনেই সেই সংগঠন থেকে একাধিক নেতার জন্ম হয়েছে। কিন্তু গেলো তিন বছরে নেতৃত্বশুণ্য থাকায় এই সংগঠন থেকে নতুন কোনো কর্মীর সৃষ্টি হচ্ছেনা। এর ফলে কলেজ-ক্যাম্পাসগুলোতেও বিরাজ করছে অস্থিরতা এবং চরম হতাশা।

ছাত্রলীগের ত্যাগী এই ছাত্রনেতা বলেন, মুজিববর্ষকে সামনে রেখেই ছাত্রলীগকে সবার আগে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগ এবং তার আওতাধীন সকল ইউনিটে সম্মেলনের মধ্য দিয়ে কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান বলেন, ছাত্রলীগ করেছি বলেই প্রেরণা পেয়েছি আন্দোলনের। অধিকার আদায়ে আস্থার প্রতীক দেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তিনি সিলেটে ছাত্রলীগের দূরাবস্থায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এর মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের অতিত ঝৌলুস হারিয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে ছাত্রলীগের পালে হাওয়া লাগাতে হবে শীঘ্রই। কমিটি হলেই সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে দাবি করে তিনি বলেন, এর ফলে অছাত্র এবং মাস্তান বাহিনীর হাত থেকেও সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষা করা সহজ হবে।

কমিটি গঠন বিষয়ে মন্তব্য জানতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের ব্যক্তিগত সেলফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে পরিচয় প্রদান করে বিষয় উল্লেখ পূর্বক ম্যাসেজ প্রদান করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।